<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss"
	xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#"
	>

<channel>
	<title>অন্যান্য &#8211; আইসিএবিডি লাইব্রেরি</title>
	<atom:link href="https://icabdlibrary.com/category/others/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://icabdlibrary.com</link>
	<description>ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর অনলাইন লাইব্রেরি</description>
	<lastBuildDate>Sat, 04 Jun 2022 13:49:05 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.4.8</generator>

<image>
	<url>https://i2.wp.com/icabdlibrary.com/wp-content/uploads/2020/06/cropped-logo-test22255.png?fit=32%2C32&#038;ssl=1</url>
	<title>অন্যান্য &#8211; আইসিএবিডি লাইব্রেরি</title>
	<link>https://icabdlibrary.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
<site xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">194529589</site>	<item>
		<title>সম্পাদকীয় (ছাত্র সমাচার মার্চ ২০১৫)</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 04 Jun 2022 13:48:58 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলাম]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামিক বই]]></category>
		<category><![CDATA[গবেষণা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3356</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এক.<br />
মার্চ মাস। আমাদের চেতনা জাগানিয়া মাস। জালিমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগানোর মাস। আমাদের স্বাধীনতার মাস। স্বাধীনতা একটি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। স্বাধীনতা সব জাতির পরম আকাঙ্খা। স্বাধীনতা ছাড়া কেউ আত্মমর্যাদাশীল হতে পারে না। স্বাধীনতা ছাড়া জাতিসত্ত্বার বিকাশ হয় না।<br />
স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল একটি শোষণ বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের যে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তা ছিল- “সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা”। এই মূলনীতিকে সামনে রেখেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। এই আদর্শগুলোই ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্বত:স্ফূর্ত ও বাস্তবসম্মত চেতনা।<br />
বিগত ৪৬ বছরে এদেশের শাসক শ্রেণি কি কখনও মহান মুক্তিযুদ্ধের এসব আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে? স্বাধীনতা পরবর্তী বিগত ৪৬ বছরে যারাই দেশ শাসন করেছে সকলেই আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করেছে। আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতাকে হরণ করেছে। নির্বাচনে জনগনের রায়কে মেনে না নেয়ার প্রেক্ষাপটে যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যার শুভ পরিণতিতে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সে স্বাধীন দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র যেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাইতো বলতে হয় স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও পরাজিত স্বাধীনতা।<br />
এ অবস্থার পরিবর্তনে নতুন একটি দেশপ্রেমিক আদর্শিক শক্তিকে জেগে উঠতে হবে। প্রতরণা লুটপাট আর বে-ইনসাফির বৃত্ত ভাঙতে হবে। স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। গত ৪৬ বছরে যারা জনগণের স্বাধীনতার স্বপ্নকে গলাটিপে হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।</p>
<p>দুই.<br />
দু’টি বিষয় বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে। একটি ইসলাম অন্যটি মুক্তিযুদ্ধ। ইসলামের প্রভাব বলয় গড়ে উঠেছে হাজার বছর ধরে। বৃটিশ খেদাও আন্দোলন, ৪৭-এর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ- স্বাধীনতার প্রতিটি পর্যায়ে ইসলাম চেতনা জাগানিয়া ভূমিকা পালন করেছে। জনগণের স্বাধীনতার চেতনা ইসলাম থেকেই উৎসারিত হয়েছে।<br />
ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ এ দু’টি হচ্ছে এ জাতির ঐক্যের মূলসূত্র। উন্নতি-অগ্রগতির সোপান। কিন্তু আজ ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে শেখানো হচ্ছে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল ধর্মীয় শক্তির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী শক্তির লড়াই। আর এ লড়াইয়ে ধর্মীয় শক্তির পরাজয় ঘটেছে। অথচ পাকিস্তানীদের সঙ্গে আমাদের কোন আদর্শিক লড়াই ছিল না। ছিল অধিকার আদায়ের লড়াই। ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, চাকরি-ব্যবসায় সমতার অধিকার। একাত্তরে আমাদের সংগ্রাম ছিল পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য; ইসলাম থেকে নয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে কারণে পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসেছি সেখানে ইসলাম প্রশ্নটি কোনভাবেই জড়িত ছিল না। এ জন্যই ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে গর্বের সাথে বলেছিলেন- “আমি একজন মুসলমান। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ।”<br />
অতএব ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে জাতির মাঝে বিভাজন তৈরি না করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং ইসলামী অনুশাসন বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হবে।</p>
<p>তিন.<br />
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৭ এপ্রিল ভারত সফরে যাচ্ছেন। আসন্ন সফরে বাংলাদেশ-ভারত “প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক” স্বাক্ষরের কথা ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা অবগত হয়েছি। সমঝোতা স্মারকের উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে রয়েছে ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়, যৌথ টহল, অভিযান, প্রশিক্ষণ ও তথ্য বিনিময় ইত্যাদি। স্বাধীনতার এ মাসে ভারতের সাথে এ ধরণের সমঝোতা সংবাদে আমরা আতংকিত। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণমূলক চুক্তি করার মানসিকতা আমরা বরাবরই লক্ষ্য করেছি।<br />
স্বাধীনতার পরই ১৯৭২ সালে ভারত আমাদের ওপর ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছিল। ১৯৯৭ সালে সে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। দেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট বিবেচনায় আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সে চুক্তি নবায়ন করে নি। এত বছর পর ভারতের সঙ্গে এ ধরণের একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্বাক্ষরের কেন প্রয়োজন তা আমাদের বোধগম্য নয়। কিছু দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় আসার অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তবিত প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক সে রকম কোন মুচলেকা কিনা তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।<br />
আমরা ভারতকে শুধু দিয়েই চলেছি। স্থলভূমি ও বন্দর ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছি। নামমাত্র মাশুলে ট্রানজিট দিয়েছি। অসম বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছি। বিনিময়ে আমরা ভারত থেকে ফেলানীর লাশ পেয়েছি। আমরা সরকারকে বলতে চাই, আমরা ভারতের কাছ থেকে অস্ত্র নয়, তিস্তার পানি চাই। অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্সা চাই। ভারত আমাদের প্রতিবেশী; প্রভু নয়। আমরা পিণ্ডির দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙ্গেছি দিল্লির দাসত্ব বরণ করার জন্য নয়। ভারতের বাংলাদেশ নীতি অনেকটা সিকিমের ধারায় পরিচালিত হয়। প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিমের ভাগ্য বরণ করবে। তবে মনে রাখা চাই, এদেশের বীর জনতা তা হতে দেবে না। যে জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সে জাতি স্বাধীনতা রক্ষাও করতে পারবে। এ জাতি কারো বশ্যতা স্বীকার করে নি; করবেও না। স্বাধীনতার মাসে এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।</p>
<p>-সম্পাদক</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3356</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 16:08:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3367</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>‘অধিকার’ বলতে সাধারণত; মানুষের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করার ক্ষমতাকে বুঝায়। কিন্তু রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় অধিকার একটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে মানুষ যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে তা হচ্ছে অধিকার। রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতকগুলো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাকে বুঝায়, যার দ্বারা ব্যাক্তি তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সমাজের মঙ্গল সাধন করে।<br />
অধিকার সাধারণত দু’ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হল নৈতিক অধিকার এবং দ্বিতীয়টি আইনগত অধিকার। নৈতিক অধিকার বলতে সে সমস্ত অধিকারকে বুঝায় যা সমাজের ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভুত। যেমন- ভিক্ষুকের ভিক্ষা লাভের অধিকার, দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার ইত্যাদি। নৈতিক অধিকার রাষ্ট্রের শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয় না। নৈতিক অধিকার ভঙ্গের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক কোন প্রকার শাস্তি দেওয়া হয় না। সমাজে তার কর্মের সমালোচনা-ই তার শাস্তি।<br />
পক্ষান্তরে, আইনগত অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত ও নিয়ন্ত্রিত। এ অধিকার ভঙ্গকারীকে রাষ্ট্র শাস্তি দিতে পারে। আইনগত অধিকার আবার তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- ১। সামাজিক অধিকার ২। রাজনৈতিক অধিকার ৩। অর্থনৈতিক অধিকার। এখানে শুধুমাত্র ইসলামী রাষ্ট্রের আইনগত অধিকার নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলঃ-<br />
০১. সামাজিক অধিকার<br />
ক) জীবনের নিরাপত্তা অধিকারঃ- ইসলামী রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। অন্যায়ভাবে হত্যা না হওয়ার ব্যাপারে ইসলামী রাষ্ট্র পরিপূর্ণ গ্যারান্টি দিয়েছে। আর বিনা অপরাধে কাউকে হত্যা করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- ”তোমরা কোন বৈধ কারণ ছাড়া আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন এরুপ কাউকে হত্যা করো না।” এছাড়া শিশু হত্যা বা ভ্রম হত্যাও ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেমন পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে- ”তোমরা দারিদ্রতার ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না, কেননা আমিই তাদের বিশেষত; তোমাদের রিযিক প্রদান করি, নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা বড় ধরণের অপরাধ।”<br />
খ) খাদ্য ও জীবিকার অধিকারঃ- খাদ্য ও জীবিকার মালিক স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। মানুষ তার চেষ্টার দ্বারা জীবিকার্জন করে। আর ইসলামী রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যথাযথভাবে খাদ্য ও জীবিকার অধিকার প্রদান করে। রাষ্ট্রের কর্তব্য হবে এমন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে প্রত্যেক নাগরিক জীবিকার্জন করতে পারে। যদি কোন ব্যক্তি নিজ চেষ্টায় সম্মানজনক জীবিকা না পায়, তবে রাষ্ট্রের কর্তব্য তার জীবিকার ব্যবস্থা করা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে এসেছে “আর জমিনে এমন কোন প্রনী নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ গ্রহণ করেনি”। অন্য আয়াতে এসেছে, “আমি তোমাদের জীবিকার দায়িত্ব নিচ্ছি এবং তোমাদের সন্তানদেরও”।<br />
গ) গতিবিধির অধিকারঃ- ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিকদের চলা ফেরার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিকগণ নিজ রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে পূর্ণমাত্রায় চলাফেরা করতে পারবে। আর এর মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে সারাবিশ্বের যোগসূত্র স্থাপিত হবে। ব্যবসায়িক কাজে বিদেশে ভ্রমন করার ব্যপারে পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন-“তোমরা জমিনের পরতে পরতে ভ্রমণ কর এবং তার ফলে উপার্জিত রিজিক আহার কর”। (সূরা মুলক -১৫) এছাড়াও ইসলামে হজ্জ্বের বিধান এ কথায় প্রমান করে যে, বিশ্বের সকল স্থানের লোকজন নিজ দেশসহ সকল স্থানে যাতায়াত করতে পারবে। সুতারাং, ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিকদের চলা-ফেরার অধিকার স্বীকৃত।<br />
ঘ) ধর্ম চর্চার অধিকারঃ- ধর্মচর্চার অধিকার বলতে ব্যক্তির ইচ্ছামত ধর্ম পালন করার স্বাধীনতাকে বুঝায়। প্রত্যেক নাগরিক ইচ্ছামত ধর্মগ্রহণ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ও প্রচার করতে পারবে। ইসলামী আইন কারোর ধর্মে হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ করেছে। যেমন পবিত্র কুরআনে এসেছে,“ধর্মের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই”। (সূরা বাকারা -২৫৬) অন্য আয়াতে এসেছে, “মুমিন হবার জন্য আপনি কি লোকদেরকে বাধ্য করবেন”? (সূরা ইউনুস -৯৯) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ করাও ইসলামী আইনে স্বীকৃত। এ বিধান অনুযায়ী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উপাসানলয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ করাও ইসলামী রাষ্ট্রের দায়ীত্ব। আবার ধর্মীয় শিক্ষার ব্যপারে পূর্ণ স্বাধীনতা স্বীকৃত। ধর্মীয় অনুভূতির পবিত্রতা ইসলামে স্বীকৃত। বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী বা ধর্মের বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য করা অথবা ধর্মীয় নেতাদের গালমন্দ করা ইসলামী রাষ্ট্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- “তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে যে সকল উপাস্যকে ডাকছে, তোমরা তাদেরকে গালি দিওনা”। (সূরা আনয়াম -১০৮)<br />
(উল্লেখ্য যে, ধর্মের মতভেদ নিয়ে সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে তা হতে হবে উত্তম পন্থায়। যেন কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে।)<br />
ঙ) বাক স্বাধীনতা বা মতামত প্রকাশের অধিকারঃ- বাক স্বাধীনতা বলতে স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকারকে বুঝায়। ব্যাপকার্থে- মতামত প্রকাশের অধিকার, লেখার অধিকার, আদর্শ প্রচারের অধিকার, সংবাদপত্র প্রকাশের অধিকার, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রভৃতি বাক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম নির্বিঘ্নে সত্য প্রকাশ ও মতামত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিকদের কর্তব্য হচ্ছে, সত্য কথা নির্ভিকচিত্তে প্রকাশ করা। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন-“আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত” (সূরা নিসা -১৩৫)। সরকারের সকল কার্যক্রমের উপর তীক্ষè দৃষ্টি রাখা ও সজাগ থাকা এবং কোন ক্রুটি পরিলক্ষিত হলে তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা নাগরিকের অধিকার। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সঃ) বলেছেন- “অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ”। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রাঃ) জনসমাবেশে বক্তৃতাকালে বলেছিলেন-“ যদি আপনারা আমার মধ্যে কোন ক্রুটি লক্ষ করেন তবে আমাকে সংশোধন করে দিবেন। শ্রোতাদের একজন জবাব দিলেন, আল্লাহর কসম! আপনার মধ্যে কোন অন্যায় দেখলে আমরা তরবারী দিয়েই সোজা করে দিব।<br />
চ) বিনা অপরাধে শাস্তি না পাওয়ার অধিকারঃ- ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক কেবল নিজ নিজ অপরাধের জন্য শাস্তি ভোগ করবে। কারো অপরাধের দায়ভার অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া কিছুতেই সমিচীন নয়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন- কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না”। (সূরা নজম -৩৮) অপরাধের উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে হয়রানী করা, গ্রেফতার করা, মামলা করা, নির্বাসন দেওয়া কিংবা শাস্তি প্রদান করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- “হে মুমিনগন! যখন কোন ফাসেক তোমাদের নিকট কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তার সত্যতা যাচাই করে দেখ। যেন এমন না হয় যে, না জেনে তোমরা কারো অসুবিধা সৃষ্টি করবে এবং পরে নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হবে”। (সূরা হুজুরাত -৬) হাদীস শরীফে এসেছে- “মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত ও জবান থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে”। (বুখারী)<br />
ছ) ইজ্জত সংরক্ষণের অধিকারঃ- ইসলামী রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সম্মানের নিরাপত্তা দিতে দায়বদ্ধ। রাষ্ট্র কোনভাবে কারও মান সম্মানের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। যেমন, কারও নাম বিকৃত করে ডাকা, কারও খ্যাতি নষ্ট করা, কারও ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা ইসলামী রাষ্ট্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ব্যপারে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- “হে ঈমানদারগণ তোমাদের এক দল যেন অন্য দলকে নিয়ে হাসি তামাশা না করে, কেননা তারা তামাশাকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে, তোমরা একে অপরকে দোষারোপ কর না এবং একে অপরকে বিকৃত নামে ডেক না”। (সূরা হুজুরাত-১১) ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার দেওয়া হয়েছে। তাই মান-সম্মানের নিরাপত্তা লাভ মানুষের আইনগত অধিকার।<br />
জ) শিক্ষা লাভের অধিকারঃ- শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে ইসলামের নীতি ও আদর্শ অত্যাধিক দৃঢ় ও বলিষ্ঠ। পবিত্র কুরআনের প্রথম নির্দেশই হলো “পড়”(সূরা আলাক-০১) এ প্রসঙ্গে মহানবী (সঃ) এরশাদ করেছেন- জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ। (ইবনে মাযাহ) জ্ঞান অর্জন ব্যাতিত যেমন নাগরিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়, তেমনি ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করাও অসম্ভব। এ কারণে শিক্ষার্জন সম্পর্কিত সুবিধা লাভ একটি নাগরিক অধিকার। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলেরই শিক্ষার ব্যাপারে সমান অধিকার সুনিশ্চত থাকবে। নারীদের জন্য সহশিক্ষার পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে।<br />
০২. রাজনৈতিক অধিকার<br />
ইসলামী রাষ্ট্র বিজ্ঞানের আইনানুযায়ী রাষ্ট্র আল্লাহর খেলাফত এবং প্রত্যেকটি মুসলিম নাগরিক আল্লাহর খলিফা। ইসলামী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে প্রত্যেক মুসলিমই সমান অধিকার সম্পন্ন। সকলের পরামর্শের ভিত্তিতে খেলাফত পরিচালিত হবে। সরকার শুধু এক ব্যক্তি, এক পরিবার তথা রাজতন্ত্র অথবা নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠীর হবে না। বরং তা হবে গোটা জাতি থেকে নির্বাচিত। মুসলমানদের পরামর্শ ছাড়া তাদের উপর শাসনকার্য পরিচালনার অধিকার কারো নেই। যেমন পবিত্র কুরআনে এসেছে “তাদের কাজ পারস্পারিক পরামর্শের ভিত্তিতেই স্থীর করতে হবে”। (সূরা আশ-শূরা-৩৮) অন্যত্র এরশাদ হয়েছে “জরুরী প্রয়োজনে তুমি লোকদের সাথে পরামর্শ কর। অতঃপর যখন তুমি সিদ্ধান্তে পৌছাবে তখন আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ শুরু করবে”। (সূরা আলে-ইমরান-১৫৯) অত্র আয়াত দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, ইসলাম একটি নির্বাচিত পরামর্শ ভিত্তিক সরকার গঠনের নীতিকে অনুমোদন করে।<br />
ক) রাজনৈতিক স্বাধীনতাঃ- ইসলামী রাষ্ট্র নাগরিকদের পরিপূর্ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-“কোন মানুষকে আল্লাহ কিতাব, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং নবুয়াত দান করার পর সে বলবে যে, তোমরা আল্লাহকে পরিহার করে আমার বান্দা হয়ে যাও- এটি সম্ভব নয়। বরং তারা বলবে তোমরা আল্লাহ ওয়ালা হয়ে যাও”। (সূরা আলে ইমরান- ৭৯) রাজনীতিতে গোলামী, স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র, দলিয়করণ ইসলামী আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারী সকল কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করার অধিকার ইসলামী আইনে স্বীকৃত। এছাড়াও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং ভোট প্রদান করার অধিকার নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে। তবে ইসলামী রাষ্ট্রে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিশেষ কিছু গুণ থাকতে হবে, যা প্রচলিত রাজনীতিতে নেই।<br />
খ) আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার লাভের অধিকারঃ- ইসলামী রাষ্ট্রের সকল নাগরিকই ন্যায়বিচার লাভের অধিকারী। যেহেতু আইনের চোখে সকলেই সমান। রাষ্ট্রের কোন নাগরিক যাতে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা কঠোরভাবে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। যেমন- এরশাদ হয়েছে-“যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার করবে তখন অবশ্যই সুবিচার করবে। (সূরা নিসা- ৫৮) রাষ্ট্রের বিধর্মী নাগরিক এমনকি কোন শত্রুও যদি আদালতে বিচারপ্রার্থী হয়, তাহলে সে তেমন বিচারই পাবে, যেমনটি পায় একজন মিত্র। যেমন- পবিত্র কুরআনে এসেছে-“কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে বাধা না দেয়। অতএব তোমরা ন্যায়বিচার কর। কারণ উহা খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী”। (সূরা মায়েদা-৮) চুরির শাস্তি প্রসঙ্গে মহানবী (সঃ) বলেছিলেন, “আমার মেয়ে ফাতেমাও যদি চুরি করে, তবে তাঁর হাত কেটে দেওয়া হবে”। (আবু দাঊদ) স্বাভাবিকভাবে ন্যায়বিচার করার জন্য ইসলামী আইনে উৎসাহিত করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়া ছাড়া অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। ইসলামী রাষ্ট্রে প্রত্যেকের জন্য এ অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত। ধারণামূলক ও অজ্ঞতা প্রসূতভাবে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর অবশ্যই তা ভালোভাবে তদন্ত করে দেখতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, “হে ঈমানদারগণ ধারণা প্রসূত বেশিরভাগ বিষয় থেকে বিরত থাকো। কেননা অধিকাংশ ধারণাই পাপ”। (সূরা হুজুরাত- ১২)<br />
০৩. অর্থনৈতিক অধিকার<br />
প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্রের যাবতীয় অর্থনৈতিক উপায় উপাদান হতে উপকৃত হবার অধিকারী। এ ব্যপারে রাষ্ট্র কর্তৃক কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।<br />
ক) সম্পত্তির মালিকানা লাভের অধিকারঃ- সম্পত্তির অধিকার বলতে ব্যক্তিগত সম্পত্তি লাভের ও উপভোগের স্বাধীনতাকে বুঝায়। ইসলামী আইনে ব্যাক্তিগত সম্পত্তি অর্জন এবং হস্তান্তরের অধিকার স্বীকৃত। সম্পদ অর্জন সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে- “পুরুষদের জন্য অংশ রয়েছে তাতে, যা তারা উপার্জন করে এবং মেয়েদের অংশ রয়েছে তাতে, যা তারা উপার্জন করে”। (সূরা নিসা- ৩২) প্রত্যেক নাগরিকই বৈধপন্থায় অর্জিত সম্পদের মালিক হবে এবং অপর কোন নাগরিক তার সম্পদ আইনসঙ্গত কারণ ছাড়া হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা &#8211; “তোমরা একে অপরের সম্পদ অবৈধ ও বাতিল উপায়ে ভক্ষণ করো না”। (সূরা বাকারা- ১৮৮) অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন করা নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ। চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, দালালী, সুদ, ঘুষ প্রভৃতি পন্থায় সম্পদ অর্জন করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।</p>
<p>রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্য<br />
ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক শুধুমাত্র অধিকারই ভোগ করে না, তাকে বেশ কিছু দায়ীত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। নাগরিকদের অধিকারের সাথে কর্তব্যও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।</p>
<p>ক) রাষ্ট্রের আনুগত্য ও অনুসরণঃ- নাগরিক হওয়ার প্রথম শর্তই হল রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা। প্রতিটি নাগরিকের প্রথম কর্তব্য হল বৈধ সরকারের আনুগত্য স্বীকার করা এবং যাবতীয় আইন-কানুন মেনে চলা। রাষ্ট্রীয় আইন পছন্দ হোক আর নাই হোক, সহজসাধ্য হোক বা কঠিন হোক, সর্বাবস্থায় প্রতিটি আইন মেনে চলা নাগরিকদের জন্য অপরিহার্য। কোন আইন ত্রুটিপূর্ণ থাকলে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তার সমালোচনা বা সংশোধন করার চেষ্টা করা নাগরিকদের কর্তব্য। কিন্তু কষ্টসাধ্য হলেও সংশোধন না করা পর্যন্ত ঐ আইন মেনে চলতে হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন- “শ্রবণ করা, অনুসরণ করা, মেনে চলা সু-সময়ে ও অসময়ে এবং আনন্দ ও নিরানন্দে সকল অবস্থাতেই অবশ্য কর্তব্য”। (মুসলিম- ৩৪১৯) রাষ্ট্রের সরকার যদি ইসলামী আইনানুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করেন, তবে নাগরিকগণ তার প্রতি আনুগত থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাকে সহযোগীতা করবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের”। (সূরা নিসা- ৫৯) নেতা বা রাষ্ট্রপ্রধান যদি হাবশী গোলামও হয়, তবুও তার আনুগত্য করতে হবে। যেমন মহানবী (সঃ) এরশাদ করেছেন- “যদি এমন হাবশী গোলামও তোমাদের শাসক নিযুক্ত হয়, যার মস্তক হবে শুল্ক আঙুরের ন্যায় (অত্যান্ত কালো), তবুও তোমরা তার সকল আদেশ-নিষেধ মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর ও তার অনুসরণ কর”। (বুখারী)</p>
<p>খ) রাষ্ট্রের কল্যাণ কামনা করাঃ- ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকই রাষ্ট্রের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কল্যাণকামী। প্রত্যেকেই আন্তরিকতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধশালী একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা পালন করবে। কোন নাগরিক রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করবে না। রাষ্ট্রের মঙ্গল ও কল্যাণের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক রাখবে।<br />
গ) সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সহযোগীতাঃ- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধান ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য সকল নাগরিক জান-মাল উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত থাকবে। কোন ইসলাম বিরোধী শক্তি ইসলামী রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ করলে নাগরিকগণ সম্মিলিতভাবে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তা প্রতিহত করবে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা- “তোমরা ক্ষুদ্র ও বৃহৎ দল বেধে বের হও এবং তোমাদের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ কর। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা তা জান”। (সূরা তাওবা- ৪১) রাষ্ট্র রক্ষায় যারা জান-মাল দিতে কুন্ঠাবোধ করে, তাদেরকে পবিত্র কুরআনে “মুনাফিক” বলে অভিহিত করা হয়েছে। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপর হামলা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন- “শান্তি স্থাপনের পর তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না”। (সূরা আরাফ- ৮৫)<br />
এ ছাড়াও নাগরিকগণ রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত সকল প্রকার কর, যাকাত, উশর প্রভৃতি যথাযথভাবে আদায় করবে। কেননা এর সবকিছুই রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যায় হয়ে থাকে।</p>
<p>লেখক : মুহাম্মাদ রাসেল উদ্দীন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3367</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ক্যারিয়ার ভাবনা; ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড এগ্রিকালচার</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ae/#comments</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 16:07:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3362</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সারাদেশে চলছে এস.এস.সি. ও দাখিল পরীক্ষা।<br />
এবার আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে এস.এস.সি. ও সমমানের পরীক্ষায় ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে । আটটি সাধারণ বোর্ডে এস.এস.সি. তে মোট পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ জন। এরমধ্যে ছাত্র ০৭ লাখ ০২ হাজার ২৯৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ০৭ লাখ ২৩ হাজার ৬০১জন। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ০২ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এস.এস.সি. তে (ভোকেশনাল) ০১ লাখ ০৪ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।</p>
<p>হতে পারেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার<br />
দেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য রয়েছে অপার সম্ভাবনা। প্রত্যেক বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০টি সরকারি ও ৪৩৯টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ৩৫টিরও বেশি বিষয়ে প্রায় ৭২ হাজার ৯২০টি আসনে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মেয়েদের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় রয়েছে চারটি আলাদা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।<br />
এছাড়া সারাদেশে আরো ১৩টি কৃষি ডিপ্লোমা, ৩টি টেক্সটাইল, ৩৯টি হেল্থ টেকনোলজি, ১টি গ্রাফিক্স আর্টস ও ১টি গ্যাস সিরামিকস ইনস্টিটিউট রয়েছে। এস.এস.সি. পাস ও তার সমমানের (দাখিল ও ভোকেশনাল) শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদী এই কোর্সে ভর্তি হতে পারে। তবে বিষয় বণ্টন হয় ভর্তি পরীক্ষা ও এস.এস.সি. তে প্রাপ্ত জিপিএ থেকে মেধাক্রমে।</p>
<p>এক্ষেত্রে এস.এস.সি. ও ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই এস.এস.সি. তে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। যে সকল শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে তাদের সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত এ ন্যূনতম জিপিএ ৩ থাকতে হবে। অন্যান্য বিভাগ থেকে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিজ্ঞান ও সাধারণ গণিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা দুই শিফটে ভর্তি হতে পারে। প্রথম বা মর্নিং শিফট ও দ্বিতীয় বা ডে শিফট।<br />
যে সকল শিক্ষার্থী চলতি বছর পাস করেছে অথবা দুই বছর পূর্বে পাস করেছে তারা প্রথম শিফটে এবং যে সকল শিক্ষার্থীর দুই বছরের বেশি গ্যাপ রয়েছে তারা দ্বিতীয় শিফটে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৫০ নম্বর লিখিত ও ৫০ নম্বর এস.এস.সি. এর রেজাল্টের উপর। লিখিত পরীক্ষা বাংলা ও ইংরেজিতে ১৫ নম্বর, ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রিতে ১৫, গণিতে ১৫, সাধারণ জ্ঞান এ ৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।<br />
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারে তার স্বপ্নের ক্যারিয়ার। ভর্তি হতে পারে তার পছন্দের বিষয়ে। অটোমোবাইল টেকনোলজি, আর্কিটেকচার টেকনোলজি, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল টেকনোলজি, সিভিল টেকনোলজি, সিভিল (উড) স্পেশালাইজেশন, ফুড টেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি, পাওয়ার টেকনোলজি, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনার টেকনোলজি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সার্ভেইং, গ্যাস টেকনোলজি, অফসেট প্রিন্টিং, ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এন্ড নেটওয়ারকিং টেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি, ইনভায়রনমেন্ট টেকনোলজি, ইন্সট্রুমেনশন এন্ড প্রোসেস কন্ট্রোল টেকনোলজি, টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি, টেক্সটাইল টেকনোলজি, আর্কিটেকচার এন্ড ইনটেরিয়র ডিজাইন টেকনোলজি, গার্মেন্টস ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজি, গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড অটোক্যাড টেকনোলজি, অটো ফোল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানো টেকনোলজি, সিলিকন প্লান টেকনোলজি, এলসিডি মনিটর মেকিং টেকনোলজি, লেদ মেশিন অপারেটর প্রভৃতি আরো অনেক বিষয়ের মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীরা বেছে নিতে পারে তার পছন্দের বিষয়টি।<br />
বর্তমান বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং এদের রয়েছে বিশাল চাকরির বাজার। তাই অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এখন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করা ও তার ক্যারিয়ার গড়া। বিস্তারিত জানতে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট (িি.িঃবপযবফঁ.মড়া.নফ) ভিজিট করতে পারেন। এ বছর যে সকল শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিবে তাদের প্রতি রইল শুভ কামনা।<br />
কৃষি ডিপ্লোমা<br />
কৃষি আমাদের গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। দেখা যায় বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ সামান্যই। সামান্যই কৃষি জমি থাকলেও সঠিক দিক নির্দেশনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারলে সেখানেই সোনা ফলানো যাবে। আর এমনই সীমিত সম্পদ দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য সমস্যা মেটানোর জন্য উন্নত যেসব ফলনশীল শস্য আর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষিবিদরা, সেগুলোই কৃষকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা। নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি কৃষিতে ডিপ্লোমাধারীদের রয়েছে দেশের উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ। চাকরি ছাড়াও নিজ উদ্যোগে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুবিধা তো আছেই। এ কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আত্ম-নির্ভরশীল হতে যে কেউ বেছে নিতে পারেন কৃষি ডিপ্লোমা।<br />
কী পড়ানো হয়:<br />
বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ এখানে চার বছরে আটটি পর্বে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়- পরিবেশ বিদ্যা, মাছের চাষ, গৃহপালিত পাখি পালন, মাঠ ফসলের চাষাবাদ, চিংড়ি চাষ ব্যবস্থাপনা, উদ্যান নার্সারি ব্যবস্থাপনা, হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, মাছের পুষ্টি ও খাদ্য ইত্যাদি।<br />
এস.এস.সি. পাসের পর যারা ভাবছেন যে কোন বিষয়ে ডিপ্লোমা করবেন, তাদের জন্য বলছি- কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো থেকে কৃষি, মৎস্য চাষ ও পশুপালন বিষয়ে আপনি ডিপ্লোমা করতে পারেন। এ বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের কাজ সরাসরি মাটি ও মানুষের সঙ্গে। ফলে দেশের কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখা যায় অনেকাংশে। এর মধ্য দিয়ে নিজের আত্মতৃপ্তিটাও বেশি পাওয়া যায় দেশের উন্নয়নে কাজ করে।<br />
কাজের ক্ষেত্র-<br />
* বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটে গবেষণা কাজের কিংবা মৎস্য অধিদপ্তর, পশুসম্পদ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন, মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র, ধান গবেষণা কেন্দ্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে কৃষি ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।<br />
* বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে উপসহকারী পরিচালক পদে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে প্রচুর সুযোগ রয়েছে।<br />
* কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করে যেকোনো শিক্ষার্থী কৃষি, মাছের চাষ ও পশুপালনের জন্য কাজ করে এমন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারেন।<br />
* সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা সমূহে কৃষি শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে ভাল বেতনে যোগদান করার বিশাল ক্ষেত্র ।<br />
* উপজেলা, জেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে সম্পূর্ণ সরকারী বেতন-ভাতায় কাজ করার সুযোগ।<br />
* আর চাকরি করার অসুবিধা থাকলে ছোট পরিসরে অল্প পুঁজিতে কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও শুরু করা যায়।<br />
কৃষি ডিপ্লোমা কৃষি বিষয়ে পড়ার একটি ভাল সুযোগ । বাংলাদেশে অনেকগুলি (প্রায় ১৬টি) সরকারি ও কমবেশি প্রায় ৩০০টির মত বেসরকারি কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট রয়েছে ।</p>
<p>ভর্তির যোগ্যতা ও খরচ:<br />
অন্যান্য ডিপ্লোমার ন্যায় এ কোর্সটিও ৪ বছরের। যেকোনো বিভাগ থেকে এস.এস.সি. বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এখান থেকে ডিপ্লোমা করার জন্য আবেদন করতে পারেন। এস.এস.সি. বা সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে কমপক্ষে জিপিএ-৩ প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীরা কৃষি ডিপ্লোমার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগ ব্যতীত সাধারণ গণিত বা সাধারণ বিজ্ঞানে জিপিএ-২.৫ সহ কমপক্ষে জিপিএ-৩ প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীরা আবেদন করতে পারবেন। সরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গুলোতে চার বছরে শিক্ষা খরচ হবে সব মিলিয়ে ২০ হাজার টাকার মত। আর বেসরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গুলোতে ইনস্টিটিউট ভেদে খরচ কমবেশি হতে পারে।</p>
<p>উচ্চ শিক্ষার সুযোগ-<br />
ডিপ্লোমা কৃষি প্রকৌশল থেকে পাস করার পর শিক্ষার্থীরা ইচ্ছে করলে উচ্চ শিক্ষাও গ্রহণ করতে পারবে । বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভেটেরিনারি বা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এমএসসি করার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া নোয়াখালী সরকারি কৃষি ইনস্টিটিউট সহ বেশ ক’টি সরকারি ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা করার পর দুই বছর মেয়াদী একটি কোর্স রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতো আছেই। এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরেও পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে।<br />
শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম একটি ধারা হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা। কর্ম দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে পৃথিবীর সব দেশেই কারিগরি শিক্ষার উপর যথেষ্ট জোর দেয়া হয়। দেরিতে হলেও আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ২০০৮ সালে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ১১ শতাংশে। ২০২০ সালের মধ্যে এ হার ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। দেশে ২৩টি আন্তর্জাতিক মানের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ প্রায় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হচ্ছে। বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন আরোও এক লাখ শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।<br />
একজন শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও চাকরির বাজারে সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয় শুধু কর্মনির্ভর শিক্ষার অভাবে। অনেক সময় বেকারত্বের অভিশাপও বরণ করতে হয়। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা যেভাবে বাড়ছে একইভাবে বাড়ছে উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার অসংখ্য সুযোগ। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে দেশে বা দেশের বাহিরে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন সঠিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। শিক্ষার্থীদের এ পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে কর্মমুখী শিক্ষা। আর কর্মমুখী শিক্ষার মধ্যে সবচেয়ে যুগান্তকারী উন্নয়ন ঘটেছে কারিগরি শিক্ষায়।</p>
<p>লেখক : মুহাম্মদ জিয়াউল হক, সাবেক কেন্দ্রীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>1</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3362</post-id>	</item>
		<item>
		<title>একান্ত সাক্ষাৎকারে ইশা ছাত্র আন্দোলন এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা নূরুল ইসলাম আল-আমীন</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%9b/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%9b/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 16:06:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3365</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>‘ইশা ছাত্র আন্দোলনই আগামী দিনে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিবে, ইনশাআল্লাহ’<br />
মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম আল-আমীন ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে বরিশাল জেলার অন্তর্গত বাকেরগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল মোতালেব চৌধুরী। স্থানীয় ক্বেরাতুল কুরআন (খাছ) মাদরাসা থেকে তাঁর পড়াশোনার হাতে খড়ি, অতঃপর বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৪র্থ শ্রেণী, পাদ্রীশিবপুর মুহাম্মাদিয়া ফাজিল মাদরাসা এবং বাকেরগঞ্জ মুজাহিদিয়া কেরামতিয়া আলিম মাদরাসা থেকে যথাক্রমে ৫ম,৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীতে পড়াশুনা করার পরে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই আহসানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম শেষ করেন। তারপর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে ফাজিল ও কামিল শেষ করেন। সংগঠনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মেধাবী এই ছাত্রনেতা একেবারেই তৃণমূল থেকে কাজ শুরু করে সংগঠনের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দেশের অনেক সংকটময় মুহুর্তেও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-উপজেলা-জেলা ও একাধিক কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিপ্লবী এই ছাত্রনেতার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাপ শেষে তা ছাত্র সমাচারে তুলে ধরেছেন ছাত্র সমাচারের নির্বাহী সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : ইশা ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ততা ও দায়িত্ব পালন সম্পর্কে কিছু বলুন?<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : ছোট বেলায়ই ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর দাওয়াত পাই। ‘দ¦ীন কায়েম এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজেকে পরিচালনা করা যাবে’ এই প্রত্যাশায়ই মূলত ইশা ছাত্র আন্দোলন-এর সাথে সম্পৃক্ত হই। ১৯৯৭ সালে সদস্য হওয়ার পর বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। তারপর চরমোনাই আহসানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসায় ১০ম শ্রেণির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, আলিম শ্রেণির অর্থ সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, ফাজিল শ্রেণির সভাপতি, মাদরাসা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ২০১১ সেশনে কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক, ২০১২ সেশনে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৩ সেশনে জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল, ২০১৪ সেশনে সেক্রেটারি জেনারেল এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি দায়িত্ব পালন করি।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন থেকে বিদায়ের পর আপনার অনুভূতি কী?<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : আমি মনে করি এটা বিদায় না। একই বিল্ডিংয়ে স্থান পরিবর্তন করেছি মাত্র। যা খুবই স্বাভাবিক। ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে তাই বিদায় নিতে হয়েছে। যেহেতু আমরা শপথ পড়ি যে, আজীবন ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত থাকব। সেই হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বা তার সহযোগী সংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ে হলেও দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করার পর এখন আপনার অনুভূতি কী?<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন একটি মাকবুল সংগঠন। এর বহু নিদর্শন আপনাদের কাছে আছে, আমার কাছেও আছে। যেহেতু সংগঠনের সর্বোচ্চ জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছি, তাই আমাদের কাছে একটু বেশি আছে। আমার মত একটা সহজ-সরল ব্যক্তির মাধ্যমে সংগঠনের এত বড় দায়িত্ব পালন করাকে প্রথমে কষ্টসাধ্য মনে করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে দেখেছি, অনেক সময় দেশের সংকটময় মুহুর্তেও যখন সমস্ত ছাত্র সংগঠন প্রায় ম্রিয়মান, তখন ছাত্র আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং তা সহজেই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আর এটা সম্ভব হয়েছে আল্লাহ তা’আলার খাস রহমত ও পরামর্শভিত্তিক কাজের জন্যই।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : আপনার দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনের কোন স্মরণীয় ঘটনা বলবেন কী?<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : কাজে একনিষ্ঠতা থাকলে সব কাজই আল্লাহ তা’আলা খুব সহজেই করে দেন। আমি তখন চরমোনাই মাদ্রাসা শাখার দায়িত্বশীল। প্রোগ্রামে যিনি কেন্দ্রীয় মেহমান হিসেবে গিয়েছিলেন, বিশেষ কারণে তাকে রাতেই ঢাকায় ফিরতে হচ্ছিল। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমরা রাত বারটার দিকে বরিশাল বাস স্ট্যান্ডে আসি। ধারণাও ছিল না যে, কোন গাড়ী পাব। কারণ, ঐ সময় ঢাকাগামী কোন গাড়ী সাধারণত থাকে না। আমাদেরকে দু‘মিনিটও অপেক্ষা করতে হয়নি। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি গাড়ী দেরীতে ফিরছিল। তাতে একটি মাত্র সিটই খালি ছিল। তাতেই তিনি রওয়ানা দিতে পারলেন। এটা আল্লাহর খাস রহমত ছাড়া কিছু নয়।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : গত ২৬ আগস্ট আপনার নেতৃত্বে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইশা ছাত্র আন্দোলনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুনর্মিলনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ বছরে পদার্পন করে ইশা ছাত্র আন্দোলনের কী সক্ষমতা দেখছেন?<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : সব কাজেই যেকোন একজনকে নেতৃত্ব দিতে হয়। সেই হিসেবে চেষ্টা করেছি সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করার। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে সকলের সর্বোচ্চ চেষ্টায় উপস্থিতি, প্রচার ও রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেছি। ২৫ বছর পুনর্মিলনী সমাবেশের মাধ্যমে বিগত সকল সাবেক দায়িত্বশীল ভাইদের পুনরায় বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছি এবং যারা ঝিমিয়ে পড়েছিল তাদেরকে আবারও বিপ্লবী চেতনায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশের সনামধন্য বুদ্ধিজীবি, শিক্ষাবিদ, প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ সর্বমহলের কাছে ইশা ছাত্র আন্দোলন আগামী দিনে বড় শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : বিতর্কিত শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন পরিবর্তনের দাবীতে গত বছর জুড়ে চলমান আন্দোলন ও এর ফলাফল সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই।<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : আলহামদুলিল্লাহ! গত এপ্রিলের শুরুতে একটি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে জানতে পারলাম, বিতর্কিত শিক্ষাআইন‘১৬ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে এবং পাঠ্য সিলেবাস নাস্তিকতা ও হিন্দুত্ববাদে ভরপুর। তখনই আমরা বিষয়টি আরোও খোঁজ খবর নিয়ে নিশ্চিত হই এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-কে তা অবগত করি। তারপর এ বিষয় নিয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি, শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি, শিক্ষকদের সাথে খোলা চিঠির মাধ্যমে মতবিনিময় করেছি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমনে মানববন্ধন করেছি, ইসলামী আন্দোলনের সাথে বিভাগীয় ও জাতীয় মহাসমাবেশ করেছি, লিফলেট বিতরণ করেছি, সোহরাওয়ার্দী উদ্দানে ছাত্র সমাবেশ করেছি ও গণ-স্বাক্ষর গ্রহণসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে সহযোগীতা করেছি। এ ছাড়া দেশের উল্লেখযোগ্য ইসলামী ছাত্র সংগঠনসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ! এখন একটা ভাল সমাধান এসেছে। তবে সমাধানের পরে হাতে গোণা কিছু বুদ্ধিহীন নাস্তিক সম্প্রদায় এটা পরিবর্তন করার অপচেষ্টা করছে। আমাদের আশা ও বিশ্বাস- বাংলাদেশের তৌহিদী জনতা তা কখনোই হতে দেবে না।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) কে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর সম্পর্কে কিছু বলুন।<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : আসলে তাঁর সম্পর্কে স্বল্প পরিসরে কিছু ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। তবে হুজুরের একটা উল্লেখযোগ্য গুণ হলো, তিনি বাতিলের সাথে কখনো আপোস করেন নি। আমি দেখেছি, যখন দেশের উল্লেখযোগ্য উলামায়ে কেরাম নারী নেতৃত্বের সাথে মিশে গিয়েছিল, তখন তিনি হাজারো বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যয় অবিচল ছিলেন। আল্লাহ না করুন, হুজুর যদি সে সময় তাদের সাথে মিশে যেতেন তাহলে হয়তবা উলামায়ে কেরাম নারী নেতৃত্বের মত একটা হারাম ব্যাপারে ইজমায় উপনিত হত। আমি বিভিন্ন সময় দেখেছি, যদি হুজুরকে বলা হত এখানে জামাত, দেওয়ানবাগী বা অন্য কোন বিদয়াতীদের প্রভাব বেশি, তাই এ সম্পর্কে আলোচনা না করাই ভাল। হুজুর সেদিন স্টেজে গিয়ে প্রথমেই সে ব্যাপারে আলোচনা করতেন। এভাবে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।<br />
ছাত্র সমাচার : ইশা ছাত্র আন্দোলনের সর্বস্তরের জনশক্তি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : আমাদের এখন যে জনসমর্থন আছে এটাকে যদি জনশক্তিতে পরিবর্তন করতে পারি তাহলে বিপ্লবের পথ অনেক তরান্বিত হবে। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের মাঠ পর্যায়ে যে জনশক্তি আছে তাঁরা যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতি মাসে চারজন করে সদস্য তৈরি করতে পারে এবং গখঝ পদ্ধতির মাধ্যমে জনশক্তি কার্যক্রমকে মজবুত করতে পারে তাহলে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনই আগামী দিনে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময় থেকে আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।<br />
নূরুল ইসলাম আল-আমীন : আপনাকে সহ ছাত্র সমাচারের সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও কতৃপক্ষকেও আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। সর্বোপরি আল্লাহ তা’আলা আমাকে ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর সকল স্তরের জনশক্তিকে কবুল করুন। আমীন ॥</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%9b/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3365</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইশা ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি জি.এম. রুহুল আমিন-এর সাক্ষাৎকার</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 16:04:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3366</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি জি.এম. রুহুল আমীন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস গাজীপুর জেলায়। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতে খড়ি। অতঃপর বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে দাখিল ও আলিমের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে তিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। চির বৈপ্লবিক চেতনাধারী মেধাবী এই ছাত্রনেতা শুরু থেকেই বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ওয়ার্ড-ইউনিয়ন-থানা-জেলা ও একাধিক কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিশুদ্ধ ধারার বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী এই বিপ্লবী ছাত্রনেতার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপান্তে ছাত্র সমাচারে তুলে ধরেছেন ছাত্র সমাচারের সহযোগী সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল জলিল।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :আপনার প্রাথমিক জীবন ও পড়াশোনা সম্পর্কে কিছু বলুন।<br />
জি.এম. রুহুল আমীন : আলহামদুলিল্লাহ, আমার প্রাথমিক জীবন শুরু হয় আমারপৈত্রিক নিবাস গাজীপুর জেলায়এবং পড়ালেখা ও শুরু হয় আমাদের নিজ গ্রাম মোরাদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। তারপর মাদরাসা আসিম বিন সাবিত (রাঃ) গাজীপুর থেকে দাখিল এবং টঙ্গী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে আলিম পাশ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছি। সাথে সাথে কওমি মাদরাসাতে ফরিদাবাদ ও টঙ্গী জামিয়া নূরীয়া মাদরাসায় লেখাপড়া করেছি।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনে যোগদান এবং দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বলুুন।<br />
জি.এম. রুহুল আমীন :মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ সাহেব। আমারমাধ্যমিকের একজন শিক্ষক। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গাজীপুর জেলার দায়িত্বশীল ছিলেন।তাঁর মাধ্যমেই সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হই এবং সদস্য হই। ২০০৫ সালে মরহুম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. এর গাজীপুরের একটি মাহফিলে আলোচনা শোনার মাধ্যমে আরও বেশি প্রভাবান্বিত হয়ে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হই।<br />
তখন যে মাদরাসায় পড়তাম সেখান থেকে দায়িত্ব পালন শুরু। প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। তারপর ইউনিয়ন সভাপতি, কালিয়াপুর উপজেলায় সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, টঙ্গী থানার সভাপতি, গাজীপুর জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক। এরপর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক, প্রশিক্ষণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবংবর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বে আছি।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :আরও অনেক দ্বীনি কাজ থাকা সত্ত্বেও রাজনীতিতে এলেন কেন ?<br />
জি.এম. রুহুল আমীন :রাজনীতিতে না এসে ছাত্রসমাজ বা জাতির আশা-প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। কারণ কেউ যদি নিছক একটি একটি গণ্ডির মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে, তার দ্বারা নির্দিষ্ট একটি অংশের উন্নতি সম্ভব। কিন্তু পুরো একটি সমাজের তথা সমাজের সর্বশ্রেণির মানুষের আশা, ইচ্ছা বা চাহিদার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাছাড়া রাজনীতিতে আসার মূল কারণ হলো পরিপূর্ণ দ¦ীন পালন কারার জন্য। আল্লাহ তা‘আয়ালার ঘোষনা অনুযায়ী মানব জাতি ও জ¦ীন জাতিকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে ইবাদাত। আর ইসলামী রাজনীতি তথা খিলাফাহ আলা মিনহাজিন নাবুওয়াহ প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ উদ্দেশ্য পূরণ অসম্ভব। তাই রাজনীতিতে আসার উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ দ¦ীন পালন।<br />
ছাত্র সমাচার :অপরাপর ছাত্রসংগঠনের ওপর ইশা ছাত্র আন্দোলনকে প্রাধান্য দেয়ার কারণ কি ?<br />
জি.এম. রুহুল আমীন :একটি আর্দশকে সামনে রেখে প্রত্যেক ছাত্রের পড়াশোনা করা উচিৎ। যে আদর্শে আদর্শবান হয়ে সে তার পুরো জীবনকে সর্বাঙ্গে সুন্দর করে সাজাতে শিখবে এবং নিজেকে পরিশুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে ছাত্র সমাজসহ গোটা জাতির আশা পূরণ করবে। আমার কাছেআদর্শ হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত দল মনে হয়েছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনকে তাই এই সংগঠনকে প্রাধান্য দিয়েছি।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :যখন একজন ছাত্রের অধ্যবসায়ে ব্যস্ত থাকার কথা; তখন ছাত্র সংগঠনে কাজ করা তার জন্য হুমকি নয় কি ?<br />
জি. এম. রুহুল আমীন : আদর্শিক কোন ছাত্র সংগঠন পড়ালেখার জন্য হুমকি তো নয়ই; বরং সহায়ক। যেমন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোল। এখানে প্রত্যেক সদস্য, কর্মী ও মুবাল্লিগকে পড়াশোনা করার জন্য বিশেষ তত্বাবধায়ন করা হয়। আর প্রাকৃতিক অমোঘ নিয়মেই ছাত্রসমাজ বিপ্লবী হয়। তাই সে কোন দ্বীনি সংগঠনে সম্পৃক্ত না হলেও অন্য কোন বস্তুবাদী সংগঠনের সাথে মনের অজান্তে মিশে গিয়ে তার অধ্যাবসায় ছেড়ে দেয়। কখনো কখনো সেই সংগঠন শুধুতার কেরিয়ার নয়; বরং তার জীবনের জন্যেও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :আপনার দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনে স্মরণীয় কোন স্মৃতি সম্পর্কে যদি বলতেন।<br />
জি.এম. রুহুল আমীন :ব্যক্তিগত কোন সমস্যাকে সাংগঠনিক সমস্যায় রূপান্তর করা সাংগঠনিক আচার বহির্ভূত। মনে পড়ে২০০৫ অথবা ২০০৬ সালের কথা। আমার জেলার একজন দায়িত্বশীলের সাথে আমার মনোমালিন্য হওয়ায় বললাম, আমি সংগঠনের কোন দায়িত্বে থাকব না। তখন তিনি বললেন আসলে দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। যদি তুমি আল্লাহর কাজ থেকে অব্যহতি নিতে পারো তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই। সেদিনের ঐ দায়িত্বশীলের কথায় আমি দারুণভাবে প্রভাবিত হই। আর তখন সংকল্প করি, নিজেও কখনো এমনটি করবোনা এবং কাউকে করতেও দেবনা।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলতেন, একজন সংগঠকের মাঝে কী গুণ থাকা উচিৎ?<br />
জি.এম. রুহুল আমীন : একজন ছাত্রের মূল কাজ অধ্যবসায়। তাই প্রথমত একজন ছাত্র সংগঠককে একাডেমিক, সাংগঠনিক ও দীনি জ্ঞানের ক্ষেত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে। দ্বিতীয়ত উন্নত আমলের অধিকারী হতে হবে। তৃতীয়ত সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। চতুর্থত সময়ানুবর্তিতা ও সংগঠনের জন্য সর্বোচ্চ কুরবানীর মানসিকতা থাকতে হবে।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :২০১৭সেশনেকেন্দ্রীয় সভাপতিরদায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন। এ পর্যায়ে এসে আপনার অনুভূতি কী?<br />
জি.এম. রুহুল আমীন :আমি জানিনা ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতিরদায়িত্ব পালন করার মতো যোগ্যতা আমার আছে কিনা। তবে সংগঠনের এ পর্যায়ে এসে আমি অনূভব করছি, এত বড় দায়িত্ব পালন করা আল্লাহর খাস রহমত ও সকলের সহযোগিতা ছাড়া কখনো সম্ভব না।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :ছাত্র সংগঠনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে আপনি বর্তমান সমাজব্যবস্থাকে কিভাবে দেখছেন?<br />
জি.এম. রুহুল আমীন : দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার দিকে তাকালেসত্যিই হতাশ হতে হয়। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার বাক-স্বাধীনতা পর্যন্ত ফিরে পায় নি। স্বাধীনতার আগে যেমন ব্যক্তি স্বাধীনতা ছিল না। স্বাধীনতা পরবর্তি বারংবার ক্ষমতার পালাবদল হলেওআজও প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি এদেশের মানুষ।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :স্বাধীনতার মূল চেতনা; সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়কী করণীয় ?<br />
জি.এম. রুহুল আমীন : স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনা ছিলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার পর কিছু নামধারী সুশীল সমাজ স্বাধীনতার মূল চেতনা হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে দাবী করে আসছে। ফলশ্রুতিতে এখনোমানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। আর এই মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তা করতে হলে অবশ্যই তাকওয়াবান শাসকের প্রয়োজন।</p>
<p>ছাত্র সমাচার :আপমর ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।<br />
জি.এম. রুহুল আমীন : প্রিয় ছাত্র বন্ধুদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমরা আমাদের মহান প্রতিপালকের আদেশে তাঁর জমিনে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি। তাই ছাত্রাবস্থায়ই নিজেকে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের আমল আখলাক সুন্দর করার এটাই সময়। সেই সাথে পড়াশোনায় মনযোগী হয়ে জাতিকে যোগ্য ও খোদা ভীরু নেতৃত্বদানের লক্ষ্যে ইশা ছাত্র আন্দোলনের পতাকা তলে আসার আহবান জানাচ্ছি।</p>
<p>ছাত্র সমাচার : আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময় থেকে আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।<br />
জি.এম. রুহুল আমীন : আপনাকেও ধন্যবাদ ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3366</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 16:03:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3360</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক বিভ্রান্তির মত এই ভুল তথ্য ও প্রচলিত আছে যে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে মুসলমানদের কোনো অবদান নেই। সব অবদান এককভাবে কলকাতার বাবুদের। আসল ইতিহাস চাপা পড়া, সত্য বলছে অন্য কথা। শুধু প্রাচীন আমলেই নয়; আধুনিক কাল পর্যন্ত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে মুসলমানদের বিশেষ করে আলেম সমাজের গৌরবময় ছিল এবং আছে।</p>
<p>মূলত বাংলা ভাষার জন্মই হয়েছে মুসলমানদের আগমনের মাধ্যমে। সংস্কৃত ভাষী হিন্দুদের অক্টোপাশ থেকে বাংলা ভাষা মুক্তি পায় ১২০৩ সালে বখতিয়ারের বিজয়ের মাধ্যমে। সেই অর্থে বলা যায় যে, মুসলিম শাসন কেবলমাত্র বাংলার মানুষদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অধিকার দেয়নি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকেও স্বাধীনতা আর মুক্তি দিয়েছিল। ফলে দেখা যায় যে, মুসলিম আমলেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি উন্নতির শীর্ষে আরোহন করেছিল। আর বাংলা ভাষাতে উঁচুমানের রচনা প্রকাশ করে মুসলমানরাই এই ভাষাকে বিশ্বে মর্যাদাশীল করেছিল।</p>
<p>পরবর্তীতে ইংরেজ শাসনামলে মুসলমানদের নিদারুণ শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন করা হয়। এ দেশের মুসলমানদের ধর্ম ইসলাম আর ভাষা বাংলাকে চরমভাবে আক্রমণ করেছিল ক্ষমতাশীল ইংরেজ ও হিন্দু অপশক্তি। কিন্তু বাংলার মুসলমানরা আল্লাহর রহমতে নিজেদের ঈমানের শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে ধর্ম ও ভাষা তথা তাহযিব ও তমদ্দুনকে রক্ষা করতে সমর্থ হন। ইংরেজদের কাছ থেকে উপমহাদেশ স্বাধীন হলে তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাংলা ভাষা আবার সমস্যার সম্মুখীন হয়। সে সময় উর্দূর মতোই বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে এবং বাংলার ভাষা ভাষী মুসলমানদের ধর্ম-কর্ম সম্পন্ন করণের স্বার্থে বাংলা প্রচলনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন এদেশের ওলামায়ে কেরাম।</p>
<p>বাংলা ভাষার সঠিক ইতিহাস ঃ<br />
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আরও একটি শতাব্দী অতিক্রম করছে। শুধু কালের দিক থেকেই নয়, ইতিহাসের দিক থেকেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস দীর্ঘতম এক ইতিহাস। এই ইতিহাসের সাথে যুক্ত হয়ে আছে মুসলমানদের অবদানের প্রসঙ্গটিও। ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসনের পরিবর্তে মুসলিম শাসন যখন বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকেই সূচিত হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পরিবর্তন। ডক্টর মুহাম্মদ এনামুল হক বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন।</p>
<p>১২০৩ ঈসায়ীতে তুর্কী বীর ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী হিন্দু রাজা লক্ষণ সেনকে লখনৌ থেকে বিতাড়িত করে বাংলায় সংস্কৃত চর্চার মূলে কুঠারাঘাত হেনে বাংলা চর্চার পথ উন্মুক্ত করেন।</p>
<p>মূলত ১৩০৩ সাল থেকেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রযাত্রা শুরু। আর পলাশীর বিপর্যয় অর্থাৎ ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত এই সাড়ে পাঁচশ বছর ছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর ঘনঘোর কালমেঘ। এই অশুভ কালোমেঘে বাংলা ভাষা সাহিত্যের সূর্য আচ্ছাদিত ছিল ততদিন, যতদিন না তাদের শাসন ও শোষণের অবসান ঘটেছে। পৃথিবীর আর কোন ভাষার উপর বাংলা ভাষার মত এত বিপর্যয় নেমে আসেনি। বাংলা ভাষা বারবার ধাক্কা খেয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবুও আজ যখন পেছনের দিকে তাকাই, তখন দেখি এই বাংলা ভাষাতেই শ্রেষ্ঠ ফসল ফলেছে । সন্দেহ নেই এর পেছনে অন্যতম অবদান ছিল মুসলমানদের।<br />
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যে ক্রমোন্নতির দিকে ধাবিত হয়েছে, এর মূখ্য কারণ হলো সচেতনশীল মুসলিম এবং মুসলিম শাসক ও ইসলাম প্রচারকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা। তাঁরা বাংলাকে যেমন রাজনীতি এবং ধর্মপ্রচারের জন্য ঐক্যবদ্ধ, সুসংহত করেছেন ঠিক তেমনি তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষকতায় তখনকার লেখকদের হাতে অবহেলিত এবং মৃত প্রায় এই বাংলা ভাষা নব জীবন লাভ করেছে । পলাশীর বিপর্যয়ের পর মুসলিম শাসকেরা যেমন ক্ষমতা হারালেন, সেই সাথে বাংলা ভাষাও হয়ে পড়লো অভিভাবকহীন।</p>
<p>১৮১০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ গ্রন্থশালা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ইংরেজ ও ইংরেজ মদদপুষ্ট শিক্ষিত হিন্দু এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী সংস্কৃত পণ্ডিতদের হাতে বাংলা ভাষা জিম্মি হয়ে পড়লো। সেই সাথে যুক্ত হয়েছিল সুযোগ সন্ধানী খ্রিষ্টান মিশনারীদের বহুমূখী অপকৌশাল। মুসলমানদের তখন চলছিল রাজনৈতিক ভাবে চরম সংকটকাল। মাথা উঁচু করে দাড়ানোর ক্ষমতা তখনো তারা পূনরুদ্ধার করতে পারেনি। এই সুযোগে হিন্দু, ব্রাহ্মণ এবং খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের সযত্নে লালিত বাংলা ভাষার শরীর থেকে তাদের ঐতিহ্য মিশ্রত শব্দকে ছুড়ে ফেলে সংস্কৃত নির্ভর এক ব্রাহ্মণ্য ভাষার জন্ম দিল। এই ভাষায় রচিত হল তাদের যাবতীয় গ্রন্থ এবং তা ইংরেজদের পৃষ্টপোষকতায় প্রকাশ করে ছড়িয়ে দিল সর্বত্র। গল্প, কবিতা, নাটক, অভিধান, ব্যাকরণসহ পাঠ্যপুস্তকের ভাষা ও হয়ে গেল সংস্কৃত নির্ভর। সত্য বলতে এই ব্রাহ্মণ্য ভাষার নাগপাশ থেকে আজও আমরা সম্পূর্ণ মুক্ত নই। হিন্দু ব্রাহ্মণরা সচেতনভাবে যে সংস্কৃত ভাষার বীজ বোপন করে গেছেন, আজকের অনেকেই তো সেই ভাষাই চর্চা করে যাচ্ছেন। পশ্চিম বাংলার হিন্দু লেখকরা যে ভাষা এদেশের মানুষকে শিখিয়েছেন এখনো এদেশের অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ চেতনে অবচেতনে সেই ভাষারই লালন ও পৃষ্টপোষকতা করে যাচ্ছেন।</p>
<p>অথচ আমাদের বুঝা উচিত যে, ভৌগলিক দিক দিয়েই আমরা কেবল ভারত থেকে পৃথক নই। আমরা পৃথক ভাষা, সাহিত্য, জাতি, ধর্ম, ঐতিহ্য এবং আবেগের দিক দিয়েও। ভারতের সাথে আমাদের পার্থক্য সামান্য নয়; বরং আকাশ-পাতাল। এই পার্থক্য চিরন্তন এবং আদর্শিক।</p>
<p>পলাশীর প্রান্তরে মুসলমানদের যদি বিপর্যয় না ঘটতো এবং পরবর্তীতে আলেম সমাজের আযাদীর সংগ্রাম যদি বিজয়ী হতো, তাহলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস লেখা হত হয়তো বা অন্যভাবে।</p>
<p>সংস্কৃত নয়, বরং বাংলা ভাষাই হতো হিন্দু-মুসলমানদের একক ভাষা। আমরা কেবল ক্ষমতাই হারাইনি, আমরা হারিয়েছি আমাদের ভাষা, আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং আমাদের গৌরবগাথা ঐতিহ্য।</p>
<p>বাংলা ভাষার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। তবুও শেষ পর্যন্ত এই মুসলমানরাই, এই ঐতিহ্যবাদী লেখকরাই আবার ঠিকই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের হাল ধরে এগিয়ে গেছেন। আর আজ পেছনে তাকিয়ে দেখতে পাচ্ছি, ঐতিহ্যবাদী সেই সব সংগ্রামী অগ্রজেরা আমাদের জন্য নির্মাণ করে গেছেন একটি আলোকিত পর্বত। ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর মাধ্যমে বাংলা ভাষার প্রতি মুসলমানদের অবদানের যে গৌরবময় ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল, সেটা সার্থক ভিত্তি পেয়েছিল এদেশের ওলামায়ে কেরামের মাধ্যমে।</p>
<p>সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের মতোই বাংলাদেশের মুসলমান, ইসলাম, তাহযিব, তমদ্দুন তথা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি কোনোভাবেই বিপদমুক্ত নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে এখানে শত্রুপক্ষ প্রবল। প্রবল শত্রুপক্ষকে পরাজিত করে বাংলাদেশের ইসলামী শক্তির বিজয়ের লক্ষ্যে সব সময় প্রেরণা পাওয়া যায় আমাদের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে।</p>
<p>ফলে সঠিক অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে সত্য ইতিহাসকে চর্চা, প্রতিষ্ঠা ও প্রসার করতে হবে। আর গৌরবময় অতীতের হাত ধরে এভাবেই আমরা স্বর্ণালী ভবিষ্যৎ রচনা করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>লেখক : মুহাম্মাদ নোমান আহমাদ. সাবেক কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3360</post-id>	</item>
		<item>
		<title>কতটুকু স্বাধীন হলে তাকে স্বাধীনতা বলে</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%9f%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%9f%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 16:01:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3363</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ফাগুন মাস এখনো শেষ হয়নি। শেষ হয়নি কোকিলের কুহুতান। আর এরই মাঝে শুরু হল মার্চ মাস। অগ্নিঝরা মার্চ মাস। সংগ্রাম আর স্বাধীনতার সূতিকাগার এই মার্চ মাস। নতুন একটা স্বপ্ন বোনা, নতুন একটা স্বপ্ন দেখার মাস। অন্যায়, অবিচার, পরাধীনতা আর জুলুমের শৃংখল থেকে মুক্তির নিশান উড়ানোর মাস। মার্চ মাস।<br />
স্বাধীনতার মাস। স্বাধীনতা শব্দটি আপেক্ষিক। কিন্তু এর গভীরতা সুদূর। ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় ১৯৭০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিরুঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু তৎকালীন সামরিক গোষ্ঠী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে। সেই অবস্থা দেখেই বাঙ্গালীরা নিজেদেরকে জোটবদ্ধ করতে থাকে স্বাধীনতার জন্যে। অবস্থা বেগতিক দেখে পাকিস্তান সরকার ১৯৭১ সালের ৩ই মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের জন্য তারিখ নির্ধারিত করে। আর গোপনে ষড়যন্ত্রের জাল বিছাতে থাকেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো। যার বদৌলতে পূর্বঘোষণা ছাড়াই পহেলা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিল করা হয়। এই ঘোষণায় পূর্ব বাংলায় বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ঢাকা পরিণত হয় বিক্ষোভের নগরীতে। শেখ মুজিবুর রহমান ৫দিন হরতাল এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সারাদেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সামরিক সরকার কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলতে তৎপরতা চালায়।<br />
২ই মার্চ থেকে ৭ই মার্চ পর্যন্ত ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বহুল ঘটনা আমাদের স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে স্মরণীয় হয়ে আছে। অবশেষে এল ৭ই মার্চ, সেদিন ছিল রোববার। শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ। এটি এমন এক আবেগিত এবং উদ্বেলিত ভাষণ। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিকামী জনতার যে ঢল নেমেছিল তা ছিল অগ্নিগর্ভ, দুর্বিনীত। জনসমুদ্রে আগমনকারী জনতা ছিল নিশ্চুপ, কবির কন্ঠে তেজোদীপ্ত বাণী এবং নির্দেশ শোনার অপেক্ষায়। আর এভাবেই শুরু। মুক্তির বাসনা উথলে উঠল লাখো বাঙালীর মনে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাদের ষড়যন্ত্র অব্যহত রাখে। দিন দিন অবস্থার অবনতি ঘটে। মানুষ মুক্তির নেশায় পাগল হয়ে যায়। জারি হয় কারফিউ। অবশেষে আসে এক ভয়াল কালো রাত। ২৫শে মার্চ ১৯৭১। অপারেশন সার্চলাইট নামে জেনারেল ইয়াহইয়া সহ সেনা ভর্তি ট্যাংকগুলো ক্যান্টনমেন্ট থেকে নেমে আসে ঢাকার রাস্তায়। শুরু হয় তান্ডব। নির্বিচারে গণহত্যা। আবাল বৃদ্ধ বনিতা থেকে শুরু করে রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে থাকা মানুষটিও রক্ষা পায়নি তাদের হাত থেকে। হাজারো মানুষের লাশ পড়ে সে রাতে। ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডগুলের মধ্যে এটি একটি।<br />
পরদিন ২৬শে মার্চ ঘোষণা হয় স্বাধীন বাংলার। পরাধীনতা আর শোষনের কবল থেকে মুক্ত হতে বাংলার মানুষ ঝাপিয়ে পড়ে যুদ্ধে। আর এভাবেই রচিত হয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধের পর মানচিত্রে অংকিত হয় এক নতুন দেশ। বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ।<br />
আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আর দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ এই পয়তাল্লিশ বছরেও অনেক ক্ষত শুকায়নি। ইতিহাসের ভাজে জমে থাকা অনেক অধ্যায়ের উন্মোচন হয়নি। উপেক্ষিত রয়ে গেছে অনেক বীরত্বগাথা। মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজের ভূমিকা এবং অংশগ্রহণ আজও রয়ে গেছে পর্দার অন্তরালে। কোন এক অজানা কারণে আজ তাদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলছে দেশ।<br />
১৯৭১ সালে ‘মোনাফিকদের ক্ষমা নেই’ শীর্ষক একটি সরকারি প্রচার পত্রের শেষে লিখা ছিল, আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘সত্যের জয় ও মিথ্যার বিনাশ অবশ্যম্ভাবী, বাঙালি এতে সম্পূর্ণ বিশ্বাসী।’ (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র : ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৩২- ৩৩৬) এভাবেই শুরু হয় যুদ্ধের। স্বাধীনতা সংগ্রামের। অংসখ্যা আলেম, ওলামা সেই সময় এই সংগ্রামে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত ছিলেন। পাকিস্তানীদের শোষণ আর জুলুমের বিরুদ্ধে তাদের ছিল সোচ্চার ভূমিকা। কিন্তু কালের স্রোতে সেই ঘটনাগুলো অনেকটা ইচ্ছে করেই হারিয়ে ফেলা হচ্ছে।<br />
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের বিখ্যাত ‘মা’ উপন্যাসে আসা যাক। তিনি তার উপন্যাসে সাফিয়া বেগমের কথা উল্লেখ করেছেন। সাফিয়া বেগম উনার ছেলে আজাদ কে পুরান ঢাকার জুরাইন পীরের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণ করেন। এই জুরাইন পীরের অনেক মুরীদ মুক্তিযোদ্ধা ছিল। সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন অসংখ্য উলাময়ে কেরাম। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন আল্লামা হাফেজ্জি হুজুর, আল্লামা লুৎফুর রহমান বরুণী, আল্লামা কাজী মুরতাসিম বিল্লাহ, আল্লামা মুফতি নুরুল্ল্যাহ, আল্লামা এমদাদুল হক আড়াই হাজারী, আল্লামা শামসুদ্দিন কাসেমী।<br />
বাংলাদেশের কওমী মাদরাসাগুলোর মধ্যে আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় মাদরাসা হল চট্রগ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসা। ১৯৭১ সালে এপ্রিল মাসে মেজর জিয়াউর রহমান এই চট্রগ্রামের পটিয়া মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান কে আশ্রয় দেয়ার অপরাধে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষক আল্লামা দানেশ কে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা হত্যা করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিশ্চিত হয় পটিয়া মাদরাসার আলেমরা মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছে, তখনি ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল সেই পটিয়া মাদরাসার উপর জঙ্গি বিমান দিয়ে বোমা বর্ষণ করা শুরু করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই বোমা বর্ষনে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষক আল্লামা দানেশ ও ক্বারী জেবুল হাসান সহ অনেকেই শহীদ হন। (বেলাল মোহাম্মদ : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র : পৃষ্ঠা &#8211; ৫৪,৫৫ ও ১০২)<br />
শুধু তাই নয় ১৯৭১ সালে এই দেশে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসা কেন্দ্রিক যে আলেমদের সংগঠন ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’ ছিল উনারাও কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে অনেক ফতোয়া দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের প্রধান মুহাদ্দিস শায়খুল ইসলাম আমীমুল এহসান (রহ.) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন । পরবর্তীতে ইয়াহিয়া সরকার উনাকে জোর করে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়। দেশ স্বাধীন হবার পর উনি বাংলাদেশে ফিরলে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান খতীব হিসাবে নিযুক্ত করেন। (শায়খুল ইসলাম আমীমুল এহসান (র) এর জীবন ও কর্ম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)<br />
১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সবচেয়ে বড় কওমী মাদরাসার প্রধান মুহতামিম আল্লামা তাজুল ইসলাম (রহ.) পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অনেক বড় বড় আলেম উনার ফতোয়া শুনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে আল্লামা তাজুল ইসলাম নিজের বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার পর শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন। (ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম (রহ.) ও উনার সাথীবর্গ, লেখক &#8211; হাফিয মুহাম্মদ নুরুজ্জামান,ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)<br />
এমন হাজারো উদাহরণ টানা যেতে পারে যারা অন্যায়, অত্যাচার আর দেশকে স্বাধীন করতে নিজের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় আজ তারা কালের গর্ভে বিলীন। কষ্ট হলেও সত্যি অনেকটা ইচ্ছে করেই তাদেরকে এড়িয়ে গেছে ইতিহাসের এই পথ চলা। আজও মূল্যায়ন হয়নি তাদের এই বিসর্জন। কিন্তু এই স্বাধীন বাংলা কতটুকু স্বাধীন আজ? প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।<br />
পাকিস্তান এদেশকে শোষণ করেছিল। চুষে খেয়েছিল আমাদের দেশের সবকিছুই। আমরা তখন স্বপ্ন দেখেছিলাম একটি স্বাধীন দেশের। কিন্তু আজ স্বাধীন দেশে বসবাস করেও আমরা স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছি। বছরের পর বছর এদেশকেও চুষে নিয়েছে জনগণ নির্বাচিত সরকার বাহিনী। স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাওয়া মানুষগুলো এখন জীবন বাচাঁতে ব্যস্ত। দূর্নীতিতে পরপর পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ান হওয়া এ দেশ এখনো দূর্নীতিগ্রস্থ রয়ে গেছে। আজও আমরা সেই শোষণ থেকে মুক্ত হতে পারিনি।<br />
গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। টাকার অঙ্কে যা ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। যা আমাদের দেশের এক অর্থ বছরের বাজেটের চেয়েও কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি। টাকা পাচার বন্ধে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিয়ে টাকা পাচার বন্ধ করা যাবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এ জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে যে সমস্ত কারণে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় হয় না, পুঁজিবাজার লুটপাটের কোনো বিচার হয় না, ঠিক একই কারণে টাকা পাচারেরও কোনো সমাধান হবে না। কারণ, যে ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে আমরা জানি তাঁরা খুবই শক্তিশালী। কেবল প্রশাসনের এর সমাধান করা সম্ভব হবে না।’<br />
বড় আশ্চর্য লাগলেও বিষয়গুলো এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। আর এগুলো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হচ্ছে। সেই ’৭১ পূর্বেপার ঘটনার পুণরাবৃত্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল একবার বলেছিলেন, শেয়ারবাজারে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লুটপাট হয়েছে। সরকার রোড শো করে সাধারণ মানুষকে পুঁজিবাজারে টেনে এনে এই লুটপাটের আয়োজন করেছে।<br />
আজ আমরা স্বাধীন বাংলার পরাধীন জাতি। আমাদের জানের নিরাপত্তা নেই। নিজ ঘরে সংসদ সদস্য হত্যা হচ্ছে। হত্যা করছে প্রাক্তণ সাংসদ। নিরাপত্তা আজ কোথায়? আমরা সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা আজ তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। কেউ সকালে ঘর থেকে বের হলে সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরে এই নিশ্চয়তা নিয়ে ফিরতে পারে না। জনসাধারণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনীর অবস্থা তথৈবচ। নারায়ণগঞ্জে সাত খুন একটি আলোচিত বিষয়। সবারই কম বেশি জানা। আর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। যাদের কাছে মানুষ আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করে তারাই যদি মানুষ হত্যা করে তবে পাকিস্তানী শোষকদের সাথে আমাদের অমিল কোথায়! আইনশৃংখলা বাহিনীর অপকর্ম আজ নতুন নয়। জনসাধারণকে নানানভাবে হয়রানির আরেক নাম এই পুলিশ বাহিনী।<br />
প্রশ্নপত্র ফাঁস, হরতাল, অবরোধ, মানুষকে নির্বিচারে হত্যা, মূল্য বৃদ্ধি, সীমান্তে হত্যা এমন হাজারো সমস্যার মাঝে থেকেও আজ আমরা স্বাধীন বাংলার নাগরিক। আজ আমাদের বাক স্বাধীনতাও নেই। কোথায় কি বলতে হবে, কি বলা যাবে কি যাবে না, কাকে কতটুকু বলা যাবে সবকিছুই নিয়ন্ত্রন করে দেয়া হয়। এর বাইরে কিছু হলে সাজাও মিলে যায়। নিয়ন্ত্রন টানা হয় ব্যক্তিগত অনেক বিষয়ের উপরেও। আর এই নিয়ন্ত্রনের গ্যাড়াকলে পড়ে এই লেখাতে অনেক কিছুই বলা গেল না। তবুও আমরা বেঁচে আছি। স্বপ্নহীন এক পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হয়ে আছি। ’৭১ পূর্বেও আমরা বেঁচে ছিলাম। প্রকৃত বাঁচা সে বেঁচে গেছে যে ওপারে চলে গেছে। শৃংখলাবদ্ধ এই দু’অবস্থার কোন ফারাক নেই। ফারাক শুধু এতটুকুই কাগজে কলমে। আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক।</p>
<p>লেখক : আবু তাহের, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%9f%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3363</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ব্যবস্থা : আলোচনা-সমালোচনা</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 16:00:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3358</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রণকারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর দেশ-বিদেশের সব শ্রেণির মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহলের জন্ম নেয়, তবে কৌতূহল সৃষ্টি নিছক কোন কারণে নয় বরং একাধিক কারণেই মানুষের মাঝে এত আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথমত আমরা লক্ষ্য করছি, ১৯৯০-এরপর থেকে আমেরিকা এখন পৃথিবীর একমাত্র পরাশক্তি, যদিও ইদানীং চীন ও রাশিয়া নতুন করে তাদের শক্তিমত্তার জানান দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সে দেশের অর্থনীতি মানে কল্পনাতীত এক বিশাল কর্মযজ্ঞ! প্রতি বছর সেখানে সৃষ্টি হয় প্রায় ১৭ লাখ কোটি ডলারের সম্পদ, যা কিনা সারা দুনিয়ার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। তৃতীয়ত, দেশ ও সভ্যতা হিসেবে খুব প্রাচীন না হলেও আমেরিকার সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রচর্চার ইতিহাস প্রায় আড়াই শ’ বছরের। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ভারতবাসীরা যখন পরাধীন হয়, তার কাছাকাছি সময়ে আমেরিকা স্বাধীন হয়। এরপর থেকে মার্কিন জনগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র চর্চা করে আসছে। তবে তাদের জাতীয় জীবনে এর চেয়েও শক্তিশালী দিক হলো ১৮৬০ সালের গৃহযুদ্ধের পর সে দেশে তেমন বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দেয়নি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে আমেরিকা পৃথিবীর বুকে একটা আদর্শ উদাহরণও বটে। মার্কিন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণ হল অন্যান্য দেশের মত এখানকার নির্বাচন ব্যবস্থা নয়। এখানকার জনগণ আমাদের মত নির্বাচন নিয়ে এত মাথা ঘামায় না। কোন সরকারের অধীনে, কোন কমিশনের হেফাজতে, কোন তারিখে, কিভাবে নির্বাচন হবে, এ নিয়ে আমেরিকার জনগণের কোনো মাথাব্যথা নেই। নির্বাচনের দিন-তারিখ সাংবিধানিকভাবে অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের মেয়াদের চতুর্থ বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার হলো নির্বাচনের দিন। তবে মাসের এক তারিখ যদি মঙ্গলবার হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন হবে নভেম্বরের দ্বিতীয় মঙ্গলবারে। অর্থাৎ মাসের প্রথম দিন কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন হতে পারবে না। মার্কিন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এতই পাকাপোক্ত যে, এখনই বলে দেয়া যায় কোন দূর্ঘটনা না ঘটলে ১০০ বছর পর কোন দিন, কোন তারিখ, কী বারে, কিভাবে সে দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।<br />
আমেরিকার নির্বাচন পদ্ধতি : বিশ্বের বুকে সুপার পাওয়ার রাষ্ট্র হিসেবে খ্যাত আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থা অনেক জটিল। অন্যান্য দেশের মত এদেশের নির্বাচন পরিচালিত হয় না। গণতন্ত্রের ধারক বাহক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও খোদ নিজ দেশেই এ নির্বাচন নিয়ে নানা কথা রয়েছে। মার্কিন নির্বাচন প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আর দেশটির প্রধান দুই দল থেকে প্রার্থী বাছাই করা হয়। ১৮৪৫ সাল থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা বাছাইয়ে ৩টি শর্ত মানতে হয়। এক, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। দুই, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী হতে হবে এবং তিন, ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী হতে হবে। মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটের রয়েছে বিচিত্র সমাহার। কেননা কোন প্রার্থী সাধারণ জনগণের সর্বোচ্চ ভোট পেলেও সে প্রেসিডেন্ট নাও হতে পারে, যদি না সে ইলেকটোরাল ভোট বেশি না পায় অর্থাৎ এখানে সারাদেশ মিলিয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থীই যে নিশ্চিত বিজয়ী হবেন এমনটা নয় বরং তাকে আসলে জিততে হবে রাজ্যগুলোর ইলেকটোরাল ভোটে। আমেরিকার প্রতিটি রাজ্যের জন্য জনসংখ্যার ভিত্তিতে ইলেকটোরাল ভোট নির্ধারিত রয়েছে। একটি রাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন, সেই রাজ্যের সকল ইলেকটোরাল ভোটই তার হয়ে যাবে। দেশটিতে মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৮টি। যে প্রার্থী মোট ভোটের ২৭০ পার করবেন, তিনিই বিজয়ী হিসেবে গণ্য হবেন।<br />
তবে আমেরিকাতে যে নির্বাচনী রেওয়াজ গড়ে উঠেছে, তাতে দেখা যায়, বেশির ভাগ রাজ্য একই দলকে জিতিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। যেমন ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্কের বাসিন্দারা ডেমোক্রেটিক পার্টিকে জেতাচ্ছে আজ প্রায় ২০ বছর ধরে; ঠিক তেমনই টেক্সাস, লুইজিয়ানা, টেনেসির বাসিন্দারা যুগ যুগ ধরে রিপাবলিকানদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করে আসছে। ফলে বিজয়ী হওয়ার জন্য হাতে গোনা কিছু রাজ্যে জয়লাভ করতে দু দলের প্রার্থীকে ব্যাপক দৌড়ঝাপ করতে হয়। মার্কিন রাজনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেটস। এ ধরনের রাজ্যগুলো হল, ফ্লোরিডা (২৯ টি ইলেকটোরাল ভোট), পেনসিলভানিয়া (২০), নিউ হ্যাম্পশায়ার (৪), নেভাডা (৬), ওহাইয়ো (১৮), আইওয়া (৬), নর্থ ক্যারোলাইনা (১৫), কলোরাডো (৯) ও নিউমেক্সিকো (৫)।<br />
আমেরিকায় রয়েছে মোট পঞ্চাশটি স্টেট আর একটি ফেডারাল ডিস্ট্রিক্ট তথা দেশের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। জনসংখ্যার ভিত্তিতে সব স্টেট ও রাজধানীর জন্য নির্ধারিত রয়েছে আলাদা আলাদা ইলেকটোরাল ভোট সংখ্যা। দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে ইলেকটোরাল ভোট সংখ্যা সবচেয়ে বেশি তথা পঞ্চান্নটি। এরপরের অবস্থানেই রয়েছে টেক্সাস, ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক। নির্বাচনের নীতি অনুযায়ী জনসংখ্যা যেমনই হোক না কেন স্টেটগুলির জন্য কমপক্ষে তিনটি করে ইলেকটোরাল ভোট বরাদ্দ রাখতেই হবে। এজন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উইনার-টেক-অল নীতি মেনে চলা হয়। যার মানে হল যে রাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি মানুষের ভোট পাবেন, সেই স্টেটের সব ইলেকটোরাল ভোট তার হয়ে যাবে। আমেরিকার ভোটারদের ভোটের মূল্য বড় স্টেটগুলির তুলনায় ছোট স্টেটগুলিতে বেশি। যেমন মন্টানার জনসংখ্যা দশ লাখ। ওইয়োমিংয়ে বাস করেন ছয় লাখ মানুষ। কিন্তু, দুটি স্টেটেরই ইলেকটোরাল ভোট সংখ্যা তিন। নির্বাচনে ছোট স্টেটগুলি যাতে গুরুত্ব না হারায় সে জন্যই মূলত এই ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের ভোট বেশি পেয়েও ইলেকটোরাল ভোট পদ্ধতির কারণে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি, আমেরিকায় এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। চলতি ২০১৬ সালের নির্বাচন ছাড়াও ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী আল গোর পান ৪৮.৪% ভোট। রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ বুশ তাঁর চেয়ে কম ৪৭.৯% পপুলার ভোট পেয়েও ইলেকটোরাল ভোট সংখ্যার হিসাবে আল গোরকে টেক্কা দিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়ে যান। এমনিভাবে ১৮৮৮ এবং ১৮৭৬ সালেও পপুলার ভোটে পিছিয়ে থেকেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।<br />
নির্বাচনের দশ মাস পূর্ব থেকেই প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়া বড়ই বিচিত্র, দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও জটিল। বাছাই প্রক্রিয়া আরম্ভ হয় আইওয়া পার্টি কোকাসের মধ্য দিয়ে এবং শেষ হয় নির্বাচনের মাস দুয়েক আগে পার্টি কনভেনশনে, চূড়ান্ত মনোনয়নের মাধ্যমে। প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পার্টির ডেলিগেটদের ওপর ন্যস্ত থাকে। কোন প্রার্থীর পক্ষে কত ডেলিগেট, সেটা বোঝা যায় বাছাইপর্বে রাজ্যে রাজ্যে পার্টি কোকাস এবং প্রাইমারির মাধ্যমে, আর তাই এসব ছোট ছোট নির্বাচনকে ঘিরেও বিশ্বব্যাপী ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যায়। এ বাছাইয়ের কাজ সব রাজ্যে একই পদ্ধতিতে হয় না বরং একেক রাজ্যের একেক নিয়ম। কোনো রাজ্যে পার্টির সদস্যরা কোকাসে ভোট অথবা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করেন কোন প্রার্থীর পক্ষে কতজন ডেলিগেট; কোনো রাজ্যে সাধারণ ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে ঠিক করেন কে কতজন ডেলিগেটের আস্থা পেলেন। এ নিয়মের সুযোগ নিয়ে কখনো কখনো এক দলের ভোটার অন্য দলের দুর্বল প্রার্থীকে ভোট দেয়, যাতে তিনি মনোনয়ন পেলে তার দলের, তার প্রিয় প্রার্থী আসল নির্বাচনে সহজে জিততে পারেন। এটাকে বলা হয় গড়হশবু ইঁংরহবংং। তবে প্রাইমারিতে একজন ভোটার শুধু এক দলের প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নিতে পারেন, উভয় দলের নয়। বাছাই পর্ব শেষ হলে ডেলিগেটরা পার্টির জাতীয় কনভেনশনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের মাধ্যমে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করেন। ডেলিগেটদের সংখ্যা একেক পার্টিতে একেক রকম এবং বছর বছর এর হেরফেরও হতে পারে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মোট ডেলিগেট সংখ্যা ছিল ২৪৭২। আর চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য দরকার ছিল কমপক্ষে ১২৩৭। অপরদিকে ডেমোক্রেটদের মোট ডেলিগেট সংখ্যা ছিল ৪৭৬৩। আর নমিনেশনের জন্য দরকার ছিল কমপক্ষে ২৩৮২ জনের ভোট। বাছাই পর্বে পোর্টোরিকো, ভার্জিন আয়ারল্যান্ডস, আমেরিকান সেমোয়া এবং অন্যান্য মার্কিন টেরিটরির জনগণ অংশ নিলেও মূল নির্বাচনে তাদের কোনো ভোটাধিকার নেই, কারণ তারা ফেডারেল আয়করের আওতার বাইরে।<br />
যেহেতু প্রতি লিপইয়ারে নির্বাচন হয়, তাই প্রেসিডেন্টের শাসনকালের মেয়াদ মাত্র চার বছরের এবং তিনি পরপর দুই বারের বেশি প্রার্থীও হতে পারেন না। এ নির্বাচনে জাতীয়ভাবে এবং দুনিয়াব্যাপী যদিও আলোচনায় থাকেন শুধু প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা, তথাপি একই দিনে মার্কিন ভোটাররা আরো অনেক পদে প্রার্থী নির্বাচন করে থাকেন- যেমন কংগ্রেস প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্য এবং একাধিক মেয়াদোত্তীর্ণ সিনেটর, স্টেট লেজিসলেটর, স্টেট সিনেটর, স্টেট গভর্নর ইত্যাদি। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে এবং কাউন্টিতে নানান ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক, আইনি ও রাজস্ব বিষয়ক বিতর্কিত ইস্যুর ওপর গণভোট নেয়া হয়। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ মাত্র দুই বছরের। তাই তারা প্রতি দুই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাঝখানে আরেকবার জনগণের ম্যান্ডেট নিতে বাধ্য। ওই নির্বাচনকে বলে গরফঃবৎস ঊষবপঃরড়হ। ফেডারেল সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছরের, তবে তাদের মেয়াদ পালাক্রমে এমনভাবে বিন্যাস করা যে, প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর কিছু না কিছু সিনেটরকে ছয় বছর পূর্ণ করে নির্বাচনের মাঠে নামতে হয়, স্টেট গভর্নরদের মেয়াদ চার বছরের এবং তাদেরও কাউকে না কাউকে মিডটার্ম ইলেকশন মোকাবেলা করতে হয়।<br />
নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে উভয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর (যাকে বলা হয় জঁহহরহমসধঃব) নাম ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট পদে যে জিতবেন তার ৎঁহহরহমসধঃব আপনা আপনিই জয়যুক্ত বলে বিবেচিত হন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন নভেম্বরের প্রথম দিকে, কিন্তু শপথ নিয়ে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে বসতে বসতে হয়ে যায় জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ। তিনি এই আড়াই মাস সময় পান সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে তার গোটা প্রশাসনিক টিম সাজানোর জন্য। এ অন্তরবর্তী সময়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে বলা হয় খধসব উঁপশ প্রেসিডেন্ট। তিনি শুধু দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যান, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তাকে “প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট” এর পরামর্শ নিতে হয়। নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথেই ফেডারেল সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তারক্ষীরা “প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট” এর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকেন।<br />
নির্বাচনে ফেথলেস ইলেক্টর বা বেঈমান ইলেক্টর এর পরিচয় : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে স্টেটে যে দল যতগুলি ইলেকটোরাল ভোট লাভ করে, সেই দলের ততজন প্রতিনিধি আবার সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে ভোট দেন। অর্থাৎ, কোন প্রার্থী যদি ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পান তা হলে তাঁর দলের ২৭০ জন প্রতিনিধির দেওয়া সরাসরি ভোটে তিনি প্রেসিডেন্ট হবেন। তবে চাইলে ইলেকটোরাল কলেজের কোনও দলীয় প্রতিনিধি নিজের দলের বদলে অন্য দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এদের বলা হয় ফেথলেস ইলেক্টর বা বেঈমান ইলেক্টর। আমেরিকায় এরকম বেঈমানির একশো সাতান্নটি উদাহরণ আছে। তবে, তাতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বদলের নজির নেই।<br />
মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট : ডিবেটের মাধ্যমেই মূলত নেতার যোগ্যতা, বিচক্ষণতা ও জ্ঞানের পরিধি পরিমাপ করা যায়। এরই সূত্র ধরে দীর্ঘ দিন যাবত মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট চলে আসছে। মার্কিন ইতিহাসে এ ডিবেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারাবিশ্ব তখন এ বির্তকের দিকে চোখ রাখেন। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মাঝে তিনটি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মাঝে একটি ডিবেট অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে প্রার্থী টেলিভিশন বিতর্কে নিজেদের এজেন্ডা ও যুক্তি পেশ করেন। তবে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে হিলারি ও ট্রাম্পের জিবেট পরিণত হয়েছে ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুড়িতে। কেননা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিতর্কে এবার সৌজন্যের লেশমাত্র ছিল না। আমেরিকার বিতর্কের ইতিহাসে দেখা যায়, সর্বপ্রথম ১৮৫৮ সালে সিনেটর নির্বাচনে অ ডগলাসের সঙ্গে প্রথম প্রকাশ্যে বিতর্কে লড়েন আব্রাহাম লিঙ্কন। তবে ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪০ সালে ওয়েনডেল উইলকির সাথে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ নিতে অস্বীকার করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে বিতর্কের প্রথম প্রবেশ ঘটে ১৯৬০ সালে। শিকাগোর স্টুডিওতে রিপাবলিকান প্রার্থী রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জন এফ কেনেডি। এরপর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গে স্টুডিও বিতর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত।<br />
২০১৬ সালের বিতর্ক বিশ্লেষণ : প্রথম বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ নিউইয়র্কের হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটিতে। এতে সিএনএন, ওআরসির জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি এগিয়ে ছিল। হিলারির জনসমর্থন ছিল শতকরা ৬২ ভাগ আর ট্রাম্পের জনসমর্থন শতকরা ২৭ ভাগ ছিল। দ্বিতীয় বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় ৯ অক্টোবর ২০১৬ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে। এতেও দেখা যায়, সিএনএনের জরিপে হিলারির জনসমর্থন ছিল শতকরা ৫৭ ভাগ আর ট্রাম্পের জনসমর্থন শতকরা ৩৪ ভাগ ছিল। হিলারী আর ট্রাম্পের মাঝে সর্বশেষ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অব নাভাদাতে ১৯ অক্টোবর ২০১৬ । সর্বশেষ এ বিতর্কের ফলাফলেও দেখা যায়, সিএনএন ও ফক্স নিউজের জরিপে হিলারির জনসমর্থন ছিল শতকরা ৫২ ভাগ আর ট্রাম্পের জনসমর্থন ছিল শতকরা ৩৯ ভাগ। এভাবে সবগুলো বিতর্কের জরিপে এবিসি নিউজের জনমত জরিপ মতে ট্রাম্পকে পিছনে ফেলে হিলারি এগিয়ে যায়। হিলারির জনসমর্থন ছিল শতকরা ৫০ ভাগ আর ট্রাম্পের জনসমর্থন ছিল শতকরা ৩৮ ভাগ।<br />
হিলারি ও ডোনাল্ট ট্রাম্পের বিতর্ক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ট্রাম্প প্রচারে যত ঝড় তুলেছিলেন যুক্তির যুদ্ধে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন নি। কিন্তু, ডিবেটে অ্যাডভান্টেজ পেতে কম চেষ্টা করেননি। নিউইয়র্কে ডিবেটের আগে বিল ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির পুরনো অভিযোগ উত্থাপন করেন । কিন্তু, এর মাধ্যমে মূলত তাঁর নিজের যৌন কেলেঙ্কারিগুলিই প্রকাশ্যে আসে। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আসার পর থেকেই তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেন। ১৯ অক্টোবর লাস ভেগাসের নেভাডায় তৃতীয় তথা শেষ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে মিলিত হন হিলারি ও ট্রাম্প। এই বিতর্কে তাদের মাঝে সৌজন্যের লেশমাত্র ছিল না। প্রথাগত করমর্দন এড়িয়ে তারা সরাসরি মঞ্চে উঠে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তাদের বিতর্ক গড়ায় কর সংস্কারের দিকে। হিলারি তখন আক্রমণ করেন ট্রাম্পের কোম্পানির আউটসোর্সিংকে। হিলারি ক্লিন্টন শুরুতেই পুতিনের প্রসঙ্গ নিয়ে সমালোচনা করেন । ট্রাম্পকে পুতিনের হাতের পুতুল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আবার ট্রাম্প হিলারিকে নীচ মহিলা বলে গালিগালাজ করেন। তবে তৃতীয় বিতর্কের শেষে জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের চেয়ে প্রায় ১২% সমর্থনে এগিয়ে ছিলেন হিলারি। কিন্তু, বিতর্কেই নির্বাচনের মীমাংসা হয়নি। হিলারির বিরুদ্ধে ই- মেইল বিতর্কে ঋইও এর তদন্ত শুরু হতেই হিলারির সমর্থনে ভাটা পড়তে থাকে। ফলে শেষ দিকের জনমত সমীক্ষায় হিলারি ক্লিন্টন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র ৬% ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প শিবির ঋইও কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। এ সুযোগে রিপাবলিকানরা প্রচার করে যে, হিলারি ভোটে জিতলে দেশে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হবে কেননা হিলারি ই-মেইল কেলেঙ্কারিতে জেলে যাবেন। এমতাবস্থায় হিলারির লোকেরাও পাল্টা প্রচারে লিপ্ত হয়, তারা প্রচার করে, ট্রাম্প মহিলাদের অসম্মান করেন, বর্ণবৈষম্যে উস্কানি দেন, তিনি যুদ্ধবাজ এমনকি রিপাবলিকানদের একটা বড় অংশও ট্রাম্পকে পছন্দ করেন না।<br />
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েকটি বিচিত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, এটা গণতান্ত্রিক হলেও প্রত্যক্ষ নয়। পপুলার ভোট যে যতই পান না কেন, মোট ৫৩৮ ইলেকটোরাল কলেজের মধ্যে কমপক্ষে ২৭০টি না পেলে নির্বাচিত হওয়া যায় না। এই ৫৩৮ টি ইলেকটোরাল ভোটের কারণে একজন প্রার্থী বেশি পপুলার ভোট পেয়েও নির্বাচনে হারতে পারেন। ২০০০ সালে জর্জ বুশ জুনিয়রের কাছে এভাবেই আল গোরের পরাজয় হয়েছিল। তদ্রুপভাবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি পপুলার ভোটে এগিয়ে থাকলেও ইলেকটোরাল ভোটে ট্রাম্পের কাছে পরাজয় বরণ করেন। হিলারি-ট্রাম্পের এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেখা যায়, ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন পপুলার ভোট পেয়েছেন ৬,০৫,১৫,২৬৪ (ছয় কোটি পাঁচ লাখ পনের হাজার দুইশত চৌষট্টিটি) যা মোট ভোটের ৪৭.৭%। পক্ষান্তরে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ৬,০০,৮৫,৪৫৬ (ছয় কোটি পঁচাশি হাজার চারশত ছাপ্পান্নটি) যা মোট ভোটের ৪৭.৩%। অর্থাৎ হিলারি ক্লিনটন ৪,২৯,৮০৮ (চার লাখ ঊনত্রিশ হাজার আটশত আট ) বা ০.৪% ভোট বেশি পেয়েছেন। ভোটের এই ব্যবধান সত্ত্বেও নির্বাচনে জিতেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার সংবিধানে এ পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, ছোট-বড় সব অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতায় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। অন্যথায় প্রেসিডেন্ট যদি কেবল পপুলার ভোটে নির্বাচিত হতেন, তাহলে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, নিউইউয়র্ক, ওহাইও, ফ্লোরিডা, ইলিনয়, প্যাসিলভানিয়া ইত্যাদি কয়েকটা জনবহুল রাজ্যের দ্বারাই নির্বাচনের ফায়সালা হয়ে যেত। দেশের নির্বাচনে ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট বাকি রাজ্যগুলোর কোনো মূল্য থাকত না।<br />
দ্বিতীয়ত, এটা জাতীয় নির্বাচন হলেও কোনো একক জাতীয় নিয়মের ভিত্তিতে এ নির্বাচন হয় না। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য তার নিজস্ব নিয়ম ও আইনের ভিত্তিতে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এমনটি নেই বললেই চলে। মেইন ও নেব্রাস্কা ছাড়া বাকি সব ক’টি অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী বেশির ভাগ পপুলার ভোট পান, সে রাজ্যে তার মনোনীত ইলেকটোরাল কলেজের সবাই জিতলেন বলে বিবেচিত হবে। পক্ষান্তরে প্রতিদ্বন্ধী পার্টির সব ইলেকটোরাল কলেজই পরাজিত বলে গণ্য হয়। মেইন এবং নেব্রাস্কার ক্ষেত্রে এ নিয়ম কাজ করে না কেননা ওই দুই রাজ্যে যে প্রার্থী পপুলার ভোটে জয় লাভ করেন, তিনি পান রাজ্যের দুই সিনেটরের বিপরীতে দুটো ইলেকটোরাল কলেজ, বাকিগুলো নির্ভর করে রাজ্যজুড়ে আনুপাতিক প্রাপ্ত ভোটের ওপর। অর্থাৎ যে প্রার্থী যে কয়টি কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে জিতেন, তিনি পান আরো ততটি ইলেকটোরাল কলেজ।<br />
তৃতীয়ত, আমরা জানি আমেরিকার রাজনীতির নিয়ামক মূলত দুটো দল। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনসমূহে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের পাশাপাশি আরো দুটি দলের কিছুটা সরব অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে একটি দল হলো জিল স্টেইনের দ্য গ্রিন পার্টি ও অন্যটি গ্যারি জনসনের লিবার্টারিয়ান পার্টি। ২০১৬ সালের নির্বাচনের ব্যালট পেপারেও তাদের নাম ছিল। তারা জাতীয় পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত। এমনকি জনসন নিউ মেক্সিকো ও ড. জিল স্টেইন ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর হলেও পার্টিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পরিচিতি কম। তাদের দলের নেই বড় কোনো তহবিল। যার অভাবে তারা বড় দুটি রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানের সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয় না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প যথাক্রমে ৪৭.৭% ও ৪৭.৩% পপুলার ভোট পেয়েছেন। তারা উভয়ে পেয়েছেন মোট ভোটের ৯৫%। অবশিষ্ট ৫% ভোট অন্য দুটি দল তথা গ্রিন ও লিবার্টারিয়ান পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন। তাদের মাত্র ০.০৪% ভোটই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে ট্রাম্প ও হিলারির মধ্যে। আদর্শগতভাবে রিপাবলিকানরা কনজারভেটিভ, তারা করপোরেট আমেরিকা এবং সুপার ধনীদের স্বার্থই বেশি করে দেখেন, মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের দোসর, কারণে-অকারণে তারা যুদ্ধ বাধাতে চান। অপরদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টি লিবারেল, তারা প্লুরেলিজমে বিশ্বাস করেন, ইমিগ্র্যান্ট ও ছোট জাতিগোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতিশীল, গরিব ও মধ্যবিত্তদের স্বার্থের ব্যাপারেও অধিক যত্নবান ও সংবেদনশীল। মার্কিন রাজনীতির আরেকটি চরিত্র হলো, তারা কেন্দ্রীয় নির্বাচনে এক দিকে ভোট দেয় আবার আঞ্চলিক নির্বাচনে ভোট দেয় অন্য দিকে। যেমন ক্যালিফোর্নিয়া একটি ব্লু-স্টেট, তারা প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনে চোখ বুজে ভোট দে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে, আবার রাজ্য নির্বাচনে অনেক সময় গভর্নর বানায় রিপাবলিকান প্রার্থীকে।<br />
চতুর্থত, বছর বছর একটু-আধটু পরিবর্তন হলেও প্রতি নির্বাচনে রেড, ব্লু এŸং টসআপ বা সুইং স্টেটের এক অদ্ভুত হিসাবের মাধ্যমে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হয়। রেড স্টেট মানে রিপাবলিকান ম্যাজরিটি, ব্লু-স্টেট অর্থাৎ ডেমোক্রেটিক স্ট্রংহোল্ড এবং টসআপ স্টেট মানে উভয় দিকে যেতে পারে। সঙ্গত কারণেই ব্লু এবং রেড জোনে বলতে গেলে ক্যাম্পেইন হয়ই না। কারণ এতে কোনো লাভ নেই, এরা ঐতিহাসিকভাবে নিজ নিজ দলের বাঁধা ভোট। ঝুলন্ত কিংবা সুইং স্টেটগুলোতেই চলে দু’পক্ষের জোড়ালো ক্যাম্পেইন। এই সুইং স্টেটের মধ্যে বড় হলো তিনটি- পেনসিলভানিয়া, ওহাইও ও ফ্লোরিডা। বলা হয়ে থাকে, এ তিন রাজ্যের মধ্যে যে দুটো পান, তিনিই বিজয়ী হন। অর্থাৎ শেষ মুহূর্তে দুইপক্ষই তাদের পুরো প্রচারণা শক্তি নিয়োগ করে থাকেন এই তিন রাজ্যের মধ্যে। তবে এ তিন স্টেটে অনিশ্চয়তার কারণে অন্য ছোট ছোট সুইং স্টেটেও প্রচারণা চলে।<br />
আমেরিকার সরকার পদ্ধতি : আমেরিকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান বা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে তিনটি বিভাগ। অঙ্গরাজ্যের সরকারগুলোরও রয়েছে অনুরূপ কাঠামো। বিভাগ তিনটি হচ্ছে : ১. নির্বাহী বিভাগ : দেশ পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট এবং বিভিন্ন বিভাগের ও কার্যালয়ের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। এই নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কংগ্রেসে পাসকৃত আইন-কানুন বাস্তবায়ন করা হয়। ২. আইন বিভাগ : সিনেট ও হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস নিয়ে গঠিত এই বিভাগ। সমষ্টিগতভাবে এর নাম কংগ্রেস। কংগ্রেসের দায়িত্ব হল আইন প্রণয়ন করা। ৩. বিচার বিভাগ : সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতি ও নিম্ন আদালত নিয়ে গঠিত হয় এই বিভাগ। এই বিভাগ সংবিধান সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে।<br />
আমেরিকার বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্বাচিত প্রার্থীরা অনেক সময় সমালোচনার শিকার হন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প, নানা বিতর্ক আর কেলেঙ্কারিতে মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে আমেরিকার ইতিহাসে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বিশ শতকের প্রতাপশালী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জর্জ ওয়ালেসও বিতর্কিত হয়েছিলেন। তিনি চারবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেও জয়ী হতে পারেননি। আমেরিকার বর্ণবাদবিরোধী সময়গুলোয় তার বর্ণবাদী আচরণে তিনি বিতর্কিত হয়েছিলেন। ১৯৩৬ ও ১৯৪০ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন আর্ল ব্রাউডার। রাশিয়ান পাসপোর্ট গোপন করে রাশিয়ান এক গুপ্তচরকে বিয়ে করায় তিনি বিতর্কিত হন। এ ঘটনায় তার চার বছরের জেলও হয়েছিল। এমনিভাবে জন চার্লস ফ্রেমন্ট ছিলেন ১৮৭৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তিনি টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা পেয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠে তিনি ও তার দলবল সিরেয়াসে অভিযানে পথ হারিয়ে ফেলেন। তখন অনাহারে বেঁচে থাকার তাগিদে নরমাংস ভক্ষণ করেন। নির্বাচনের আগেই বিষয়টি জনসম্মুখে চলে আসে। ফলে তিনি নির্বাচনে হেরে যান। এমনি করে গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডও বিতর্কের বাইরে ছিলেন না। তিনি নাকি শিশুপ্রেমে জড়িয়ে পড়ে ছিলেন। পরবর্তীতে ধর্ষণের মতো অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এদের বাইরেও অনেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিতর্কিত হয়েছিলেন। বেরি গোল্ডওয়াটার, এগুন ভি ডেবস, হুয়ে পি লং, ভিক্টোরিয়া উডহুল, পেট জে বচ্চন, জর্জ ইডেন টেইলরের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদও পার পাননি। ফলে তাদের নির্বাচনের ফলাফল পরাজয় ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তবে ২০০৬ সালে উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ চরমভাবে বিতর্কিত হন। মার্কিন ইতিহাসে জর্জ বুশ ও নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন। ( চলবে )</p>
<p>সংকলন, সংযোজন ও পরিমার্জনে :<br />
জি.এম রুহুল আমীন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3358</post-id>	</item>
		<item>
		<title>পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.)-এর রাজনৈতিক দর্শন</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%aa%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%aa%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:59:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3361</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>রাজনীতি মানুষের কল্যাণে একটি মহৎ বিষয় হলেও সবাই রাজনীতি পছন্দ করেন না। এমনকি রাজনীতি করা ভাল মানুষের কাজ নয়, এমন ধারনাও প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে সমাজের এক শ্রেণির ধার্মিক মানুষ রাজনীতিকে শুধু অপছন্দই করেন না বরং যারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত তাদের প্রতি খারাপ ধারনাও পোষন করেন। অথচ আমাদের ইসলাম ধর্ম এ ধারনাকে মোটেও সমর্থন করে না। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা ইসলাম ধর্মের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রয়োগ ছাড়া ইসলাম পূর্ণাঙ্গতা পায় না। কোন মুসলমানের অপরাজনীতির কারণে ইসলামী রাজনীতিকে অপছন্দ করা বা অস্বীকার করা ইসলাম ধর্মকে অপূর্ণাঙ্গ ধারনা করার শামিল। আর কোন মুসলমান ইসলামকে অপূর্ণাঙ্গ ধারনা করতে পারে না।<br />
ইসলাম কেমন ধরনের রাজনীতিকে সমর্থন করে, এ নিয়ে হয়তো বিতর্ক করা যেতে পারে। কিন্তু ইসলামে রাজনীতি নেই, একথা শুধু মূর্খ এবং জ্ঞান-পাপীরাই বলতে পারে। কারণ, ইসলাম ধর্মের নবী বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। মহানবী (সা.) এর একান্ত চার সহচর, ইসলামের প্রধান চার খলীফা হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.), হযরত উসমান গণী (রা.) এবং হযরত আলী (রা.) সবাই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। তাদের শাসন ব্যবস্থা ইতিহাসে সোনালী যুগ হিসেবে খ্যাত। পরবর্তীতে কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ হলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বে ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মুসলিম দুনিয়া তাদের গৌরবের খেলাফতব্যবস্থা হারিয়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি হারিয়েছে। বেশির ভাগ মুসলিম সা¤্রাজ্য উপনিবেশিক আগ্রাসী শক্তি গ্রাস করে নিয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে বিভিন্ন ধরনের শাসন ব্যবস্থা চলছে। কোথাও রাজতন্ত্র, কোথাও সামরিক একনায়কতন্ত্র, কোথাও উপনিবেশিক শাসন আবার কোথাও পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক শাসন চালু রয়েছে। একমাত্র ইরান ইসলামী শাসনব্যবস্থার দাবী করলেও বাকী মুসলিম বিশ্ব সেটাকে শিয়া শাসন হিসেবেই আখ্যায়িত করে থাকে। আজ গোটা দুনিয়ায় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর রাজনীতি প্রকৃত মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রায় সব মুসলিম শাসকই সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির তাবেদার ও ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করছে। অথচ যখন প্রকৃত মুসলমানের হাতে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ছিল; খেলাফায়ে রাশেদার সেই যুগে বিশ্বের তৎকালীন দুই মহাশক্তি রোম ও পারস্য মুসলিম শক্তিকে সমিহ করতো।<br />
ইসলামের রাজনীতি শুধু মুসলমানের স্বার্থ এবং কল্যাণচিন্তা নয় বরং গোটা সৃষ্টি জগতের কল্যাণ সাধনই হলো ইসলামী রাজনীতির দর্শন। যে রাজনীতির শিক্ষা দিয়ে রাব্বুল আলামীন রাহমাতুল্লিল আমীনকে (সা.) এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। ইসলামের রাজনীতি কোন রকম সাম্প্রদায়িকতা এবং সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করে না। বরং ইসলামের রাজনীতি সর্বজনিন ও বিশ্বজনিন আন্তর্জাতিকতাবাদকে ধারণ করে। দেশের এক শ্রেণির ধর্মবিদ্বেষী মানুষের আবদার হলো, ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি তথা ইসলামী রাজনীতি এদেশে চলবে না। কার্ল মার্কস-মাওসেতুং-এর রাজনীতি চলবে, লেনিন-স্টালিন-এর রাজনীতি চলবে, গান্ধী-আব্রাহাম লিঙ্কনের রাজনীতি চলবে আর মানবতার মুক্তিদূত বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)- এর রাজনীতি চলবে না, তাও মুহাম্মদ (সা.)- এর উম্মতদের মেনে নিতে হবে? যারা এদেশে মুহাম্মদ (সা.)-এর তরিকায় ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে গণ-মানুষের হৃদয় জয় করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, তাদের অন্যায়টা কোথায়? এটাই ইসলামের রাজনীতি। এটা দোষনীয় কিছু নয়। এটা বরং প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী ফরিজা। এর সঙ্গে প্রচলিত সংঘাত, জিঘাংসা আর প্রতিহিংসার রাজনীতির বিস্তর তফাত। যুগের বিচক্ষণ ধর্মীয় আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. ইসলাম কায়েমের এ রাজনীতির নাম দিয়েছিলেন ‘এবাদতের রাজনীতি’। আরেক যুগ শ্রেষ্ট বুজুর্গ মরহুম মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. এ রাজনীতির নাম দিয়েছিলেন ‘তওবার রাজনীতি’। হযরত হাফেজ্জী হুজুরের তওবার রাজনীতিরই পরিণত রূপ হযরত পীর সাহেব চরমোনাই রহ.-এর ‘এবাদতের রাজনীতি’।<br />
প্রচলিত ধারার ক্ষমতার রাজনীতিতে এ উপমহাদেশের পীর আউলিয়াগণ কখনোই খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। তবে গণ-মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তারা যুগে যুগে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। উপমহাদেশের আজাদী আন্দোলনে পীর-আউলিয়া এবং উলামা মাশায়েখের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ইংরেজ খেদাও আন্দোলনে মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ, মাওলানা ইসমাঈল শহীদ, মাওলানা সৈয়দ আহমদ বেরলবী, মাওলানা এমদাদুল্লাহ মোহাজেরে মক্কী, দারুল উলূম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা কাসেম নানুতবী, কুতুবুল আলম মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী, শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী, শায়খুল ইসলাম মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী, মাওলানা নেসার আলী তিতুমীর, শাহ হায়দার আলী টিপু সুলতান, হাজী শরীয়তুল্লাহ, মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী, ফকির মজনু শাহ রহ. এর মতো পীর আউলিয়াদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁরা তাদের ভক্ত, মুরিদ ও শোষিত মজলুম মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে জালিম আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। উপমহাদেশের ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে প্রথাগত রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পৃক্ত হয়েছে অনেক পরে, একেবারে শেষের দিকে। প্রথম দিকে সব আন্দোলন সংগ্রাম এবং বিদ্রোহ বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পীর আউলিয়া এবং ওলামা শ্রেণী। যারা প্রথাগত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।<br />
উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে সর্বাগ্রে পীর মাশায়েখগণ ঝাপিয়ে পরার কারণ ছিল ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক নেতৃত্ব। উমাহদেশের মুসলিম সমাজে পীর আউলিয়াদের প্রভাব ছিল ব্যাপক। কারণ, পীর আউলিয়াদের দাওয়াত ও প্রচেষ্টার ফলেই উপমহাদেশে মুসলিম সমাজ বিকাশ লাভ করেছে। খাজা মুঈন উদ্দীন চিশতি, খাজা নিজামুদ্দীন, খাজা খান জাহান আলী, শাহজালাল ইয়ামেনী, শাহ পরান, শাহ মাখদুম, শাহ আমানত, শাহ আলী, শাহ নেয়ামতুল্লাহসহ জগত বিখ্যাত পীর আউলিয়াগণের চেষ্টা সাধনায় ভারত উপমহাদেশে ইসলাম ধর্মের বিস্তার লাভ করেছে। যে কারণে এখানকার মুসলিম সমাজে পীর আউলিয়াদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। ব্যক্তিগত ও কিছুটা সামাজিকভাবেও এ অঞ্চলের মুসলিম সমাজ ধর্মের প্রতি অনুরক্ত। কিন্তু ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে বা রাষ্ট্র জীবনে গ্রহণ করতে অধিকাংশ মুসলমানই এখনো প্রস্তুত নয়। অথচ মানুষের প্রয়োজনে এবং মানুষের কল্যাণেই জীবনের সকল পর্যায়ে ইসলামের সুমহান বিধি বিধানের চর্চা হওয়া উচিৎ। আসলে আমরা মুসলমানরাই ইসলামের প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করতে পারিনি। আমরা দীন ইসলামের খন্ডিত এবং সুবিধাবদী চর্চায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি।<br />
হযরত পীর সাহেব চরমোনাই রহ. মুসলমানদেরকে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী পুরোপুরি ইসলামে প্রবেশ করার দাওয়াত দিতেন। তিনি গণমানুষের সামনে দীনের পূর্ণাঙ্গ ধারনা প্রকাশ করতেন। দরদী হৃদয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ দীনের সাধনাই করেছেন তিনি আজীবন। দীন এবং দুনিয়াকে আলাদা করার সুবিধাবাদী প্রবনতাকে তিনি বরদাশত করতে পারতেন না। দীন এবং দুনিয়াকে আলাদা করার প্রবণতা থেকেই আজ ইসলামকে রাষ্ট্র থেকে, সমাজ থেকে, অর্থনীতি থেকে, সংস্কৃতি থেকে বিদায় করার চেষ্টা চলছে। অথচ এসব কিছুই দীন তথা ইসলামের বিষয়বস্তুর বাইরে নয়। কিছু উপাসনা আর আরাধনার মধ্যেই শুধু যারা ইসলামকে গন্ডিবদ্ধ মনে করেন; হযরত পীর সাহেব চরমোনাই রহ. তাদের ভুল ধারনা শুধরানোর জন্যে আজীবন চেষ্টা করে গেছেন।<br />
তরিকতের লাইনে একজন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হয়েও তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলতে। তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন জীবনের সকল পর্যায়ে এবং এ সংগ্রামকে তিনি উত্তম এবাদত মনে করেছেন।</p>
<p>মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ ফজলুল করীম রহ. ছিলেন একজন নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক। পূর্বসূরী আউলিয়ায়ে কেরামের মতো তিনিও প্রচলিত ধারার শুধু ক্ষমতা বদলের রাজনীতি পছন্দ করতেন না। তিনি বলতেন-“প্রচলিত পদ্ধতিতে কেয়ামত পর্যন্তও যদি ক্ষমতার হাত বদল হয়, তবুও জনতার মুক্তি আসবে না।” তিনি নীতি ও সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছেন। তিনি রাজনীতি ও প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতির গুণগত পরিবর্তন চেয়েছেন। তিনি বলতেন, “শুধু নেতার পরিবর্তন আর ক্ষমতার হাত বদল হলেই যে শান্তি আসতে পারে না, বিগত দিনে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকেই আমরা বহুবার তার প্রমাণ পেয়েছি।” তিনি বারবার বলেছেন, “আকাশ জমিনের মালিক যেমন আল্লাহ, জীবন-মৃত্যুর মালিক যেমন আল্লাহ, ক্ষমতা-রাজত্ব আর সম্পদের মালিকও তেমনি আল্লাহ, শান্তির মালিকও আল্লাহ। অতএব শান্তি পেতে হলে মানুষের গড়া দূর্বল নীতি বাদ দিয়ে আল্লাহর ইনসাফপূর্ণ নীতিতে দেশ চালাতে হবে।”<br />
তিনি আরো বলতেন, “একমাত্র ইসলামই মানুষের মুক্তির গ্যারান্টি; আওয়ামী লীগ, বিএনপিও যদি ইসলামের ইনসাফপূর্ণ বিধানের আলোকে দেশ চালায়- আমি তাদের খাদেম হয়ে থাকবো। আমি ক্ষমতা চাই না, আমি চাই মানুষের শান্তি।”<br />
পীর সাহেব চরমোনাই রহ.-এর পদ্ধতি ও নীতির পরিবর্তনের জোড়ালো আহবান অষ্টাদশ শতকের দার্শনিক শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবির সমাজ কাঠামো পরিবর্তনের বিপ্লবী আওয়াজেরই প্রতিধ্বনি ছিল। পীর সাহেব রহ. এর রাজনৈতিক দর্শন-চিন্তা ছিল সুদূরপ্রসারী। সাময়িক স্বার্থ চিন্তায় তিনি কখনো তাড়িত হতেন না। চমক আর হুজুগের রাজনীতি, আবেগ আর হঠকারী রাজনীতি তিনি পছন্দ করতেন না। তিনি ইসলামী রাজনীতির স্বতন্ত্র ধারা বজায় রাখতে চেয়েছেন। তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের কথা ভাবতেন। এ লক্ষ্যেই তিনি শেষ জীবনে জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়ে ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মৌলিক ইস্যুতে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি জাতীয় সমস্যা ও ধর্মীয় বিষয়াদী নিয়ে দেশের সচেতন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। তাঁদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতেন। তিনি সব সময় স্পষ্ট কথা বলতেন। কোন বিষয়ে এড়িয়ে যাওয়ার বা পাশ কাটানোর প্রবণতা তাঁর মধ্যে ছিল না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, ওলামা, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল শ্রেণী-পেশার গণমানুষকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা চলিয়েছেন। জাতীয় জীবনের এক দুর্যোগপূর্ণ মূহুর্তে ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ গণমানুষকে মুক্তি ও আলোর পথ দেখাতে তিনি কায়েম করেছিলেন “ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন” নামের একটি গণ-সংগঠন। সংগঠনের নামের মধ্য দিয়েই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, দেশে রাজনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে শাসনতান্ত্রিক সংকট। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের ভৌগলিক স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মানুষ মানুষেরগোলামী থেকে মুক্ত হতে পারেনি। উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা বহাল রেখে গোলামীর হাত বদল হয়েছে মাত্র। পীর সাহেব চরমোনাই রহ. মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত হয়ে সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামীনের গোলামী করার আহবান জানিয়ে ছিলেন। এটাই ছিল পীর সাহেব চরমোনাই রহ.-এর এবাদতের রাজনীতির মূলমন্ত্র। তিনি মানুষের ভেতরের প্রকৃত মনুষ্যত্ত্বকে জাগিয়ে তুলতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। সমাজের প্রতিটা মানুষ যাতে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করে একজন আল্লাহ প্রেমিক মানবতাবাদী ইনসানে কামেলে পরিণত হতে পারে-সেটাই ছিল এই সাধক পুরুষের সবচেয়ে বড় মিশন। তাঁর রেখে যাওয়া সে মিশন এখনও চালু আছে। আত্মশুদ্ধি ও ব্যক্তিশুদ্ধির এই প্রচেষ্টার ফলে সমাজের বহুসংখ্যক অপরাধী অপরাধের পথ পরিহার করে ন্যায়ের পথে চলছেন। অনেকেই সমাজ বিরোধী, রাষ্ট্র ও আইন বিরোধী, ধর্ম ও নৈতিকতা বিরোধী পথ পরিহার করে শান্তির আলাকিত পথ ধরেছেন। একটি ভাল রাষ্ট্র ও ভাল সমাজ গড়ে তুলতে হলে ভাল মানুষের প্রয়োজন। পীর সাহেব চরমোনাই রহ. সেই ভাল মানুষ তৈরীর জন্যে সবচেয়ে বেশি পেরেশান ছিলেন। এমন একজন মানবতাবাদী দরদী আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা পাওয়াটা ছিল আমাদের জন্যে এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়।<br />
মানুষের মাঝে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, “আধ্যাত্মিক সাধনার ফলে মানুষ সমাজবিমূখ ও সংসার বৈরাগী হয়ে যায়।” মহান আধ্যাত্মিক সাধক ও দার্শনিক পীর সাহেব চরমোনাই রহ. তাঁর সময়োপযোগী দর্শন-চিন্তা ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে তা নতুন করে ভুল প্রমাণ করেছেন। তিনি তাঁর বৈচিত্রময় কীর্তির মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, আল্লাহকে পাওয়ার সাধনা মানুষকে আরো সমাজমূখী এবং জীবন-জগত সম্পর্কে আরো দায়িত্বসচেতন করে তোলে। সন্যাস প্রবণতা আর বৈরাগ্যতা তো দূরের কথা বরং নিজের মাঝে রাষ্ট্রচিন্তা ও বিশ্বচিন্তার উন্মেষ ঘটে। বিশ্বশান্তি ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেতনা বিকশিত হয়।<br />
২০০৬ইং সালের ২৫ নভেম্বর এই মহান সাধক, ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, ইসলামী তাহজীব-তামাদ্দুন পূনর্জাগরণের আপোষহীন সংস্কারক মাওলায়ে করীমের ডাকে সাড়া দিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরীর নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদেশে এবাদতের রাজনীতিকে নতুন মাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।</p>
<p>লেখক : গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%aa%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3361</post-id>	</item>
		<item>
		<title>সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a7%9f%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a6-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a7%9f%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a6-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:51:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3342</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>জীবন বৃত্তান্ত:<br />
নাম, হুসাইন আহমদ। আরবী বর্ণমালার সংখ্যামান অনুযায়ী অপর নাম, চেরাগে মুহাম্মদ। উপাধি, শায়খুল আরব ওয়াল আজম। ১২৯৬ হিজরির ১৯ শাওয়াল (১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দ) ক্ষণজন্মা এ মহাপুরুষের জন্ম। ভারতের উত্তর প্রদেশে উন্নাও জেলার অন্তর্গত বাংগার মৌ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সাইয়্যিদ হাবীবুল্লাহ। বংশগত পরিচয়ে হযরত মাদানী ছিলেন হুসাইনি সাইয়্যিদ বংশের। বংশ পরম্পরায় ৩৩ সূত্রে সাইয়্যিদ হযরত হুসাইন ইবনে আলী রা. এর সাথে মিলিত হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের ব্যার্থতার পর মুসলিম সমাজ যখন দীনি দুনিয়াবী উভয় ক্ষেত্রে ইংরেজ সাম্রজ্যবাদ কর্তৃক কোণঠাসা ছিলেন সেই সময় তার জন্ম।<br />
শিক্ষা-দীক্ষা :<br />
হযরত মাদানী প্রাথমিক কুরআন শিক্ষা করেন তার মায়ের কাছে। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৩০৯ হিজরিতে তেরো বছর বয়সে তিনি দেওবন্দ গমন করেন। বড় ভাই মাওলানা সিদ্দিক আহমদ ও পরম স্নেহশীল শিক্ষাগুরু শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধনে ইলম অর্জন শুরু করেন। শায়খুল হিন্দ রহ. দরসে নেজামীর সর্ব্বোচ্চ শ্রেণী দাওরায়ে হাদিসের গুরুত্ত্বপূর্ণ কিতাবাদির পাঠদানে নিযুক্ত ছিলেন। তা সত্ত্বেও হুসাইন আহমদ মাদানির মত মেধাবি ও আদর্শ ছাত্রকে নিচের দিকের কিতাবাদিও তিনি নিজেই পড়ান। সফলতা ও সৌভাগ্যের নানা লক্ষণ হযরত মাদানীর মাঝে পূর্ব থেকেই পরিস্ফুটিত ছিল। হযরত শায়খুল হিন্দের মত মহান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য ও সুদৃষ্টি প্রতিভাকে আরো বিকশিত করলো। উজ্জ্বল মেধার পাশাপাশি ত্যাগ, বিনয় ও খেদমতের অসাধারণ চেতনা তার মধ্যে কৈশোরেই লক্ষ্য করা গিয়েছিলো। দেওবন্দের মাত্র সাড়ে ছয় বছরের শিক্ষা জীবনে তিনি দরসে নেজামীর সতেরটি বিষয়ের সাতষট্টিটি কিতাবের পাঠ সমাপ্ত করেন। এতে চর্তুদিকে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। সকল শিক্ষকের স্নেহ ও ভালোবাসার পাত্র হয়ে যান তিনি। পাশাপাশি উস্তাদের খেদমত করার অসাধারণ গুণ ছিল তার মাঝে। ১৩১৬ হিজরিতে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের পাঠ সমাপ্ত করে পিতামাতা ও ভাইবোনদের সাথে পবিত্র মদিনা তাইয়্যেবায় হিজরত করেন। মদিনা শরীফে গমন করে সেখানকার প্রখ্যাত আরবী সাহিত্যিক শায়খ আবদুল জলীল বুরাদা ওরফে শায়খ আফেন্দির কাছে আরবী সাহিত্য ও হাদিসের পাঠ গ্রহণ করেন। শায়খুল হিন্দ রহ. ছাড়া তিনি যাদের কাছ থেকে হাদিসের পাঠ গ্রহণ করেন তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন শায়খ খলিল আহমদ সাহরানপুরি রহ., শায়খ আব্দুল জলীল বুরাদা রহ. ও শায়খ আব্দুল আলী রহ.। এছাড়াও তিনি দেওবন্দ থাকাকালে আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেন মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহীর কাছে এবং চিশতিয়া তরিকায় সবক নেন ও খলিফা হন।<br />
কুরআন হিফজ:<br />
ইংরেজদের বিরুদ্ধে তখন কঠোর আন্দোলন চলছিল। শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দিকে গ্রেপ্তার করে আন্দামান দ্বীপে নির্বাসন দেয়া হল। স্বীয় উস্তাদ ও শায়খের কষ্টের কথা চিন্তা করে তার একাকী নির্বাসনকে মেনে নিতে পারলেন না প্রিয় শিষ্য হুসাইন আহমদ মাদানি। তিনি বললেন, উস্তাদের সঙ্গে আমাকেও নির্বাসন দিতে হবে। আমি তার সঙ্গে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে প্রস্তুত। ইংরেজরা শেষ পর্যন্ত তার আবেদন মঞ্জুর করল। তাকেও পাঠিয়ে দেয় আন্দামানে। কিছুদিন পর রমজান এলো। হজরত শাইখুল হিন্দ প্রিয় শিষ্যকে আক্ষেপের সুরে বললেন, এ রমজানে আমার কুরআনে কারিমের তিলাওয়াত শুনা হবে না। কারণ দু’জনের কেউই হাফেজ নয়। উস্তাদের কথা শুনে হযরত মাদানী মুহূর্তকাল মাথা নিচু করে কী যেন ভাবলেন। তারপর আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও অসীম রহমতের উপর ভরসা করে বলে ফেললেন, হজরত! আপনি দোয়া করুন। ইনশাআল্লাহ আমিই খতমে তারাবি পড়াব। শাইখুল হিন্দ আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে পড়াবে? তুমি তো হাফেজ নও। জবাবে মাদানি বললেন, দিনে মুখস্থ করে রাতে নামাজ পড়াব। উস্তাদ দুআ করে দিলেন। দেখা গেল, প্রথম রমজান থেকে হযরত মাদানি দিনে এক পারা করে মুখস্থ করে রাতে তা তারাবির নামাজে স্বীয় শায়খকে শোনাতেন। এভাবে তিনি ত্রিশ দিনে পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হলেন।<br />
অধ্যাপনা:<br />
হযরত মাদানীর অধ্যাপনার জীবন নানাবিধ কীর্তি ও কৃতিত্বে ভাস্বর। কবুলিয়াত ও রুহানিয়াতের দৌলতে পরিপূর্ণ। মদীনা হিজরতের প্রাক্কালে তার প্রিয় শিক্ষাগুরু শায়খুল হিন্দ রহ. তাঁকে এই বলে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, অধ্যাপনা কখনো ছাড়বে না, দুই একজন ছাত্র নিয়ে হলেও খেদমত অব্যাহত রাখবে। হযরত মাদানী রহ. আমৃত্যু তাঁর উস্তাদের এই উপদেশ মেনে চলেছেন। মদীনা শরীফের জীবনে কঠিন দৈন্য-দশার পরীক্ষার ভেতর এবং হিন্দুস্তানে নানাবিধ সংকটের মূহুর্তেও তিনি ইলমের শুধা বিলিয়ে গেছেন।<br />
দীর্ঘকাল মসজিদে নববিতে হাদিসের দরস দিয়ে তিনি ১৩২৬ হিজরিতে হিন্দুস্তানে প্রত্যাবর্তন করেন। তারপর ১৩২৯ হিজরিতে পুনরায় মদীনা তাইয়্যেবায় গমন করেন। সেখানে কিছুকাল অবস্থানের পর আবার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তারপর শুরু হয় মাল্টার বন্দি জীবন। জেল জীবনের অবসান শেষে কিছুকাল আমরোহার মসজিদে পাঠদান করেন। তারপর শায়খুল হিন্দ রহ. এর সান্নিধ্যে আসেন। এ সময় মাওলানা আজাদ রহ. কলিকাতা আলিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের পদের জন্য একজন সুযোগ্য আলেম খোঁজেন। হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. এ পদের জন্য হযরত মাদানীকে নির্বাচন করেন। হযরত মাদানী রহ. বেশ কিছূকাল কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তারপর ১৩৩৮ থেকে ১৩৪৬ হিজরি পর্যন্ত সিলেটের জামিয়া ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পালন করেন। তারপর থেকে ইন্তেকাল [১৩৭৭হিজরি] পর্যন্ত তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের দরসে হাদিস আলোকিত করেন।<br />
রাজনীতি:<br />
শায়খুল হিন্দ মওলানা মাহমুদুল হাসানের পর ইংরেজবিরোধী আন্দোলনে আলিমদের মধ্যে ভারতে মুসলমানদের নেতৃত্ব দানে যারা এগিয়ে আসেন, তাঁদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী অন্যতম। তার ত্যাগ ও সংগ্রাম অপরিসীম। হযরত মাদানী মহান সংগ্রামী উস্তাদের আদর্শ এবং দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তার গোটা জীবনকে দীন ও মিল্লাতের স্বার্থে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। তিনি ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে যে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তা ইতিহাসের এক গৌরবদীপ্ত অধ্যায় হয়ে আছে। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.)-এর পর তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান অধ্যাপক নিয়োজিত হন। তিনি যখন রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে সুরার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বিপরীতে এ বিষয়ে তাঁর অধিকার দাবি করলেন তখন অনেকে ছিলেন দ্বিধা-দ্বন্দে, তারা এতে দ্বিমত প্রকাশ করেন। কিন্তু তৎকালীন মজলিসে শুরার প্রধান, হাকিমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানবী রহ. সকলকে অবাক করে দিয়ে হযরত মাদানীর শর্ত মেনে নিলেন। হযরত মাদানী রহ.অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ইংরেজের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম চালিয়ে যান। ইংরেজ বিরোধী সংগ্রামের কারণে তিনি ঐতিহাসিক করাচি মামলার মুখে পড়েন এবং দুই বছর জেল খাটেন। ১৯৩২ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় ইংরেজ-বিরোধী সংগ্রাম শুরু করেন। এ পর্যায়ে তিনি বক্তৃতার উদ্দেশ্যে দিল্লীর অভিমুখে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে ইংরেজ সরকারের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে পুনরায় কিছুকাল কারাবন্দি রাখে। এভাবে সংগ্রামী জীবনের ধাপে ধাপে অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করেন এবং সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তিকে বিতাড়িত করে দেশকে স্বাধীন করেন।<br />
আধ্যাত্ম সাধনা:<br />
হযরত মাদানী রহ. ১৩১৬ হিজরিতে কুতুবুল ইরশাদ হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহীর কাছে বায়আত হন। তারপর হযরত মাদানী মক্কা শরীফ গমনকালে শায়খ গাঙ্গুহী তাকে উপদেশ দেন যে, তোমার তো মক্কা শরীফ চলে যেতে হচ্ছে, সেখানে গিয়ে তুমি হযরত মাওলানা ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কিকে পাবে। তুমি তার কছে যিকিরের তালকিন গ্রহণ করবে। মক্কা শরীফ গিয়ে হযরত মাদানী হযরত মুহাজিরে মক্কির দরবারে হাজির হলে তিনি তাকে যিকিরের তালকিন করেন এবং বলেন যে প্রতিদিন এখানে এসে যিকির করবে। কিছুদিন পর হিন্দুস্থান থেকে হযরত গাঙ্গুহী রহ. হযরত মাদানীকে পত্র লিখেন এবং তাঁকে হিন্দুস্থানে ফিরে যেতে বলেন। সেমতে হযরত মাদানী হিন্দুস্থানে ফিরে গেলে তিনি তাকে নিজের কাছে রেখে বিভিন্ন প্রকার দীক্ষা দান করেন এবং তাকে খিলাফত প্রদান করেন। পরবর্তীকালে হযরত মাদানী রহ. নানা ব্যস্ততায় তাসাউফ ধারার খিদমতে বেশ কিছুকাল অপারগ থাকলেও দেশ স্বাধীন করার পর ব্যাপকভাবে এই খেদমতে অংশ গ্রহণ করেন।<br />
ইন্তেকাল:<br />
হযরত মাদানী ১৩৭৪ হিজরিতে সর্বশেষ হজ্জব্রত পালন করেন। তারপর ১৩৭৫ হিজরিতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ শরীরেই তিনি দরস দিতেন এবং মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করতেন। অবশেষে ১৩৭৭ হিজরির ১৩ জুমাদাল উলা (মোতাবেক ১৫ ডিসেম্বর ১৯৫৭ সাল) রোজ বৃহস্পতিবার বাদ যোহর তিনি অনন্তের পথে পাড়ি জমান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। ঘটনাক্রমে সেদিন ছিল দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা হুজ্জাতুল ইসলাম কাসেম নানুতবী রহ.এর মৃত্যু দিবস।</p>
<p>রাজনৈতিক চিন্তাধারা:<br />
ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আলিমগণের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় ১৮০৩ সালে হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. এর বিপ্লবী ফতোয়ার মাধ্যমে। তারপর যথাক্রমে আমীরুল মুজাহিদীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহ., মাওলানা ইসমাঈল শহীদ, মাওলানা এনায়েত আলী, হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী, হযরত মাওলানা রশিদ আহমদ গাংগুহী, হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসান প্রমুখ সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। হযরত শাইখুল ইসলাম মাদানী এ আন্দোলনে যোগ দেন ১৯১৬ সালে। তিনি ১৯২০ পর্যন্ত শায়খুল হিন্দের একান্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। শায়খুল হিন্দ ইন্তেকাল করলে আন্দোলন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব অর্পিত হয় তাঁর উপর। উল্লেখ্য এটি ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের সবচেয়ে জটিল ও সর্বাপেক্ষা স্পর্শকাতর সময়। তিনি পরম অবিচলতা ও বহু ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আকাবিরে ওলামার পবিত্র আমানত ১৯৪৭ সালে চূড়ান্ত সীমানায় পৌঁছে দেন।<br />
শায়খুল ইসলাম ১৯১৬ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত মোট ৩১ বছর স্বাধীনতার সংগ্রাম করেন। এই ৩১ বছরের মধ্যে ৮ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হয় ইংরেজ কারাগারে। অবশিষ্ট ২৩ বছর তিনি মাঠে ময়দানে সক্রিয় আন্দোলনের সুযোগ পান। তিনি জমিয়তে উলামা, জাতীয় কংগ্রেস ও খেলাফতের বহু মিটিং, সভা-সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। তার বক্তৃতা পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর রচিত ‘নকশে হায়াত’ গ্রন্থ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংক্রান্ত অন্যতম গ্রন্থ। তাছাড়া ‘মাকতুবাতে শায়খুল ইসলাম’ এর বিশাল অংশ রাজনৈতিক বিষয়ের উপর লিখিত। এসব রচনা ও বক্তৃতা থেকে তার রাজনৈতিক চিন্তাধারা সম্পর্কে যে ধারণা পাওয়া যায় সেটি নিম্নরূপ:-<br />
১. শায়খুল ইসলাম মাদানী উপলব্ধি করেন যে, ইংরেজ সম্রাজ্যবাদ গোটা বিশ্বের উপর যে আধিপত্য বিস্তার করে আছে তার মূলে রয়েছে ভারত বর্ষ থেকে আহরিত তাদের সামরিক শক্তি। ভারত বর্ষ থেকে সংগৃহীত সৈন্য ও রসদ তাদেরকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের উপর আধিপত্য কায়েমের রাজপথ তৈরি করে দিয়েছে। কাজেই এই সাম্রাজ্যবাদকে কোনোক্রমে ভারত থেকে উৎখাত করা সম্ভব হলে শুধু মুসলিম দেশগুলোই নয় বরং গোটা বিশ্ব থেকে তারা উৎখাত হতে বাধ্য। মোটকথা তার দৃষ্টিতে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা শুধু ভারতবর্ষের স্বার্থে নয় বরং প্রকৃত পক্ষে এশিয়াসহ পুরোবিশ্বকে মুক্ত করার স্বার্থে জরুরী ছিল।<br />
২. হযরত শাইখুল ইসলাম এর নিকট এটা সুবিদিত ছিল যে, ভারতের কোটি কোটি মানুষের দেশ। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়। এ সম্প্রদায়গুলো স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ না হলে ভারত থেকে সাম্রাজ্যবাদ কখনো তাড়ানো সম্ভব নয়। তাই তিনি ভারতীয় সকল সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে জোর দেন। তার মতে ঐক্যই হল স্বাধীনতা সংগ্রাম সফল করার একমাত্র উপায়। তবে এ ঐক্য হবে কেবল রাজনীতি ও আন্দোলনের ঐক্য। ভারতবাসীর পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ঐক্য। স্বধর্শ ত্যাগ করা কিংবা ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে পালনে ত্রুটি কিংবা লংঘন করার ঐক্য নয়। কাজেই প্রত্যেক ধর্মালম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনে থাকবে পূর্ণ স্বাধীন। তার মতে স্বাধীনতা আন্দোলন সফল করার জন্য সাম্প্রদায়িকতার প্রতিরোধ করাও আবশ্যক। সাম্প্রদায়িকতা পরিহার পূর্বক নিজেদের দৃঢ় ঐক্য স্থাপন না করা পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা অর্জন কখনো সম্ভব হবে না।<br />
৩. তার মতে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য। কেননা জাগতিক সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যেমন দেশের স্বাধীনতা জরুরি তেমনি আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত ধর্মীয় বিধি-বিধান পূর্ণাঙ্গভাবে পালনের জন্য স্বাধীনতা জরুরী। ইসলাম কোন ধরনের জুলুম সমর্থন করেনা বরং জুলুমের প্রতিবাদ করা এবং জালিমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার শিক্ষা দেয়। ইসলাম মানবতার ধর্ম। এই ধর্মে অন্যায়ভাবে কোন জীব জন্তুকেও কষ্ট দেয়া হারাম। কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া কিংবা নির্যাতিত পরাধীন জীবনযাপনে পরিতুষ্ট হয়ে থাকা ইসলাম পছন্দ করে না। “ইসলাম মানুষকে উন্নত করে, তাকে অন্যের সামনে অবনত হয়ে থাকতে দেয়না”Ñআল হাদিস। পরাধীনতার জীবন যাপনে তুষ্ট থাকা কিংবা পরাধীনতার প্রতিরোধে কথা না বলা উপর্যুক্ত হাদিসের পরিপন্থি।<br />
৪. স্বাধীনতার এ আন্দোলনকে তিনি ইসলামে বর্ণিত ‘জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ’-এর অংশ হিসেবে জ্ঞান করেছেন। আর ঐ প্রেরণা ধারণ করেই আজীবন আজাদির লড়াই করে গেছেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কে পূর্ববর্তী ওলামা ও আকাবিরের অনুভূতিও এটাই ছিল। হযরত শাহ আব্দুল আজিজ, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ, কাসিম নানুতবী, শায়খুল হিন্দসহ সকলে এটিকে ‘জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ’ জ্ঞান করেছেন। এ কারণেই তাঁরা দ্বিধাহীনভাবেই আন্দোলনের বিজয়ীকে গাজী, জীবনদানকারীকে শহীদ ও দেশত্যাগ কারীকে মুহাজির আখ্যা দিয়েছেন। এক চিঠিতে সায়খুল ইসলাম স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ‘আমি সংগ্রামের এই কঠিন অঙ্গনে পার্থিব কোন লোভে অবতীর্ণ হয়নি। এ আন্দোলনকে আমি কাফেরদের বিরুদ্ধে পবিত্র জিহাদ বলে বিশ্বাস করি। দীন ও শরিয়তের স্বার্থে একটি পবিত্র সংগ্রাম বিবেচনা করেই আমি অন্তর্ভুক্ত হয়েছি।<br />
৫. তিনি এক বক্তব্যে বলেন, মুসলমানরা প্রায় এক হাজার বছর যাবৎ ভারত শাসন করেছে। এ দেশ ছিল ‘দারুল ইসলাম’। এখানে ইসলামের পতাকা উড্ডীন ছিল। কুফর ও শিরকের ঝান্ডা ছিল অবনমিত। ইংরেজ নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এবং ভারতীয়দেরকে পারস্পরিক সংঘর্ষে লিপ্ত করে মুসলিম সম্রাটদের হত্যা করে। তাদের ধন সম্পদ লুন্ঠন করে সর্বশ্রান্ত করে দেয়। গোটা ভারতবর্ষকে ‘দারুল কুফর’ এর দিকে ঠেলে দেয়। ইসলামের পতাকা অবনমিত করে এখানে কুফরের পতাকা উড্ডীন করে। ভারতকে গোলাম বানিয়ে ভারত থেকে আহরিত সম্পদ ও সামরিক শক্তি দ্বারা পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোকে একের পর এক পরাভূত করছে। ইংরেজরা বহির্দেশীয় মুসলিম বাহিনীকে হত্যা করছে, মুসলিম রাষ্ট্রশক্তিকে পরাভূত করছে। তাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্রাস করছে। তাই আমাদের গভীরভাবে চিন্তা করার প্রয়োজন যে, আমাদের জন্য ইংরেজ সাম্রজ্যবাদ ব্যতীত বড় শত্রু আর কে হতে পারে? তাই সাম্রাজ্যবাদ নিঃসন্দেহে ইসলাম ও মুসলমানের শত্রু। এমনকি হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল ভারতীয়দের সর্বাপেক্ষা বড় দুশমন। এহেন দুশমনের বিরুদ্ধে জিহাদ করা প্রত্যেক সচেতন মুসলমানের কর্তব্য।<br />
৬. কংগ্রেসে যোগদানের ক্ষেত্রে তার চিন্তাধারা ও যৌক্তিকতা হলো, হযরত মাদানী গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন যে, তুমুল আন্দোলন ও সংগ্রাম দ্বারা সাম্রাজ্যবাদকে সম্পূর্ণ বাধ্য করা ব্যতীত ভারত ত্যাগে সম্মত করা যাবে না। তাই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতীয় ঐক্যবদ্ধ না হলে তা সম্ভব নয়। এ নীতির আলোকে তিনি কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। কংগ্রেসের কোনো কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার মতানৈক্য ঘটে থাকলেও ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন থেকে তিনি কখনো বিচ্ছিন্ন হননি। কংগ্রেসে যোগদান সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি চাই স্বাধীনতা, আমি চাই বিপ্লব, চাই ইংরেজ রাজত্বের পতন। ভারতবর্ষে ইংরেজ শক্তিকে দুর্বল করার লক্ষ্যে এবং নির্মূল করার স্বার্থে যে কোনো সংগঠনই কাজ করবে, আমি তার সঙ্গে অংশগ্রহণে সর্বদা প্রস্তুত।<br />
৭. বস্তুত মুসলমানদের প্রধান শত্রু ইংরেজদেরকে পরাস্ত করার লক্ষ্যে তিনি হিন্দুদের সঙ্গে ঐক্য স্থাপনে বাধ্য হন। পরিস্থিতির দাবি অনুসারে এটি করা ব্যতিরেকে তার গত্যন্তর ছিলো না। কারণ তৎকালে এককভাবে মুসলিমদের শক্তি এতটুকু ছিল না যার দ্বারা সম্রাজ্যবাদী সরকারকে কাবু করা যায়। এ কারণেই তাকে কংগ্রেস ও অন্যান্য জাতীয়তাবাদী অমুসলিমদের সাথে মিলে ঐক্য গঠন করতে হয়। ঐক্য গঠন সম্পর্কে তিনি বলেন, হিন্দুদের বর্তমান অবস্থায় এতটুকু শক্তি নেই যতটুকু শক্তি রয়েছে ইংরেজদের হাতে। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরিখে এ কথা সুস্পষ্ট যে, মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু ইংরেজ। হিন্দুদের ব্যাপারে শুধু এতটুকু বলা যায় যে, হয়তো ভবিষ্যতে তারা ইংরেজদের কিংবা তাদের চেয়েও বড় ধরনের অনিষ্টকারী হতে পারে। তবে সেটি কেবল ধারণা ও আশঙ্কা মাত্র। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।<br />
৮. শায়খুল ইসলামের দৃষ্টিতে ভারত উপমহাদেশে উল্লিখিত শর্তযুক্ত অভিন্ন জাতীয়তা প্রযোজ্য। ভারতকে আরবের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। ভারতের পরিবেশ আর আরবের পরিবেশ এক নয়। ভারতে বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থান বিদ্যমান। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের শর্তযুক্ত অভিন্ন জাতীয়তাবাদ অনুসরণ করা না হলে ধর্মে-ধর্মে হানাহানি ও সাম্প্রদায়িকতা নির্ঘাত ছড়িয়ে পড়বে। পরিণামে মুসলিম ও অমুসলিম সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইসলামে জিহাদের বিধান আছে কিন্তু সাম্প্রদায়িক হানাহানি ও প্রতিহিংসার বিধান নেই।<br />
৯. পৃথক ভূখণ্ড রচনার ক্ষেত্রে হযরত মাদানীর চিন্তাধারা ছিল অখন্ড ভারত। কারণ তিনি মনে করতেন, পৃথক ভূখন্ডের সিদ্ধান্ত মুসলমানদের জন্য আত্মঘাতী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে ভারত স্বাধীনতার দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়। স্বাধীনতার শুভক্ষণ যত ঘনিয়ে আসে, ভারতের শাসনতন্ত্র ও তার রূপরেখা বিষয়ক প্রশ্ন তত প্রকট হতে থাকে। কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ প্রত্যেকে নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে শাসনতান্ত্রিক মূলনীতি চিন্তাভাবনা করতে থাকে।<br />
স্বাধীন ভারতের শাসনতন্ত্র কিরূপ হবে তা নিয়ে সবচেয়ে বেশী জটিলতা দেখা দেয় মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে। অবশ্য এ জটিলতার যৌক্তিক কারণ ছিল। কেননা সমগ্র ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা মাত্র ৯-১০ কোটি। পাশাপাশি হিন্দুদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ কোটির বেশি। অর্থাৎ মুসলমানরা হিন্দুদের ৪ ভাগের ১ ভাগ মাত্র। কাজেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকার গঠিত হলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ৪ টি সুবায় মুসলিম সরকার গঠিত হলেও মুসলিম সংখ্যালঘু অন্যান্য শুবা এবং কেন্দ্রীয় সরকারে সবসময়ই প্রাধান্য থাকবে হিন্দুদের। পরিণামে মুসলমানরা ভারতে সবসময় ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকবে। মুসলিমলীগ নেতারা পূর্ব থেকেই মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোর সমন্বয়ে একটি পৃথক ভূখন্ড রচনার চিন্তা করেন। জিন্নাহ সাহেব স্পষ্ট করে বলেন যে, আমরা ৫ কোটি মুসলমানের নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে ৩ কোটি মুসলমানের ক্ষতিগ্রস্ততা সহ্য করে যাচ্ছি। কিন্তু লীগের এই চিন্তার সাথে শায়খুল ইসলাম একমত হতে পারেননি। তিনি মনে করেন, পৃথক ভূখন্ড রচনার পদক্ষেপ হিন্দু-মুসলিম সকলের স্বার্থবিরোধী। এ প্রদক্ষেপ দ্বারা ভারতীয়দের বর্তমান সমস্যার নিরসন তো হবেই না বরং আরো জটিল আকার ধারণ করবে।<br />
তিনি আরো বলেন, যারা পৃথক ভূখন্ডের দাবি করছেন, তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের নিরিখে একথা স্পষ্ট যে, খণ্ডিত অংশে শাসন ব্যবস্থা কোন ইসলামী শাসন ব্যবস্থা হবে না। সেটি হবে ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। কাজেই ভারতকে হিন্দু ভূখন্ডে ও মুসলিম ভূখন্ডে খন্ডিত করা হলে হিন্দু ভূখন্ডে মুসলমানদের সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ১৪% আর সর্বনিম্ন ৫%। আনুপাতিক এই হার ঐ ভূখন্ডে মুসলমানদেরকে জীবন্ত সমাধিস্থ করা বৈ কিছুই নয়। অপরদিকে মুসলিম ভূখন্ডে অমুসলিমদের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৫% যা মুসলিম সরকারের জন্য নিত্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে থাকবে। অতএব বিভক্তির পরিণামে হিন্দু ভূখন্ডে ৩ কোটি মুসলমানকে জীবন্ত দাফন করে নিজেরা পৃথকভাবে এমন এক ভূখন্ডে গিয়ে সরকার গঠন করা, যেই সরকারকে অমুসলিমরা সর্বদা অস্থির করে রাখবে এমন সিদ্ধান্ত কোন বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হতে পারে না।<br />
১০. শায়খুল ইসলামের পূর্ণ অসম্মতির উপরে ভারত বিভক্ত হয়। বিভক্তির পর তিনি উভয় ভূখণ্ডের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষিত রাখা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন।তার চরিত্র ছিল ক্লান্তিহীন মর্দে মুমিনের চরিত্র। তাই ভারতবর্ষে মুসলিম মিল্লাতের স্বার্থে তিনি যা কল্যাণ মনে করেছেন সেটি বাস্তবায়নের সকল ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ঐ চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি ভাগ্যকে মেনে নেন এবং পেছনের দিকে না তাকিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মুসলমানদের জন্য যা করণীয় তা সম্পাদনে আত্মনিয়োগ করেন। ভারত বিভক্তির কারণে মুসলমানরা উভয় ভূখন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উভয় ভূখন্ডেই তার শাগরিদ, কর্মী ও ভক্তরা ছিলেন। তিনি প্রত্যেককে স্ব স্ব ভূখণ্ডে অবস্থিত মুসলমানদের সেবায় আত্মনিয়োগ এর আদেশ দেন। এ আদেশের কারণে পাকিস্তান ভূখন্ডে অবস্থিত বহু জমিয়ত কর্মী পরবর্তীকালে মুসলিমলীগে যোগদান করে পাকিস্তানের সেবায় নিয়োজিত হয়।<br />
১১. বিভক্ত ভারতের মুসলমানরা যখন হতাশাগ্রস্থ শায়খুল ইসলাম মাদানী ভারতীয় মুসলমানদের ভাগ্যোন্নয়নের পথ নির্দেশ করে ১৯৪৮ সালে জমিয়তের বোম্বাই অধিবেশনে বলেন, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ২ সপ্তমাংশ থেকে ১ সপ্তমাংশে নেমে গিয়েছে। এবং তাদের বহুকালের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবুও ইন্ডিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত মুসলমানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলা যায় না। তবে এর জন্য প্রয়োজন মুসলমানদের নিজেদের কাজকর্ম ও নিজেদের অবদানের দ্বারা নিজেদেরকে দেশের কল্যাণকামী প্রমাণ করা। যদি মুসলমানরা নিজেদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে চায় তাহলে কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে নিজেদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করা আবশ্যক। যদি নিজেদেরকে সত্যিকারের দেশ প্রেমিক ও দেশবাসির সেবক হতে পারেন নিঃসন্দেহে বিজয় ও সফলতা আপনাদের পদচুম্বন করবে।<br />
১২. ইসলামী রাজনীতি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, ইসলামী রাজনীতির ব্যাপারে দুটি প্রান্তিক অভিমত পাওয়া যায়। কারো মতে ইসলামে রাজনীতি নেই। আবার কেউ কেউ বলেন, ইসলাম মানেই রাজনীতি। শায়খুল ইসলাম উপর্যুক্ত দুটি অভিমতকেই অতিশয়তা ও বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন। তার মতে রাজনীতি করা ইসলাম বহির্ভূত নয়। সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে রাজনীতি চর্চায় ইসলামের কোথাও নিষেধ করা হয়নি। পক্ষান্তরে মিথ্যা, প্রতারণা ও শঠতা অবলম্বন করা, সেটি রাজনীতির ক্ষেত্রে হোক কিংবা অন্য যে কোন ক্ষেত্রে হোক পরিত্যাজ্য। মিথ্যা ও প্রতারণা জঘন্য গুনাহের কাজ।<br />
অবদান:<br />
মাদানীর খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন :<br />
খেলাফত আন্দোলনের পাশাপাশি যখন অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়, তখন সরকারী অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সরকার পরিচালিত স্কুল-কলেজ-মাদরাসা সব শুন্য হতে শুরু করলো। অসহযোগ আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য মওলানা মাদানী যে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, তা ভারতের মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে এক গৌবরজনক অধ্যায় হিসাবে ভাস্বর হয়ে থাকবে। তিনি ‘রিসালা-এ তরকে মুয়ালাত’ নামে একখানা তথ্য ও যুক্তির্পূণ পুস্তিকা রচনা করে ইংরেজদের ব্যাপারে উত্তেজিত ভারতবাসীর জেহাদী আগুনকে অধিক প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন। পুস্তকটি এতই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল যে, শেষ পর্যন্ত ইংরেজ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করতে বাধ্য হয়। তাতে মওলানা মাদানী যুক্তি প্রমাণ ও শরীয়তের হুকুম-আহকামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, বৃটিশ শক্তি তদানীন্তন মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র তুর্কী খেলাফতের মূলোৎপাটন করতে বদ্ধপরিকর। যারা মিসর, হেজাজ বিশেষতঃ মক্কা-মদীনা ভূমির উপর নানা ষড়যন্ত্রজাল বিস্তার করে নির্যাতন ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, যারা আরব জাহানের বিষফোঁড়া ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে, যারা মুসলিম জাহানের মেরুদণ্ড তুরস্ক সাম্রাজ্যকে আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা শুধু ইসলামী শরীয়ত বিরোধীই নয়, মানবতা বিরোধীও বটে। বলাবাহুল্য, মওলানার এই পুস্তক বৃটিশ-ভারতে ইংরেজদের ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে তোলে।<br />
করাচীর মোকদ্দমা ও মাওলানা মাদানী :<br />
বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রধান সম্বল ছিল ভারতের জনবল ও সম্পদ। তুর্কী খেলাফতের অধীন মক্কা মদীনার পবিত্র ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলার জন্য যে বৃটিশ সামরিক শক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল, তাতে সৈন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল প্রধানতঃ ভারত থেকেই। এতে করে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা প্রকারান্তরে মুসলিম সেনাবাহিনী দ্বারাই তুরস্ক, সাইপ্রাস এবং সমস্ত মধ্যপ্রাচ্যের আরব মুসলমানদের বুকে গুলি বর্ষণ করাচ্ছিল। মুসলমানদেরকে দিয়ে কুচক্রী সাম্রাজ্যবাীদের চালিত জগত জুড়ে মুসলিম নিধনের এই ন্যাক্কারজনক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় মুসলমানরা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ৮, ৯ ও ১০ জুলাই তারিখে করাচীতে ‘নিখিল ভারত খেলাফত কমিটি’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মওলানা মাদানী এই প্রস্তাব উত্থাপন করলেন যে, যে কোন মুসলমানের পক্ষে বৃটিশ সৈন্যবাহিনীতে চাকুরী করা বা চাকুরীকে উৎসাহিক করা সম্পূর্ণ হারাম। বৃটিশ সৈন্যবাহিনীতে কর্মরত সকল মুসলিম সৈনিকের নিকট একথা পৌঁছিয়ে দেয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। সম্মেলনে মওলানা মাদানীর এই বিপ্লবাত্মক প্রস্তাবটি বিপুল উত্তেজনাপূর্ণ সাড়ার মধ্য দিয়ে গৃহীত হয় এবং মূহুর্তের মধ্যে সারা ভারতে একথা ছড়িয়ে পড়ে। মওলানা মাদানীর এ প্রস্তাবকে প্রকাশ্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে বৃটিশ সরকার ঘোষণা করে এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০, ১৩১ ও ৫০৫ ধারা মতে মওলানা মাদানী ও মওলানা মুহাম্মদ আলী জাওহার, মওলানা শওকত আলী, ডক্টর শায়ফুদ্দীন কিচলু, মওলানা নিসার আহমদ কানপুরী, পীর গোলাম মুজাদ্দিদ সিন্ধী ও স্বামী শঙ্কর আচার্যের বিরুদ্ধে এক রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক মোকদ্দমা দায়ের করে।<br />
তাবলিগের মারকায ও ভারতে মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষা:<br />
৪৭’ এ দেশভাগের সময় লোকেরা বারবার তাবলীগ মারকাযের প্রধান মাওলানা ইউসুফ রহ. কে হিজরতের জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকে। কেউ কেউ বিমানের ২৫-৩০ টি টিকেট হাতে দিয়ে বলে যে, পরিবার-পরিজন নিয়ে পাকিস্তান চলুন। তাঁদের পরামর্শ ছিল, ভারতের অধিকাংশ মুসলমান বর্তমানে পাকিস্তান চলে গেছেন। কাজেই দীনি দাওয়াত ও ইসলাহের কাজ শক্তিশালীভাবে করতে হলে আপনার সেখানে চলে যাওয়া জরুরি। তাছাড়া উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লিতে যে হারে মুসলমানদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে এখানে দীনি কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ আশা করা অসম্ভব। তাদের পীড়াপীড়ির জবাবে মাওলানা ইউসুফ সাহেব একটি কথাই বলতেন, ‘যদি ভাই সাহেব (হযরত মাওলানা যাকারিয়্যা রহ.) হিজরত করে যান তাহলে আমিও যাবো, নয়তো যাবো না।’<br />
হযরত শায়খুল হাদিস মাওলানা যাকারিয়্যা রহ. নিজে কেন পাকিস্তাান হিজরত করেননি, সেই কারণ তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা হিজরতের ব্যাপারে হযরত মাদানি রহ. এর সঙ্গে পরামর্শ করলাম। হযরত মাদানি আমাদের বক্তব্য শুনে একটি ঠাণ্ডা নিশ্বাস ছাড়লেন। তাঁর চোখে তখন অশ্রু। দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে তিনি বললেন, “আমাদের পরিকল্পনা সফল হতে পারেনি। যদি আমাদের পরিকল্পনা মেনে নেয়া হতো তাহলে এতো রক্তারক্তি যেমন হতো না, তেমনই আবাসস্থল বিনিময়ের প্রয়োজনও দেখা দিতো না। এখন আমি কাউকে চলে যেতে বারণ করি না। যদিও মদিনা শরিফে আমার থাকার জায়গা রয়েছে। আমার ভাই সাইয়্যিদ মাহমুদ আমাকে মদিনায় চলে যেতে বারবার পীড়াপীড়ি করছেন; কিন্তু আমি ভারতীয় মুসলমানদেরকে নিঃস্বতা, অসহায়ত্ব, ত্রাস ও প্রাণভয়ের এই পরিস্থিতিতে ফেলে রেখে অন্যত্র কোথাও যাবো না। কাজেই যে ব্যক্তি নিজের জীবন-সম্পদ, ইজ্জত-সম্মান ও দীন-দুনিয়া এখানকার মুসলমানের জন্য উৎসর্গ করতে সম্মত, সে-ই এখানে থাকবে। আর যার পক্ষে এহেন ত্যাগ-তিতিক্ষা বরণ করা সম্ভব নয় তার চলে যাওয়াই উচিত।”<br />
হযরত মাদানির এ বক্তব্য শুনে আমি দ্রুত বলে উঠলাম, “হযরত, আমি আপনার সাথে আছি।” তখন হযরত আবদুল কাদির রায়পুরি রহ.ও বললেন, “তোমাদের দু’জন ব্যতিরেকে আমার পক্ষেও যাওয়া অসম্ভব।” হযরত মাদানি রহ. এর পরামর্শে শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ. পাকিস্তান হিজরতের সিদ্ধান্ত নেননি বিধায় হযরতজি মাওলানা ইউসুফেরও যাওয়া হয়নি। ফলে তাবলিগের মারকায কেন্দ্র করে অসংখ্য মুসলমান ভারতে রয়ে যায়। সেদিন যদি হযরত শায়খ মাদানি রহ. ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে আজ হয়তো ভারত থেকে মুছে যেত ঈমান-আমল ও দীনের মারকায। হয়তো হারিয়ে যেতো খোদ মুসলমানদেরই অস্তিত্ব, যেমনটি ঘটেছে স্পেনের গ্রানাডা-কর্ডোভায়। শায়খুল ইসলাম মাদানি রহ. এর এই এক সিদ্ধান্ত ভারতে মুসলমানদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার শক্তিশালী বুনিয়াদ রচনা করে দিয়েছিল। মদনী রহ. সে সিদ্ধান্ত না দিলে ভারত হত একক হিন্দু রাষ্ট্র।</p>
<p>সাম্প্রদায়িক উগ্রতা প্রশমন:<br />
১৯২৩ সালে অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত হওয়া থেকে ১৯৩০ সালে কংগ্রেস কর্তৃক পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গৃহিত হওয়া পর্যন্ত মোট ৬ বছর কাল ভারতবর্ষের রাজনীতিতে চরম বিশৃংখলা ও অস্থিরতা বিরাজ করে। স্বাধীনতা আন্দোলন তখন পারষ্পরিক ধর্মীয় বিরোধ ও সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসায় রুপান্তরিত হয়। অসহযোগ আন্দোলনে খেলাফতের নেতৃত্বে হিন্দু মুসলিম সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পড়লে ক্ষমতাসীন ইংরেজ নিজেদের ভবিষ্যত সম্পর্কে দারুন উদ্বিগ্ন হয়ে গিয়েছিল। বৃটিশ উপলব্ধি করে যে, ভারতীয়দের এ ঐক্য যেকোন মূহুর্তে ইংরেজ আধিপত্য নির্মূল করতে সক্ষম। তাই সরকার সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ভারতীয়দের ঐক্য ভেঙ্গে দেয়ার এবং সাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিহিংসা উস্কে দেয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। করাচির মামলায় হযরত শায়খুল ইসলাম মাদানী, মাওলানা মুহাম্মদ আলী জাওহার প্রমুখ নেতা কারারুদ্ধ হওয়ার পর অসহযোগ আন্দোলনের দায়ে কংগ্রেস ও খেলাফত কমিটির আরো বহু নেতা কারাগারে প্রেরিত হন। মহাত্মাগান্ধি, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, চিত্ত রঞ্জন দাস, মতিলাল নেহেরুসহ রাজবন্ধীগণের সংখ্যা তখন ২০ হাজারে গিয়ে দাড়িয়েছিল। ইংরেজরা নেতাদের গণ গ্রেপ্তার ও সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব উস্কে দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনের পট পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ঘোলাটে করে ফেলে। হযরত শায়খুল ইসলাম মাদানী দুই বছর জেল খেটে মুক্তির পর সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসা প্রতিরোধে তৎপর হন। কোকনাদের ভাষনে তিনি এ ব্যাপারে প্রধানত ইংরেজ সরকারকে দায়ী করেন। তিনি সাম্প্রদায়িক উগ্রতা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হিসেবে সকলকে স্বাধীনতা আন্দোলন জোরালো ও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন। সিলেটে আগমনের পর জমিয়ত ও কংগ্রেসের বিভিন্ন সভায় তিনি জনগনকে সাম্প্রদায়িক উগ্রতা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানান। তিনি হিন্দু উগ্রপন্থী নেতার সংকীর্ণ চিত্ততার অভিযোগ করে বলেন, পরিতােেপর বিষয় যে, হিন্দু সম্প্রদায় ও তাদের নেতাদের বিন্দুমাত্র অনুভূতি হচ্ছে না। তারা মনের অপ্রশস্ততা ও বিবেকের অপরিপক্কতার দরুন উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সম্মুখে এক কঠিন বাধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। ফলে স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়টি বিলম্বিত হয়ে যাচ্ছে। যদি এ অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে ভারতবর্ষ দিনে দিনে এমন অধঃপতনের দিকে চলে যাবে, যেখান থেকে মুক্তির কোন উপায় অবশিষ্ট থাকবে না। তাই সকলে সাম্প্রদায়িক উগ্র মানসিকতা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে পুনরায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। এভাবে তিনি সাম্প্রদায়িক উগ্রতা প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।</p>
<p>দেওবন্দ মাদরাসার ভাঙ্গনরোধ:<br />
১৯২৭ সালে দারুল উলূম এক ভয়াবহ দুর্যোগের সম্মুখিন হয়। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ৬১ বছর পর এ প্রথমবার অভ্যন্তরিন মতবিরোধের পরিণতিতে দারুল উলূম দেওবন্দ অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে পড়েছিল। ১৯১৪ সালে তৎকালীন সদরুল মুদাররিসিন হযরত শায়খুল হিন্দ হিজায যাত্রার প্রাক্কালে নিজের প্রিয় ও সুযোগ্য শাগরিদ আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরীকে ঐ পদে মনোনীত করে যান। হযরত কাশ্মিরীর অপরিসীম মেধা ও যোগ্যতা সর্বজন স্বীকৃত। হাদিস শাস্ত্রে অসামান্য দক্ষতা ও সুগভীর প্রজ্ঞার কারণে তদানীন্তন দেশের ইমাম বুখারী নামে অবিহিত ছিলেন। তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণের পরে দারুল উলূমের পরিচিতি ও সুখ্যাতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। উপমহাদেশ ও বহির্বিশ্ব থেকে জ্ঞান পিপাসু শিক্ষার্থীরা দলে দলে ছুটে আসে। কিন্তু ১২ বছর পর মাদরাসার প্রশাসন বিভাগের সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের মতানৈক্য ঘটে। তর্ক-বিতর্ক থেকে বিষয়টি বিবাদে রূপ নেয়। জনসাধারণ্যে এবং বাজারে, ঘাটে অলিতে-গলিতে এসব ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি পেপার পত্রিকায় বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি পর্যন্ত গড়ায়। ফলে এমন এক উদ্ভূত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে, আল্লামা কাশ্মিরী মাদরাসা থেকে ইস্তেফা দিয়ে চলে যান। পরিস্থিতি এত নাজুক হয়ে ওঠে যে, দারুল উলূম ভেঙ্গে যাবার উপক্রম। তখন নির্বাহী মুহতামিম ছিলেন, মাওলানা হাবিবুর রহমান উসমানী। তিনি শায়খুল ইসলামের উস্তাদ। চিঠি মারফত শায়খ মাদানীকে সিলেট থেকে দেওবন্দ আসার নির্দেশ দেন। তিনি এসে মাদরাসার অবাঞ্চিত পরিস্থিতি দেখে খুবই দুঃখিত হন এবং আল্লামা কাশ্মিরীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। নির্বাহী মুহতামিম মাওলানা হাবিবুর রহমান মাদরাসার পরিস্থিতিকে সামাল দেয়া এবং আল্লামা কাশ্মিরীর ঘাটতি পূরণের জন্য শায়খুল ইসলাম মাদানীকে মাদরাসার দায়িত্ব গ্রহণে বাধ্য করেন। কিন্তু তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে অপারগতা পেশ করে। অবশেষে তিনি ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন ও রাজনীতি করার পূর্ণ স্বাধীনতার শর্তে দারুল উলূমের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সদরুল মুদাররিসিনের পদে তাঁর যোগদানের ফলে বিগত দেড় বছরের অভ্যন্তরিন সমস্যা দ্রুত প্রশমিত হয়ে যায়। দারুল উলূম নিশ্চিত বিনাশ থেকে রক্ষা পায়। মাওলানা আবদুস সালাম কিদওয়ায়ী বলেন, বুযুর্গানে দীনের অর্ধ শতাব্দীকালের অমূল্য সঞ্চয় ধুলায় বিলিন হওয়ার যে আশংকা দেখা দিয়েছিল, শায়খ মাদানীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ এ বিরাট ক্ষতি থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করেন।<br />
প্রভাব:<br />
মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. শতাব্দির প্রতিভাধর এক প্রভাবশালী ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি শায়খুল আরব ওয়াল আজম উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তার প্রভাব ছিল সর্বত্র। ইসলামী, অনৈসলামী, রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, আলেম-উলামা, সাধারণ জনতা সকলের মাঝে তিনি সমাদৃত। তিনি অকুণ্ঠচিত্তে কথা বলতেন। ইংরেজ বেনিয়ারা তার হুংকারে তটস্থ থাকতো। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে তিনি যেমন শেরেতাজ ছিলেন। অরাজনৈতিকদেরও ছিলেন তিনি মধ্যমনি। অনেক আলেম আছেন যারা রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন, রাজনীতি পছন্দ করেন না, তারাও শায়খুল ইসলামকে ভক্তি করেন, শ্রদ্ধা করেন, ভালবাসেন। তার বিরুদ্ধাচারণ করার কারো হিম্মত হয়ে ওঠেনি। আশরাফ আলী থানভী রহ. নিজে রাজনীতি করতেন না, কিন্তু শায়খ মাদানীর রাজনীতির বিরুদ্ধাচরণ কখনো করেননি। বরং শায়খুল ইসলাম যখন রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বিপরীতে তাঁর রাজনীতি করার অধিকার দাবি করলেন তখন অনেকে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকলেও হাকিমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানবী রহ. সকলকে অবাক করে দিয়ে শায়খ মাদানীর শর্ত মেনে নিলেন।</p>
<p>পর্যালোচনা:<br />
মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. একটি নাম, জীবন্ত অনেকগুলো আন্দোলন, ভারত উপমহাদেশের স্বনামধন্য প্রখ্যাত আলিম, বরেণ্য মুহাদ্দিস, বিচক্ষণ রাজনীতিক, ক্ষণজন্মা সাধক, আধ্যাত্মিকপুরুষ, এমন আরো বহু পরিচয়-অভিধায় তাঁকে চিহ্নিত করা সম্ভব। এক কথায় বলতে গেলে, দীন ইসলামের প্রচার-প্রসাররের এমন কোনো শাখা-পল্লব নেই, যা মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. এর অবদানের বারিধারায় সিঞ্চিত হয়নি। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না; বহুমুখি গুণ-প্রতিভার অধিকারী ইসলামের সুউচ্চ এক প্রাণবন্ত মিনার, জীবন্ত এক ইলমী প্রতিষ্ঠান। শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. ছিলেন জ্ঞান-পান্ডিত্য, তাকওয়া-পরহেজগারি, ইবাদত ও দাওয়াত- এক কথায় আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের বিজয় ও প্রতিষ্ঠা সাধনের ভুবনে এক কিংবদন্তি পুরুষ। তিনি শাইখুল হিন্দ হযরত মাহমুদ হাসান দেওবন্দি রহ.-এর যোগ্যতম উত্তরসূরী। এই মনীষীর ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তেলাওয়াত, সিয়াম সাধনা, তারাবি ও রাতভর তাহাজ্জুদের কান্নাপ্লাবিত সাধনা ছিল উপমাময়। উপমহাদেশের বরকতপূর্ণ এই জমিন-সীমানায় যে ক’জন বিপ্লবী আলিমে দীনের আবির্ভাব ঘটেছে, ইংরেজ বেনিয়াদের নানামুখি ‘নীল নকশা’ থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের জান-মাল-ঈমান রক্ষার আন্দোলন করেছেন যাঁরা, সাইয়্যিদহুসাইন আহমদ মাদানি রহ. তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তিনি ইসলামী আন্দোলনের অগ্রগামী একজন সিপাহসালার। জীবন সাধনার নানামুখি কর্মদক্ষতা, চিন্তা-ফিকির, সংস্কার-মানসিকতা এবং গুণ-বৈশিষ্ট্যের বিচারে শতাব্দির প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার আসকালানী রহ. -এর সাথে তুলনা করা হতো তাঁকে। মাওলানা মাদানির ব্যাপারে বিজ্ঞ অনেকের ভাষ্য এমন যে, ভারত উপমহাদেশের সীমানায় মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানিই একমাত্র আলিম; দীন ইসলামের সব বিষয়-দিক ও শাখা-পল্লবে সমান দক্ষতা এবং সুদীপ্ত পদচারণা ছিল যাঁর। শায়খুল হিন্দের ইন্তেকালের পর শায়খুল ইসলাম মাদানীকে তার স্থলাভিসিক্ত মনে করতেন সকলে। শায়খুল হিন্দের সকল ছাত্র, সকল কর্মী ও ভক্তবৃন্দের কাছে এক বাক্যে ‘জা-নাশীনে শায়খুল হিন্দ’ উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। সে সময় রাজনৈতিক তৎপরতা জোরেসোরে চলছিল। দেশে ছোট বড় নেতৃবৃন্দের কোন অভাব ছিল না। এতদসত্ত্বেও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শায়খুল ইসলামকে হযরত শায়খুল হিন্দের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মেনে নেন। পত্র-পত্রিকায় তাঁর নামের পূর্বে উল্লেখ থাকত ‘জা-নাশীনে শায়খুল হিন্দ’।</p>
<p>লেখক : মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ফেনী জেলা</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a7%9f%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a6-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3342</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>

<!--
Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: https://www.boldgrid.com/w3-total-cache/

Page Caching using disk: enhanced 

Served from: icabdlibrary.com @ ২০২৬-০৪-১৯ ১১:১২:১৩ by W3 Total Cache
-->