<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss"
	xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#"
	>

<channel>
	<title>দারসুল কুরআন &#8211; আইসিএবিডি লাইব্রেরি</title>
	<atom:link href="https://icabdlibrary.com/category/darsul-quran/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://icabdlibrary.com</link>
	<description>ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর অনলাইন লাইব্রেরি</description>
	<lastBuildDate>Sun, 05 Jul 2020 15:55:21 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.4.14</generator>

<image>
	<url>https://i2.wp.com/icabdlibrary.com/wp-content/uploads/2020/06/cropped-logo-test22255.png?fit=32%2C32&#038;ssl=1</url>
	<title>দারসুল কুরআন &#8211; আইসিএবিডি লাইব্রেরি</title>
	<link>https://icabdlibrary.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
<site xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">194529589</site>	<item>
		<title>সুরা ফাতিহা : আয়াত নং ০৭; ‘তাদের পথ নয়, যারা অভিশপ্ত এবং যারা পথভ্রষ্ট’</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%82-%e0%a7%a6%e0%a7%ad-%e0%a6%a4%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%82-%e0%a7%a6%e0%a7%ad-%e0%a6%a4%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:55:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3357</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সুরা ফাতিহার সপ্তম আয়াতটি পূর্ববর্তী আয়াত ‘আন’আমতা আলাইহিম’-এর ব্যাখ্যাবোধক। অর্থাৎ যাঁদেরকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর করুণা দানে ধন্য করেছেন, তারাই আল্লাহ’র গজব ও পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্ত বা সুরক্ষিত।<br />
এই দুটি আয়াতে মানুষের তিনটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। জীবন চলার পথ বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে মানুষ ৩টি দলে বিভক্ত। এক দল আল্লাহর পথ বেছে নেয় এবং আল্লাহর দেয়া জীবন-বিধান অনুযায়ী নিজেদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনা করে। এ দল সবসময় আল্লাহর রহমত, অনুগ্রহ ও দয়া লাভ করে। প্রথম দলের বিপরীতে আরেকটি দল রয়েছে যারা সত্য চেনার পরও আল্লাহকে ছেড়ে গায়রুল্লাহকে বেছে নিয়েছে এবং নিজের কামনা-বাসনা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-পরিজন ও সমাজের ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর প্রাধান্য দেয়। এ দলের লোকদের মধ্যে তাদের কৃতকর্মের প্রভাব ধীরে ধীরে গেঁড়ে বসে এবং তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়। তারা আল্লাহর সান্নিধ্য এবং দয়া লাভের পরিবর্তে ধ্বংসের অতল গহ্বরে পতিত হয়, আর আল্লাহর গজবের মধ্যে পড়ে। এই আয়াতে এ দলকে “মাগযুবি আলাইহিম” বা ক্রোধনিপতিত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তৃতীয় আরেকটি দল রয়েছে যাদের কোন সুনির্দিষ্ট পথ নেই এবং কোন্ পথে চলবে তা ঠিক করতে পারেনি। তারা দিগভ্রান্ত এবং বিভ্রান্ত। এ আয়াতে তাদেরকে “যাল্লিন” বা পথভ্রষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তারা প্রতিদিন একেক পথ বেছে নেয় কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না।<br />
প্রতিশোধ স্পৃহার উল্লাস ও উদ্দীপনার নাম গজব। কিন্তু এর সম্পর্ক যখন আল্লাহ’র সঙ্গে করা হয়, তখন তার মর্ম হবে গজবের পরিণাম বা পরিসমাপ্তি। ‘যালালাহ’ শব্দটি হেদায়েতের পথের বিপরীত অর্থবোধক শব্দ। অর্থাৎ যে পথ আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছায়, ঐ পথের প্রতি বিমুখতাই ‘যালালাহ’ বা পথভ্রষ্টতা।<br />
এখন একটি প্রশ্ন জাগে- ক্রোধের শিকার ও পথভ্রষ্ট কারা? এর উত্তরে হজরত আদি বিন হাতেম রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যাদের প্রতি গজব অবতীর্ণ হয়েছে তারা ‘ইয়াহুদি’, আর যারা পথভ্রষ্ট তারা ‘খ্রিস্টান’। -তিরমিজী<br />
উক্ত হাদিস দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে- ‘মাগযুব আলাইহিম’ বলতে শুধু ইয়াহুদিরাই উদ্দেশ্য আর ‘যাল্লিন’ দ্বারা শুধু খ্রিস্টানরাই উদ্দেশ্য। বরং প্রত্যেক প্রকারের পথভ্রষ্ট, কাফের, ফাসেক, অবাধ্য, বেদাতী তাদের স্তর হিসেবে এর অন্তর্ভুক্ত।<br />
তাফসিরে মাযহারী’র লেখক মাওলানা সানাউল্লাহ পানিপথী রহ. বলেন, ‘গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায যাল্লিন’ অর্থাৎ অভিশপ্তÍ ও পথভ্রষ্ট- এ শব্দ দু’টিতে সাধারণভাবে সকল সত্য প্রত্যাখ্যানকারী, অবাধ্য এবং বেদাতী সম্প্রদায় শামিল রয়েছে।<br />
তাফসিরে মা‘আরিফুল কুরআনে এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে- ‘মাগযুব আলাইহিম বলতে ঐ সকল লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে- যারা ধর্মের হুকুম-আহকামকে বুঝে-জানে, তবে স্বীয় অহমিকা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের বশবর্তী হয়ে বিরুদ্ধাচরণ করে। অন্য শব্দে বলা যায়- যারা আল্লাহ তা‘আলার আদেশ মান্য করতে গাফলতি করেছে। যেমন, সাধারণভাবে ইয়াহুদিদের নিয়ম ছিল, সামান্য স্বার্থের কারণে দীনের নিয়ম-নীতি বিসর্জন দিয়ে তারা নবী রাসুলগণের অবমাননা- এমনকি হত্যা পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করত না।<br />
আর যাল্লিন তাদেরকে বলা হয়- যারা না বুঝে অজ্ঞতার দরুন ধর্মীয় ব্যাপারে ভুল পথের অনুসারী হয়েছে এবং ধর্মের সীমালঙ্ঘন করে অতিরঞ্জনের পথে অগ্রসর হয়েছে। যথা- নাসারাগণ। তারা নবীর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার প্রদানের নামে বাড়াবাড়ি করে নবীদেরকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।<br />
সুতরাং আয়াতের সারমর্ম হচ্ছে- আমরা সে পথ চাই না, যা নফসানী উদ্দেশ্যের অনুগত হয় এবং মন্দকাজে উদ্বুদ্ধ করে ধর্মের মধ্যে সীমালঙ্ঘনের প্রতি প্ররোচিত করে। সে পথও চাই না, যে পথ অজ্ঞতা ও মুর্খতার দরুন ধর্মের সীমারেখা অতিক্রম করে। বরং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সোজা-সরল পথ চাই। যার মধ্যে না অতিরঞ্জন আছে, আর না কম-কছুরী আছে এবং যা নফসানী প্রভাব ও সংশয়ের উর্ধ্বে।’<br />
সুরা ফাতিহার পর নামজে ও নামাজের বাইরে আমিন বলা সুন্নাত। আমাদের হানাফি মাজহাবে নামাজে নীরবে আমিন বলতে হয়। আমিন- এর অর্থ হল ‘এরূপ করো’ অথবা ‘কবুল করো’। ‘আমিন’ এটা কুরআনের শব্দ নয়।<br />
সুরা ফাতিহার আয়াত সাতটির তাফসির শেষ হয়েছে। এখন সমগ্র সুরার সারমর্ম হচ্ছে এ দোয়া- হে আল্লাহ্! আমাদিগকে সরল পথ দান করুন। কেননা সরল পথের সন্ধান লাভ করাই সবচেয়ে বড় জ্ঞান ও সর্বাপেক্ষা বড় সফলতা। বস্তুতঃ সরল পথের সন্ধানে ব্যর্থ হয়েই দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি ধ্বংস হয়েছে। অন্যথায় অ-মুসলমানদের মধ্যেও সৃষ্টিকর্তার পরিচয় লাভ করা এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথ অনুসরণ করার আগ্রহ-আকুতির অভাব নেই। এ জন্যই কুরআন শরিফে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় পদ্ধতিতেই সিরাতে মুস্তাকিমের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আর সুরায়ে ফাতিহাতে নবী-অলী’র পথকেই ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ বলা হয়েছে। সুরা ফতিহাকে ‘উম্মুল কুরআন’ বলা হয়। যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা বুঝতে পারল সে গোটা কোরআন শরিফ ও ইসলামকে বুঝতে পারল।<br />
(সমাপ্ত)</p>
<p>লেখক : মুফতি আবদুর রহমান গিলমান. সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%82-%e0%a7%a6%e0%a7%ad-%e0%a6%a4%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3357</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আমানতদারিতা</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:13:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3315</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ভূমিকা : আমানত একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ গচ্ছিত রাখা, নিরাপদ রাখা। সাধারণত কারো নিকট কোন অর্থ-সম্পদ বা কথা গচ্ছিত রাখা কে আমানত বলা হয়। তবে ব্যাপক অর্থে শুধু ধন-সম্পদ নয়; বরং যেকোনো জিনিস গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলে। যেমন একজনের জান-মাল সম্মান কথা প্রতিজ্ঞা সবকিছুই অন্যের নিকট আমানতস্বরুপ। পবিত্র কোরআনের আলোকে আমানতের ও আমানতদারিতার গুরুত্ব আলোচনা করা হবে। যিনি গচ্ছিত সম্পদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেন এবং তা প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেন তাকে বলা হয় আমিন বা আমানতদার।</p>
<p>পবিত্র কোরআনে আমানতের গুরুত্ব :<br />
&#8220;নিশ্চয় আল্লাহ তা&#8217;আলা তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন (প্রত্যেক) আমানতসমূহ তার হকদারের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালা করবে, তখন ইনসাফভিত্তিক ফয়সালা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে সুন্দর উপদেশ দেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সবকিছু শোনেন এবং দেখেন।&#8221; (সূরা নিসা-৫৮)</p>
<p>উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা :<br />
আলোচ্য আয়াত প্রমাণ করে যে, আমানত সংরক্ষণ করা এবং তা যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেকের জন্য ওয়াজিব। কেননা অমর তথা নির্দেশ সূচক শব্দ শুধুমাত্র ওয়াজিবের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর এই আয়াতে যেহেতু আল্লাহ আমানত সংরক্ষণের নির্দেশ প্রদান করেছেন এজন্য প্রত্যেক মানুষের উপর আমানত সংরক্ষণ করা এবং তা প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়া ওয়াজিব। এর বিপরীত কারা হারাম ও কবীরা গুনাহ। আমানত রক্ষা করা আখলাকে হামিদাহ-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সচ্চরিত্র ব্যক্তির মধ্যে আমানতদারী বিশেষভাবে বিদ্যমান থাকে। আমানত রক্ষা করা আল্লাহ তাআলার নির্দেশ।</p>
<p>আমানত সংরক্ষণকারীরা জান্নাতুল ফেরদৌসের ওয়ারীশ হবে :<br />
&#8220;আর যারা নিজেদের আমানত ও অঙ্গীকার সমূহ পূর্ণ করে ; যারা নিজেদের নামাজ সমূহ হেফাজত করে; তারাই হবে জান্নাতের ওয়ারিশ; তারা জান্নাতুল ফেরদৌসের ওয়ারিশ হবে এবং সেখানে চিরকাল থাকবে।&#8221; (সূরা মুমিনুন : ৮-১১)</p>
<p>উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা :<br />
উপরোক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, খরিদ করা ব্যতীত উত্তরাধিকার সূত্রে কোন কিছুর মালিক হওয়া কে ওয়া ওয়ারিশ বলা হয়। আলোচ্য আয়াত সমূহ তিনটি গুনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, যাদের মধ্যে এই তিনটি গুণ থাকবে তাদেরকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতুলফেরদাউসের ওয়ারিশ বানিয়ে দিবেন।</p>
<p>তিনটি গুণ হল :<br />
১. যারা যথাযথভাবে আমানত সংরক্ষণ করে। ২. যারা ওয়াদা ঠিক রাখে। ৩. যারা যথাসময়ে নামাজ আদায় করে।</p>
<p>আমানতের ক্ষেত্রসমূহ :<br />
কারো নিকট কোন দ্রব্য বা জিনিসপত্র রাখা হলে তা অবশ্যই যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। গুচ্ছিত দ্রব্যের কোনরূপ পরিবর্তন করা যাবে না। তা নিজ কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বরং প্রকৃত মালিক যখন চাইবে তখন তার ফিরিয়ে দিতে হবে। এটাই আমানতের ইসলামী নীতি ও পদ্ধতি।</p>
<p>আমানতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যাপক। শুধু মানবসম্পদ এই আমানত নয় বরং কথা, কাজ, মান -সম্মান ও আমানত হতে পারে। কেউ বিশ্বাস করে কোন কথা বললে এবং তার গোপন রাখতে বললে সে কথা ও আমানত স্বরুপ। সে কথা অন্যের নিকট বলে ফেললে আমানতের খিয়ানত করা হয়।</p>
<p>ইসলামে মানুষের প্রতিটি দায়িত্ব ও কর্তব্য আমানত স্বরুপ। ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি মানুষকে আরও বহু দায়িত্ব পালন করতে হয়। মানুষের এসব পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক দায়িত্ব আমানত হিসেবে গণ্য।</p>
<p>আমানতের কতিপয় ক্ষেত্র :<br />
১. মাতা-পিতার নিকট সন্তান আমানত স্বরুপ।<br />
২. সন্তানের নিকট মাতা পিতা আমানত।<br />
৪. ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র আমানত।<br />
৫. কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট ঐ প্রতিষ্ঠান আমানত স্বরুপ।<br />
৬. সরকারের নিকট রাষ্ট্রের সকল সম্পদ ও জনগণের অধিকার আমানত স্বরুপ। ৭.জনগণের নিকট রাষ্ট্র আমানত স্বরুপ।</p>
<p>উপসংহার :<br />
উপরোক্ত আলোচনা ও আয়াতের আলোকে বুঝা যাচ্ছে যে, আমানত একটি মহৎ গুণ। নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে মানুষ আমানত রক্ষা করতে পারে। আমরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে আমানত রক্ষা করতে সচেষ্ট হব। জীবনে আর কখনো আমানতের খিয়ানত করা যাবে না। জীবনে আর কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করা যাবে না।</p>
<p>আল্লাহ আমাদের আমল করার তওফিক দান করুন-আমিন।</p>
<p>লেখক : মুহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মুবাল্লিগপ্রত্যাশী, ইশা ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম মহানগর</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3315</post-id>	</item>
		<item>
		<title>লোভ-লালসা</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ad-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%b8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ad-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%b8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:12:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3309</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: right;">أَلۡهَىٰكُمُ ٱلتَّكَاثُرُ ۝ حَتَّىٰ زُرۡتُمُ ٱلۡمَقَابِرَ<br />
&#8220;বেশি বেশি পাওয়ার লোভ তোমাদেরকে আমৃত্য মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।’ (সূরা তাকাসুর, আয়াত : ১-২)</p>
<p>মানুষের ‘চাহিদা’ এমন এক জিনিস যা অল্পে তুষ্ট হয় না। যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি পাওয়ার আশায়, বেশি লাভের নেশায় সে মোহাবিষ্ট থাকে।প্রয়োজনের বেশি, ধারণ ক্ষমতার বাইরে মানুষ খেতে পারে না, পরতে পারে না, করতে পারে না– এসব জানা সত্ত্বেও মানুষ অতিরিক্ত পাওয়ার নেশায় কত রকম প্রাচুর্যের পেছনে যে জীবন নষ্ট করে দেয় তা আমাদের চারপাশের মানুষজনকে দেখলেই বোঝা যায়।</p>
<p>সূরা আদিয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, &#8216;মানুষ এক ছুটন্ত লোভী ঘোড়ার মত জীবনযপান করছে। নিজের স্বার্থে সে সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। জীবনের ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে তার এই নিরন্তর ছুটে চলা। (www.iscabd.org)</p>
<p>এরপর আল্লাহ তায়ালা বলেন, إِنَّ ٱلۡإِنسَـٰنَ لِرَبِّهِۦ لَكَنُودࣱ অর্থাৎ স্বার্থের পেছনে ছুটে চলা মানুষগুলো অবশ্যই তার প্রভুর প্রতি চরম অকৃতজ্ঞ। তাইতো প্রভুর বিধিনিষেধের কোনো রকম তোয়াক্কাই করে না সে। وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلۡخَیۡرِ لَشَدِیدٌ অর্থাৎ বরং সে বস্তুতগত ঐশ্বর্যের মায়ায় জর্জরিত। আরো ভালো থাকা, আরো ভালো পরা, ভালো খাওয়ার জন্য সে দুনিয়া-আখেরাত নষ্ট করে অন্ধের মত ছুটে চলে। এই ছুটে চলা দেখে আল্লাহর বড় মায়া হয়। তাইতো আফসোস জড়ানো ভাষায় আল্লাহ বলছেন, أَفَلَا یَعۡلَمُ إِذَا بُعۡثِرَ مَا فِی ٱلۡقُبُورِ -আহারে! বান্দা কি জানে না- একদিন সে মরে যাবে এবং মরে যাওয়ার পর আবার তাকে ওঠানো হবে। জবাবদিহীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আল্লাহর আদালতে কঠিন জবাবদিহী করতে হবে তাকে?</p>
<p>সূরা তাকাছুরেও ভিন্ন আঙ্গীকে একই কথা বলেছেন আল্লাহ তায়ালা, যখন মানুষের কবরের জীবন শুরু হবে, সত্যিকারভাবে সে দেখতে পাবে নশ্বর এই দুনিয়ার জীবন-সম্পদ-পরিজন কিছুই না। তখন সে বুঝতে পারবে কী ভুলটাই না সে করেছে। সূরা তাকাছুরের শেষ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, &#8220;যখন সে জাহান্নামকে চোখে দেখবে। আর তখনই সে দৃঢ় বিশ্বাস করবে, দুনিয়ার মোহে জীবন শেষ করাটা কত বড় ভুল ছিলো তার। সেদিন তাকে প্রতিটি নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। (www.icabdlibrary.com)</p>
<p>কোরআনের আয়াতে আয়াতে পাতায় পাতায় আল্লাহ তায়ালা এভাবে মানুষকে দুনিয়ার মোহ থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। বারবার বলেছেন, এই দুনিয়া মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য। এটি আসলে একটি খেলা ঘরের মত। মৃত্যু ঝড় এসে তোমার এই খেলাঘর গুড়িয়ে দেবে। তোমাকে নিয়ে যাবে তোমার আসল ঠিকানার উদ্দেশ্যে।</p>
<p>সুতরাং সেই আখেরাতের জন্য প্রস্তুত হও। নিজের লোভকে সংযত করো। পাশবিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করো। তবেই তুমি দুনিয়াতে পাবে শান্তি, আখেরাতে পাবে মুক্তি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে দুনিয়ার মেহমুক্ত পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তাওফিক দিন। আমিন। (www.facebook.com/iscabd91)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ad-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%b8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3309</post-id>	</item>
		<item>
		<title>গীবত বা পরনিন্দা</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:09:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3300</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>لَّا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ ۚ<br />
&#8220;আল্লাহ তা&#8217;আলা মন্দবিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। অবশ্য যার উপর জুলুম করা হয়েছে, তার কথা আলাদা। অর্থাৎ, তার উপর যে অত্যাচার করা হয়েছে সেটা সে অপরের নিকট বলতে পারবে। এটা গীবত নয়; বরং জায়েয। (সূরা নিসা-১৪৮)</p>
<p>গীবত অর্থ পরনিন্দা। কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি আলোচনা করা। হতে পারে দোষটি তার মধ্যে আছে। কিন্তু এই আলোচিত দোষটির কথা শুনলে সে নির্ঘাত মনে ব্যথা পাবে। তাহলে এটাই গীবত। (www.iscabd.org)</p>
<p>হাদীস শরীফে এক সাহাবীর কথা এসেছে, যিনি নবীজী ﷺ-কে প্রশ্ন করেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! গীবত কাকে বলে? নবীজি ﷺ উত্তরে বলেছিলেন, আপন ভাইয়ের আলোচনা তার পেছনে এমনভাবে করা যা তার নিকট পছন্দনীয় নয়। অর্থাৎ সে পরবর্তীতে যদি জানতে পারে তার সম্পর্কে অমুক মজলিসে এ আলোচনা হয়েছে তাহলে মনে কষ্ট পাবে। এটাই গীবত।<br />
সাহাবী পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, আমি যে দোষ নিয়ে আলোচনা করেছি তা যদি সত্যি সত্যি আমার ভাইয়ের মাঝে থাকে?<br />
নবীজি ﷺ উত্তর দিলেন, আসলেই যদি দোষ থাকে তাহলেই গীবত হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার হবে। (আবু দাউদ, বাবলু গীবাত ৪৮৭৪)। (www.icabdlibrary.com)</p>
<p>গীবতকারী নিজের মুখমণ্ডল খামচাবে</p>
<p>عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ لَمَّا عُرِجَ بِي مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ أَظْفَارٌ مِنْ نُحَاسٍ يَخْمِشُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلاَءِ يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَؤُلاَءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ وَيَقَعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ</p>
<p>সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. নবীজি ﷺ-এর বিশিষ্ট খাদেম। সুদীর্ঘ দশ বছর নবীজির খেদমত করেছেন। তিনি বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মিরাজ-রজনীতে যখন আমাকে ঊর্ধ্বজগতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন (জাহান্নাম দেখানোর সময়) আমাকে এমন কিছু লোক দেখানো হয়েছিল, যারা নিজেদের নখরাঘাতে মুখমণ্ডল ও বক্ষদেশ থেকে রক্ত ঝরাচ্ছিল‌। আমি জিবরাইল আ.-কে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? জিবরাইল আ. বললেন, এরা ঐসব লোক যারা মানুষের গোশত খেতো অর্থাৎ গীবত করতো। আর মানুষের ইজ্জত-সম্ভ্রমে আঘাত হানত। (আবু দাউদ ৪৮৭৮) (www.facebook.com/iscabd91)</p>
<p>প্রকাশ্যে গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির গীবত সম্পর্কে<br />
এক হাদীসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,<br />
لَا غِيبَةَ لِفَاسِقِ ولا مجاهر<br />
অর্থাৎ, ফাসিক ও প্রকাশ্যে গুনাহকারী ব্যক্তির গীবত করলে তা গীবত হিসাবে বিবেচিত হবে না। (জামেউল উসূল, খন্ড ০৮ পৃষ্ঠা ৪৫০)</p>
<p>গীবত থেকে বাঁচার সহজ পদ্ধতি :<br />
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. বলেছেন, গীবত থেকে বেঁচে থাকার সহজ পদ্ধতি আছে। তা হল, অপরের আলোচনাই করবে না। ভালো কিংবা মন্দ সব আলোচনা থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। কারণ শয়তান খুব ধূর্ত। যখন কারো প্রশংসা শুরু করবে এবং তার গুণ ও উত্তম অভ্যাসগুলো আলোচনা করবে তখন শয়তান তোমার বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে। কোন ফাঁকে তোমার মগজে ঢুকিয়ে দিবে যে, আমিতো শুধু প্রশংসাই করে যাচ্ছি। তার ওই দোষও তো আছে; ওটা বলি না কেন? তখন তোমার কথার ধরন পাল্টে যাবে। বলবে, অমুক ভালো তবে এই দোষটি তার মধ্যে আছে। এভাবে ‘তবে’ শব্দটিই তোমার সব শেষ করে দিবে। (www.twitter.com/iscabd)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3300</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বাইআত বা শপথ</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%86%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%aa%e0%a6%a5/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%86%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%aa%e0%a6%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:08:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3298</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আয়াতের সরল অনুবাদ :<br />
اِنَّ الَّذِیۡنَ یُبَایِعُوۡنَکَ اِنَّمَا یُبَایِعُوۡنَ اللّٰہَ ؕ یَدُ اللّٰہِ فَوۡقَ اَیۡدِیۡہِمۡ ۚ فَمَنۡ نَّکَثَ فَاِنَّمَا یَنۡکُثُ عَلٰی نَفۡسِہٖ ۚ وَ مَنۡ اَوۡفٰی بِمَا عٰہَدَ عَلَیۡہُ اللّٰہَ فَسَیُؤۡتِیۡہِ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ﴿٪۱۰﴾<br />
যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করল, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করল। আল্লাহর কুদরতের হাত তাদরে হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার র্পূণ করে আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন। (সুরা ফাতাহ-১০)</p>
<p>সূরার নামকরণ :<br />
সূরা ফাতাহ এর প্রথম আয়াতের প্রথম বাক্যাংশ দ্বারা এর নামকরণ করা হয়। আর &#8220;ফাতাহ&#8221; দ্বারা শুধুই সূরার নাম বোঝানো হয়নি; বরং এটি একটি শিরোনাম। কারণ হুদায়বিয়ার সন্ধি ইসলাম বিজয়ের নামান্তর। তাই একে ইসলাম বিজয়ের শিরোনামও বলা হয়। (www.iscabd.org)</p>
<p>নাযিলের সময়কাল :<br />
উক্ত সূরাটি ৬ষ্ঠ হিজরী সনের যিলকদ মাসে মক্কার কাফেরদের সাথে সন্ধিচুক্তি সম্পাদনের পর নাযিল হয়।</p>
<p>উপরোক্ত আয়াতের শানে নূযুল :<br />
হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে হযরত উসমান রা. এর শাহাদাতের সংবাদ পেয়ে সাহাবায়ে কেরামগণ তার প্রতিশোধ গ্রহণে রাসূলে আকরাম সা. এর নিকট শপথ গ্রহণ করেন। যাকে বাইআতে রিযওয়ান বলা হয়। সেই বাইআতে আল্লাহ তা&#8217;য়ালা সন্তুষ্ট হয়ে উক্ত আয়াত নাযিল করেন।</p>
<p>উপরোক্ত আয়াতের পরিচয় :<br />
উক্ত আয়াতখানা পবিত্র কুরআনের ১১৪ টি সুরার ৪৮তম সুরার ২৯ টি আয়াত সমূহের ১০ম আয়াত। সুরাটি হিজরতের পরবর্তীতে নাযিল হওয়ায় তাকে মাদানী সুরা বলা হয়। উক্ত সুরায় চারটি রুকুহ আছে, মাদানী ২৮ টি সুরার মাঝে এটি ১২তম সুরা।</p>
<p>আয়াতের মূল বক্তব্য :<br />
উক্ত আয়াতখানা ইসলাম বিজয়ের চূরান্ত সূচনাকালে নাজিল করা হয়। সাহাবায়ে কেরামগণের ঐক্য ও ঈমানী দৃঢ়তা এবং মহাপুরুষ্কারের বার্তাবাহক।<br />
রসূল সা. একদিন স্বপ্নে দেখলেন, তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে নিয়ে পবিত্র মক্কায় গিয়ে উমরা আদায় করেছেন । নবীর স্বপ্ন নিছক স্বপ্ন এবং কল্পনা হতে পারে না; বরং তা এক প্রকার ওহী। পরবর্তী ২৭ আয়াতে আল্লাহ তা’আলা নিজেও একথা অনুমোদন করেছেন যে, তিনিই তাঁর রাসূলকে এ স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এটি নিছক স্বপ্ন ছিল না, বরং মহান পথে রওয়ানা হওয়া আল্লাহর ইঙ্গিত ছিল যার অনুসরণ নবীজি সা. এর জন্য জরুরী ছিল। তাই রসূল সা. ৬ষ্ঠ হিজরীর যিল-ক্বদ মাসের প্রারম্ভে এ হজ্জ ও উমরা পালনের নিমিত্তে ১৪শ সাহবীর একটি কাফেলা ও কুরবানীর জন্য ৭০ টি উট সাথে নিয়ে, পবিত্র মদীনা থেকে মক্কার পথে যাত্রা করেন। কিন্তু মক্কার ৬ মাইল দূরত্বে অবস্থিত যুল -হুলাইফাতে স্থানের মক্কার কুরাইশদের দ্বারা বাঁধাগ্রস্থ হন। উক্ত স্থনে হুদাবিয়ার সন্ধিচুক্তি সংঘঠিত হয়। (www.facebook.com/iscabd91)</p>
<p>বাইয়াতে অর্থ :<br />
আভিধানিকভাবে আল কাউলুল জামীল গ্রন্থে শাহ ওলিউল্লাহ দেহলভী রহ. বলেন, বাইয়াত আরবী শব্দ। যার অর্থ বেচা-কেনা, লেন-দেন, ক্রয়-বিক্রয়। তবে মূল অর্থ বিক্রয় করা অথবা শপথ, চুক্তি অানুগত্য, প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার ইত্যাদি।<br />
পরিভাষায় ইসলামের জন্যে আল্লাহ ও রাসূল সা. এর সন্তুষ্টি অর্জনে শপথ গ্রহণ করা, প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা চুক্তি করাকে বাইয়াত বলে।</p>
<p>বাইয়াতের প্রকারভেদ :<br />
কুরআন ও হাদিসের গবেষণামতে অন্তত পাঁচ ধরনের বাইয়াতের প্রমাণ পাওয়া যায়।<br />
যেমন-<br />
১. খিলাফাতের বাইয়াত। যা ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে নেয়া হয়ে থাকে।<br />
২. বাইয়াতে ইসলাম : ইসলাম গ্রহণের জন্য বাইয়াত নেয়া।<br />
৩. আমলের বাইআত : তাকওয়া পরহেযগারীতে অগ্রগামী হওয়ার বাইয়াত। যাকে বাইয়াতে তাসাওউফও বলা হয়।<br />
৪. হিজরতের বাইআত : কাফেরদের জুলুমী রাষ্ট্র ছেড়ে দেয়ার বাইয়াত।<br />
৫. জিহাদের বাইআত : জিহাদের ময়দানে দৃঢ় থাকার বাইয়াত। যদি কখনো জিহাদের ময়দানে ভয়ে পালিয়ে যাবার শঙ্কা দেখা দেয়, তখন আমীরের হাতে জিহাদের দৃঢ়তার বাইয়াত গ্রহণ করা। (www.icabdlibrary.com)</p>
<p>আয়াতের শিক্ষা :<br />
(ক) ঈমানের ও তাসাউফের প্রতি দৃঢ়তার মাধ্যমে ইসলাম ও দ্বীনের প্রতি ইস্তেকামাত থাকা যায়।<br />
(খ) জিহাদের ময়দানের জিহাদের প্রতি দৃঢ় থেকে মহাপুরুষ্কারে প্রতি অাশান্বিত থাকা যায়। আল্লাহর নুসরতের প্রতি আশান্বিত হওয়া যায়।<br />
(গ) বাইয়াতের মাধ্যমে আমীরের প্রতি অনুগত্য সুদৃঢ় থাকে। বিশৃঙ্খলা হতে মুক্ত থাকা যায়, ইসলামী আন্দোলনে শৃঙ্খলা মজবুত হয় ও বিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।</p>
<p>আয়াতের উদ্দেশ্য :<br />
বাইয়াত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। যার গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআন হাদিসে অসংখ্য নির্দেশনা ও ধমকি রয়েছে। রাসূলে আকরাম সা. বাইআত সম্পর্কে বলেন।<br />
عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ مَاتَ وَلَيْسَ عَلَيْهِ إِمَامٌ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً {♪}<br />
হযরত মুআবিয়া রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মারা গেল, অথচ তার কোন ইমাম নেই, সে আসলে জাহেলিয়াতের মরণ মারা গেল। (সহীহ মুসলিম) (www.twitter.com/iscabd1)</p>
<p>সুতারাং বোঝা গেল, ইসলামের জন্য আল্লাহ ও রাসূর সা. এর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমীরের হাতে বাইয়াত বা শপথ গ্রহণ করা রাসূলের হাতে বাইয়াতের নামান্তর। আল্লাহ তা&#8217;য়ালা আমাদের সকলকে আমীর বা হক্কানী মাশায়খের হাতে বাইআত গ্রহণের মাধ্যম ঈমান ও আমলের উপর দৃঢ়তা ও ইসলামী গণবিপ্লব তথা &#8220;খেলাফত আলা মিনহাযিন নবুওয়্যাহ&#8221; কায়েম করার তাওফিক দান করুন। আমিন।</p>
<p>লেখক : জি.এম মাহমুদুল হাসান হামিদী, মুবাল্লিগ, ইশা ছাত্র আন্দোলন, নোয়াখালী উত্তর</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%86%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%aa%e0%a6%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3298</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামের বিজয়</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%9f/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%9f/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:06:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3296</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সরল অনুবাদ<br />
(১) যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে।<br />
(২) এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন।<br />
(৩) তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী। (সূরা নাসর) (www.iscabd.org)</p>
<p>সূরার নাম করন :<br />
সুরা নাসর পবিত্র কুরআনের ১১০ তম সুরা। তাফসীর কারীদের সর্বসম্মত অভিমত এই যে, সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ এবং এর আয়াত সংখ্যা ৩ টি। সুরা নাসর এর অপর নাম সুরা &#8220;তাওদী&#8221;। তাওদী শব্দের অর্থ বিদায় করা। এ সুরায় রাসূলে করীম সা. এর ওফাত নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত আছে বিধায় এর নাম &#8220;তাওদী&#8221; হয়েছে।</p>
<p>নাজিল হওয়ার সময় ও স্থান :<br />
ঠিক কখন এ সুরাটি নাযিল হয়েছিল সে সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। হযরত ইবনে ওমর রা. বলেন, সূরা নাসর বিদায় হজে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর &#8220;আলইয়াওমা আকমালতু লাকুম দ্বীনাকুম&#8221; আয়াত অবতীর্ণ হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সা. মাত্র আশি দিন জীবিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবনের যখন মাত্র পঞ্চাশ দিন বাকী ছিল, তখন কালালার আয়াত নাজিল হয়। অতঃপর পয়ত্রিশ দিন বাকী থাকার সময় &#8220;লাক্বাদ জা আকুম রাসূলুম মিন আনফুসিকুম আযিযুন আলাইহি&#8221; আয়াত অবতীর্ণ হয়। এবং একুশ দিন বাকী থাকার সময় &#8220;ওয়াত্তাকু ইয়াউমান তুরজাউনা ফীহ&#8221; আয়াত অবতীর্ণ হয়। (www.icabdlibrary.com)</p>
<p>শানে নুযূল :<br />
এই সূরার আয়াতসমূহ নবী মুহাম্মাদ সা. কে উদ্দেশ্য করে বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের লক্ষণসমুহ পরিস্ফুটিত হয়ে উঠা এবং এ বিজয়ের মাধ্যমে দুনিয়াতে রাসূল সা. এর আগমন ও অবস্থার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যাওয়ার সমাসন্নতার পরিপেক্ষিতে এই সুরাটি নাযিল হয়।</p>
<p>এ সুরার অন্যতম তাৎপর্য এই যে, মৃত্যু নিকটবর্তী প্রতিয়মান হলে মুসলমান ব্যাক্তিকে তাসবীহ ও ইস্তিগফার করতে হবে।<br />
হযরত আয়িশা রা. থেকে বর্নিত যে, সূরা নাসর নাযিল হওয়ার পর রাসূল সা. প্রত্যেক নামাজের পর &#8220;সুবহানা রাব্বিনা ওয়াবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী&#8221; পাঠ করতেন।<br />
হযরত উম্মে সালমা রা. বলেন, এই সূরা নাযিল হওয়ার পর তিনি উঠা-বসা, চলা-ফেরা তথা সর্বাবস্থায় এই দোয়া পাঠ করতেন &#8220;সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী আসতাগফিরুল্লাহা ওয়াতুবু ইলাইহি&#8221; তিনি বলতেন আমাকে এ আদেশ করা হয়েছে। অতঃপর এ সুরা তেলাওয়াত করতেন। (www.facebook.com/iscabd91)</p>
<p>মূল বক্তব্য :<br />
৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পরের বছর অর্থাৎ ৯ম ও ১০ম হিজরীকে ইতিহাসে প্রতিনিধি দল সমূহের আগমনের বছর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিনিধি দল সমূহের সংখ্যা ৭০ এর চেয়ে বেশি। ওই সময়ে মক্কার কাফিররা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। সূরা নাসরে মানুষের বিজয়ের বা সাফল্যের জন্য সৃষ্টিকর্তার সাহায্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিজয় মানুষের শক্তিমত্তার ওপর নির্ভর করে না। বিপুল শক্তিশালী দল ও যুদ্ধে পরাজিত হয়। অন্যদিকে দুর্বল দলও আল্লাহর সাহায্যক্রমে জয়ী হতে পারে। বদরের যুদ্ধ যার প্রমান। শক্তিমত্তা নয়; আল্লাহর সাহায্যই বিজয়ের একমাত্র নিয়ামক। এ কথাই সূরা নাসরের প্রাথমিক তাৎপর্য। বিজয়ের মুহুর্তে আল্লাহ তার রাসূল সা. কে দুটি নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজের একটি গুনের কথা পুনরুক্ত করেছেন। প্রথমটি হলো, আল্লাহর গুনকীর্তন করা যে তিনি সবরকম দুর্বলতা বা দোষ থেকে মুক্ত। (অর্থাৎ তিনি কারো সাহায্যের মুখাপেক্ষী নন) দ্বিতীয়টি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। তথা তাওবা করতে বলা হয়েছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী। (www.twitter.com/iscabd1)</p>
<p>সংক্ষিপ্ত বাখ্যা :<br />
সুরা কাউসারের অনুরূপ এটিও কুরআনুল কারীমের একটি ছোট সূরা। মাত্র ৩টি আয়াত সম্পন্ন এ সূরায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ&#8217;লা তাঁর প্রিয় হাবীব রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছে আল্লাহর সাহায্য বিজয় ও দলে দলে লোকদের ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আগাম সুসংবাদ নাযিল করেছেন। মূলত এটি আল্লাহর মদদ, বিজয়, ও ইসলামের প্রধান্য প্রতিষ্ঠার সুসংবাদবাহী সূরা। এ সূরায় সাহায্য ও বিজয় প্রাপ্তিলগ্নে রাসুলুল্লাহ সা. কে আল্লাহর শুকরিয়া প্রকাশ, আল্লাহর প্রশংসা, তার পবিত্রতা বর্ণনা ও মাগফিরাত কামনায় মনোনিবেশ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বিজয়োল্লাসে আনন্দে মাতোয়ারা না হয়ে মহান আল্লাহর শুকরিয়া, হামদ, তাসবীহ ও মাগফিরাত কামনার মাধ্যমে বিনয়, নম্রতা প্রকাশের মহান মানবীয় গুনাবলীর প্রতি হুযুরে পাক সা. এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।</p>
<p>বলে রাখা ভালো, কোন কোন ব্যাখ্যাকার পবিত্র কুরআনের নিগুঢ় তত্ত্ব ও রাসূল সা. এর শান বিবেচনা না করেই এমন ব্যাখ্যাও করেছেন যে, নবুওতের দায়িত্ব পালনে কৃত ভুলত্রুটির জন্য রাসূল সা. কে ইস্তিগফার করতে বলা হয়েছে। নাউজুবিল্লাহ। যা সম্পূর্ণ মনগড়া। মূলত উম্মাহ কে শিক্ষা দিতেই রাসূল সা. কে ইস্তিগফার করতে বলা হয়েছে। নতুবা রাসূল সা. সহ নবীগণের নিষ্পাপত্বের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত একমত। (www.iscabd.org)</p>
<p>আলোচ্য সুরার শিক্ষা :<br />
এখানে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষনা করা হয়েছে যে, মুসলমানের বিজয় কখনো জনশক্তি বা অস্ত্রবলে হয়না; বরং বিজয়ের উৎস ঈমান বিল্লাহ। কাঙ্খিত বিজয় ইসলামী কাফেলার প্রত্যাশা দিয়ে আসে না। এ জন্য দায়ী ইলাল্লাহদের কে শ্রম, প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়।<br />
কিন্তু বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর মর্জি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। আল্লাহর নুসরত ও মদদই হচ্ছে বিজয়ের একমাত্র মাধ্যম। আল্লাহ তায়া’লা যখন ইচ্ছা করেন সিদ্ধান্ত নেন। তখন অপ্রত্যাশিত ও বিস্ময়কর ভাবেই ঘুম থেকে জেগে বিজয়ের উদিত সুর্য কে দেখতে পাওয়া যায়। আল্লাহ তায়া’লা যে সময় যে পন্থায় যে প্রকৃতিতে বিজয় দিতে চান বিজয় সে পথেই সুচিত হয়। দ্বীন বিজয়ের প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের শ্রম, সাধনা, জনশক্তি, সম্পদ ও অস্ত্রের ওপর ভর করে বিজয় আসে না।<br />
সংগ্রামী কাফেলার এতে কোন অংশ নেই। তাদের নিজস্ব শক্তি ও সামর্থের এতে কোন হিস্যা নেই। আল কুরআনে বলা হয়েছে। তোমারা আল্লাহর অপার অনুগ্রহ কে গুণে শেষ করতে পারবেনা। তাই আল্লাহর এ অনন্ত দানের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ তার সমীপে এস্তেগফার করা বান্দার দায়িত্ব।</p>
<p>তথ্য সুত্র :<br />
* মাআরিফুল কুরআন<br />
* তাফসীর ফি যিলালিল কোরআন</p>
<p>লেখক : মুহাম্মাদ তানভীর হোসাইন, মুবাল্লিগপ্রত্যাশী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%9f/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3296</post-id>	</item>
		<item>
		<title>সুদ</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:05:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3289</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>অর্থনীতির বিষফোড়া হিসেবে পরিচিত সুদি ব্যবস্থা ধনীকে আরো ধনী আর গরীবকে আরো গরীব বানাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ জঘন্য একটি হারাম কাজ।</p>
<p>আয়াত :<br />
يايها الذين آمنوا لا تأكلوا الربا اضعافا مضاعفة واتقوا الله لعلكم تفلحون [ال عمران]<br />
আয়াতের সরল অনুবাদ :<br />
হে ঈমানদারগন!তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বক্ষন করো না,আল্লাহ্ কে ভয় কর ,সম্ভবত তোমরা সফলকাম হবে। (www.iscabd.org)</p>
<p>আয়াতের তথ্য সমূহ :<br />
সুরা আলে ইমরান। সূরা নং ০৩, আয়াত নং১৩০। পারা নং ০৪। সূরাটি মাদানী তথা হিজরতের পরে অবতীর্ণ হয়েছে।</p>
<p>অবতীর্ণের সময়কাল :<br />
সূরা আল ইমরানের ১৩ রুকু থেকে শেষ পর্যন্ত ওহুদ যুদ্ধের পরে অবতীর্ণ হয়েছে। আর উল্লিখিত ১৩০ নং আয়াতটি ১৪ নং রুকুর অংশ বিশেষ।</p>
<p>সুরার নামকরণ :<br />
সুরা আলে ইমরান এর নামকরণ হয়েছে (تسمية كل بإسم الجز) অনুসারে। অর্থাৎ সূরার ৩৩নং আয়াতে উল্লিখিত ال عمران (ইমরান আ. এর পরিবার সম্পর্কিত ) অংশটির নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছ। (www.icabdlibrary.com)</p>
<p>আয়াতের শানে নুযুল :<br />
হযরত আতা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন জাহেলী যুগে ছাকিফ গোত্রের লোকেরা বনু নাজিরের সাথে ব্যাপকহারে সুদি লেনদেন করত। যখন সুদ পরিশোধের সময় হতো তখন গরীব লোকেরা সুদ পরিশোধ করতে না পেরে সময় বাড়িয়ে নিত। তখন বনু নাজিরের লোকেরা সুদও বাড়িয়ে দিত। এমনিভাবে কয়েকবার সময় বৃদ্ধির ফলে দেখা যেত যে বনু নাজিরের লোকেরা বনু ছাকিফের গরীব লোকদের স্থাবর অস্থাবর সমস্ত সম্পদের মালিক হয়ে যেত। এমনিভাবে গরীবদের কাছ থেকে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ গ্রহণ করত। তাদের এহেন জুলুম অত্যাচার নিষিদ্ধ করে সকল প্রকারের সুদি লেনদেন হারাম ঘোষণা করে আল্লাহ্ তায়ালা উক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন।</p>
<p>আয়াতের মূল বক্তব্য :<br />
যেহেতু সুদের মাধ্যমে গরীব লোকেরা আরো গরীব হয়, ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং অন্য দিকে বিত্তবান ও ধনী লোকেরা আরো ধনী হতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে সমাজের বিত্তবানেরা গরীবদের উপর জুলুম নির্যাতন চালাত। যার ফলে আল্লাহ্ তায়ালা সুরা বাকারার ৪ টি আয়াতে এবং সুরা আলে ইমরানের ৩ টি আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা সুদের অবৈধতা ও তার বিধি বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। যেমন সুরা বাকারার ২৭৫ নং আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন-<br />
احل الله البيع وحرم الربا<br />
অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালা ক্রয় বিক্রয় কে হালাল এবং সুদ কে হারাম করেছেন। (Islami Shasantantra Chhatra Andolan)</p>
<p>এছাড়াও সুদ সম্পর্কিত অন্যান্য আয়াত সমূহের মাঝে সুদখোরের দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্চনাদায়ক শাস্তির স্বরুপ ফুটে উঠেছে।</p>
<p>সুদের পরিচয় :<br />
সুদ শব্দটি বাংলা। এর আরবি প্রতিশব্দ হলো الربا এর আভিধানিক অর্থ হলো : الزيادة বা বৃদ্ধি পাওয়া, الإضافة বা বাড়তি দেয়া-নেয়া।<br />
পরিভাষায় : রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন كل قرض جر نفعا فهو ربا অর্থাৎ যে ঋণ কোনো মুনাফা টেনে আনে তাই সুদ।<br />
আল্লামা ইবনুল আসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি&#8217;র মতে-পারস্পরিক চুক্তির বাইরে সময়ের ওপর মূল মালের অতিরিক্ত অংশকে ربا বলা হয় ।<br />
মোট কথা, একজাতীয় ২টি জিনিস লেনদেন করতে গিয়ে একটিতে বেশি হওয়াকে রিবা বা সুদ বলে। (www.twitter.com/iscabd91)</p>
<p>সুদের প্রকারভেদ :<br />
ক. الربا তথা সুদ দুই প্রকার। যথা-<br />
১) ربا النسيئة তথা বিলম্বে পরিশোধের শর্তে বিনা বিনিময়ে বেশি গ্রহণ বা প্রদান। একে الربا الجلي ও বলা হয়। জাহেলী যুগে এর প্রচলন বেশি ছিল। কেউ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যে ঋণ দিয়ে মূলধনের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করতো। আর সময় মত তা পরিশোধ করতে না পারলে সুদ বাড়িয়ে দেওয়ার শর্তে মেয়াদ বাড়িয়ে দিত। (ابن جرير) সর্বসম্মতি মতে, এই প্রকার সুদ হারাম।<br />
২) الربا الفضل তথা দুটি বস্তু নগদে লেনদেন করার সময় কম বেশি করা। যেমন : ১ মণ গম দিয়ে ২ মণ গম ক্রয় বিক্রয় করা। এ প্রকার সুদও চার ইমামের ঐক্যমতে হারাম।</p>
<p>তবে, এক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ করে ক্রয় বিক্রয় করলে তা সুদ হবে না। যেমন : ১ মণ উন্নত মানের গমের মূল্য ১০০০ টাকা অপর দিকে ২ মণ নিম্ন মানের গমের মূল্য ১০০০ টাকা। এভাবে মূল্যনির্ধারণ করে বিনিময় করলে সুদ হবে না। (www.iscabd.org)</p>
<p>সুদের গুনাহ :<br />
সুদের গুনাহ এতই মারাত্মক যে,এটা সবচেয়ে বড় সাতটি গুনাহের ১ টি। এর গুনাহ সম্পর্কে হাদিস শরীফে বলা হয়েছে-<br />
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: درهم ربا أ شد على الله ست و ثلاثين زنية(رواه البيهقي)<br />
অর্থাৎ সুদের ১ দিরহাম আল্লাহ্ তায়ালার নিকট ৩৬ টি যিনা অপেক্ষা বেশি মারাত্মক।</p>
<p>قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:إن الربا سبعون بابا أدناها أن يقع الرجل على أمه (رواه إبن<br />
ماجه )<br />
অর্থাৎ নিশ্চয়ই সুদের ৭০ টি গুনাহ রয়েছে ।সবচেয়ে ছোট গুনাহ হলো ব্যক্তি তার স্বীয় মায়ের সাথে ব্যভিচার করা।</p>
<p>لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الربا خمسة آكل الربا ومؤكله وشاهديه و كاتبه<br />
অর্থাৎ রাসূল ﷺ সুদের ব্যাপারে ৫ জন ব্যক্তিকে লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন। যথা :১. সুদ গ্রহীতা ২. সুদ দাতা ৩ ও ৪. স্বাক্ষীদ্বয় এবং ৫. লেখক।</p>
<p>সুদের ক্ষতি বা কুফলসমূহ :<br />
ইসলামী শরিয়ত সুদকে ধর্মীয় ও সামাজিক সর্বনাশা ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।সুদের মারাত্মক কিছু কুফল নিচে প্রদত্ত হলো<br />
১)ব্যক্তিগত কুফল<br />
২)সামাজিক কুফল<br />
৩)অর্থনৈতিক কুফল</p>
<p>ব্যক্তিগত কুফল :<br />
সুদ খাওয়ার কারণে মন নষ্ট হয়ে যায়। অন্তরের শান্তি চলে যায়। ভাই-ভাইয়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক বিলীন হয়ে যায়। সুদখোর হিংস্র প্রাণীতে পরিণত হয়। সম্পদ সঞ্চয় করা, মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া ও অপরের সম্পদ লুণ্ঠন করাই তার জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে যায়।</p>
<p>সামাজিক কুফল :<br />
সুদ সমাজের মানুষের মাঝে ঘৃণা সৃষ্টি করে।<br />
সুদ সমাজস্থ মানুষের মাঝে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।<br />
সুদ মানুষ কে কৃপণ করে।<br />
সুদ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। (Islami Shasantantra Chhatra Andolan)</p>
<p>অর্থনৈতিক কুফল :<br />
সুদ শোষণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।<br />
এটি ধনীকে আরো ধনী আর গরীবকে আরো গরীব বানায়।<br />
সুদখোরকে অলস ও উপার্জন বিমুখ গড়ে তুলে।<br />
সুদি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে তার ক্ষতি জাতির কাঁধে এসে পড়ে ।<br />
অর্থনীতির চালিকাশক্তি গুটি কয়েক লোকের হাতে চলে যায়।</p>
<p>আয়াতের শিক্ষা :<br />
উল্লিখিত আয়াত থেকে আমরা যে সকল শিক্ষা পেয়ে থাকি তা হলো-<br />
আল্লাহ্ তায়ালা সুদকে হারাম এবং ব্যবসাকে হালাল করেছেন।<br />
সুদের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের মাঝে বরকত থাকে না।<br />
সুদখোর জাহান্নামে যাবে।<br />
সুদ অন্যের সম্পদ শোষণকারীদের বড় হাতিয়ার।</p>
<p>লেখক : মুহা. মিজানুর রহমান আতিকী, মুবাল্লিগ, নোয়াখালী জেলা উত্তর</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3289</post-id>	</item>
		<item>
		<title>কর্জে হাসানা</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:05:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3288</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ভূমিকা :<br />
করজ অর্থ ঋণ বা ধার। আর হাসানা অর্থ উত্তম। উভয়ে মিলে এর অর্থ প্রকাশ করে &#8220;উত্তম ঋণ&#8221;। ইসলামী আর্থসামাজিক ব্যাবস্থায় কর্জে হাসানার গুরুত্ব অপরিসীম। কর্জে হাসানার মাধ্যমে সমাজে গরিবরা লাভবান হয় ও দারিদ্র্য বিমোচন হয়। তাছাড়া ধনী ও গরীবের মাঝে একটা ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সৃষ্টি হয়। (www.iscabd.org)</p>
<p>সংজ্ঞা :<br />
আল্লাহ সুবহানাহু তয়া&#8217;লার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সওয়াবের নিয়তে বিনাশর্তে কাউকে কিছু ঋণ দিলে তাকেই কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণ বলে।</p>
<p>এ সম্পর্কিত কুরআনের নির্দেশনা :<br />
পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু তায়া&#8217;লা নিজে তার বান্দার জন্য আমাদের কাছে কর্জে হাসানা বা উত্তম ঋণ চেয়েছেন। অথচ তিনি জগতের কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন, তিনি সকল বস্তুমোহের উর্দ্ধে। ইরশাদ হচ্ছে-<br />
مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَہٗ لَہٗۤ اَضۡعَافًا کَثِیۡرَۃً ؕ<br />
অর্থঃ এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন।<br />
-সূরা আল বাকারা (البقرة) আয়াত: ২৪৫</p>
<p>আল্লাহ সুবহানাহু তায়া&#8217;লা আরও বলেন,<br />
وَ قَالَ اللّٰہُ اِنِّیۡ مَعَکُمۡ ؕ لَئِنۡ اَقَمۡتُمُ الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَیۡتُمُ الزَّکٰوۃَ وَ اٰمَنۡتُمۡ بِرُسُلِیۡ وَ عَزَّرۡتُمُوۡہُمۡ وَ اَقۡرَضۡتُمُ اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا لَّاُکَفِّرَنَّ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَ لَاُدۡخِلَنَّکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۚ فَمَنۡ کَفَرَ بَعۡدَ ذٰلِکَ مِنۡکُمۡ فَقَدۡ ضَلَّ سَوَآءَ السَّبِیۡلِ ﴿۱۲﴾<br />
অর্থ : আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। যদি তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর, যাকাত দিতে থাক, আমার পয়গম্বরদের প্রতি বিশ্বাস রাখ, তাঁদের সাহায্য কর এবং আল্লাহকে উত্তম পন্থায় ঋন দিতে থাক, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের গোনাহ দূর করে দিব এবং অবশ্যই তোমাদেরকে উদ্যান সমূহে প্রবিষ্ট করব, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে নিঝরিনীসমূহ প্রবাহিত হয়। অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এরপরও কাফের হয়, সে নিশ্চিতই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। (www.icabdlibrary.com)<br />
-সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة) আয়াত: ১২</p>
<p>মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেন,<br />
مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَہٗ لَہٗ وَ لَہٗۤ اَجۡرٌ کَرِیۡمٌ ﴿ۚ۱۱﴾<br />
অর্থঃ কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দিবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।<br />
-সূরা আল-হাদীদ (الحديد), আয়াত: ১১</p>
<p>মূল বক্তব্য :<br />
কর্জে হাসানা’ নামটি অতি সুন্দর এবং আমরা কমবেশি এ নামটির সঙ্গে পরিচিত। বর্ণিত আয়াতগুলোর মর্মার্থ হলো- যিনি নামাজ পড়েন, যাকাত প্রদান করেন, কর্জে হাসানা দেন এবং আল্লাহ পাকের কাছে কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চান- তাকে আল্লাহ কর্জে হাসানার সওয়াব বহুগণে দিবেন, সম্মানজনক পুরস্কার দিবেন এবং ক্ষমা করে জান্নাতে দাখিল করাবেন, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত। (www.facebook.com/iscabd91)</p>
<p>শিক্ষা:<br />
ক. যে ব্যাক্তি কর্জে হাসানা দান করে আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন।<br />
খ. কর্জে হাসানার মাধ্যমে গোনাহ মার্জনা করা হয়।<br />
গ. কর্জে হাসানা দেওয়া আল্লাহকে ঋণ দেওয়ার সমতুল্য<br />
ঘ. কর্জে হাসানা দানকারী ব্যাক্তির জন্য পরকালে সম্মানিত পুরস্কার রয়েছে। (www.twitter.com/iscabd91)</p>
<p>প্রস্তাবনা :<br />
সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা দেশ কে পঙ্গু করে দিচ্ছে অপরদিকে ধনী কে আরও ধনী এবং দরিদ্র কে নিঃস্ব থেকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।এমতাবস্থায় যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা ও করজে হাসানা ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা হতে পারে আধুনিক সুন্নাহভিত্তিক বিকল্প পন্থা।</p>
<p>লেখক : আল-কাউসার, মু. প্রত্যাশী, ডবলমুরিং থানা, চট্টগ্রাম মহানগর, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3288</post-id>	</item>
		<item>
		<title>তাওবাহ</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:03:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3285</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আয়াত :<br />
إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوَءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُوْلَـئِكَ يَتُوبُ اللّهُ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللّهُ عَلِيماً حَكِيماً. وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الآنَ وَلاَ الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُوْلَـئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا<br />
সরল অনুবাদ :<br />
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন, যারা ভুল বশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তাওবা করে। এরাই হলো সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমনকি যখন তাদের কারও মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে, আমি এখন তাওবা করছি। আর তাওবা নেই তাদের জন্য যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।<br />
-সূরা নিসা ১৭ ও ১৮</p>
<p>সূরা নিসা নামকরণের কারণ :<br />
উল্লিখিত আয়াত্দ্বয় সূরা নিসার ১৭ ও ১৮ নং আয়াত। আর এই সূরার নামকরণের কারণ হলো- মানব সভ্যতা বিকাশের মূল কেন্দ্রস্থল হচ্ছে পরিবার। আর সন্তান লালন-পালনে মূল দায়িত্ব পালন করে একজন নারী। তাই নারীর সম্মান ও অধিকার এবং পারিবারিক বিষয়ে বক্তব্য থাকায় উক্ত সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরা নিসা। (www.iscabd.org)</p>
<p>আয়াত নাযিলের সময়কাল :<br />
এ সূরাটি কয়েকটি ভাষণের সমষ্টি। সম্ভবত তৃতীয় হিজরীর শেষের দিক থেকে নিয়ে চতুর্থ হিজরীর শেষের দিকে অথবা পঞ্চম হিজরীর প্রথম দিকের সময়কালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এর বিভিন্ন অংশ নাযিল হয়। যদিও নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না কোন আয়াত থেকে কোন আয়াত পর্যন্ত একটি ভাষণের অন্তর্ভূক্ত হয়ে নাযিল হয়েছিল এবং তার নাযিলের সময়টা কি ছিল। তবুও কোন কোন বিধান ও ঘটনার দিকে কোথাও কোথাও এমন সব ইঙ্গিত করা হয়েছে যার সহায়তায় রেওয়াত থেকে আমরা তাদের নাযিলের সময়কাল জানতে পারি। যেমন আমরা জানি, সূরা নিসার প্রথম চারটি রুকুও পঞ্চম রুকুর প্রথম তিনটি আয়াতে উত্তরাধিকার বণ্টন, এতিমের অধিকার রক্ষা প্রসঙ্গে বিধান নাযিল হয়। তাই উক্ত আয়াত সমূহ ওহুদ যুদ্ধের পর নাযিল হয়ে থাকবে। (www.icabdlibrary.com)</p>
<p>আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট :<br />
ওহুদ যুদ্ধে সত্তর জন মুসলমান শহীদ হয়েছিল। এ ঘটনার ফলে মদীনার ছোট জনবসতির বিভিন্ন গৃহে শহীদের মিরাস কিভাবে বণ্টন করা হবে এবং তারা যেসব এতিম ছেলে-মেয়েদের রেখে গেছেন তাদের স্বার্থ কিভাবে সংরক্ষণ করা হবে, এ প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। এরই ভিত্তিতে আমরা অনুমান করতে পারি উক্ত আয়াত সমূহ এ প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছিল।</p>
<p>আয়াতের ব্যাখ্যা :<br />
যারা ভুল বশত গুনাহ করে এবং অনতিবিলম্বে তাওবা করে, আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। আয়াতে بِجَهَالَةٍ (অজ্ঞতা) শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, ব্যক্তি গুনাহ সম্পর্কে অজ্ঞাত বা গুনাহের ইচ্ছা নেই বরং এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে, গুনাহর অশুভ পরিণাম ও পরলৌকিক আযাবের প্রতি তার সাময়িক অনীহাই গুনাহের কারণ। যেমন- হযরত ইউসুফ আলাইহিসসালাম তার ভাইদের বলেছিলেন- هَلْ عَلِمْتُم مَّا فَعَلْتُم بِيُوسُفَ وَأَخِيهِ إِذْ أَنتُمْ جَاهِلُونَ<br />
এতে ভাইদেরকে জাহিল বলা হয়েছে। অথচ তারা যে কাজ করেছিল, তা কোন ভুল অথবা ভুলে যাওয়া বশত ছিল না বরং ইচ্ছাকৃতভাবে, জেনে-শুনেই করেছিল। কিন্তু পরিণতি সম্পর্কে গাফিল হওয়ার কারণে জাহিল বলা হয়েছে। তাই সাহাবা, তাবেয়ীন ও সমগ্র উম্মতের এ ব্যাপারে ইজমা হচ্ছে- যে ইচ্ছাকৃত গুনাহ করে, তার তাওবাও কবুল হতে পারে। (বাহরে মুহীত)<br />
তবে শর্ত হচ্ছে- তাওবা হতে হবে যথাশীঘ্র। যেমন হাদীসে এসেছে- &#8220;ততক্ষণ তাওবা কবুল হয়, যে পর্যন্ত তার উপর মৃত্যু যন্ত্রণার গরগরা প্রকাশ না পায়।&#8221; (www.facebook.com/iscabd91)</p>
<p>আশরাফ আলী থানবী রহ. তাফসীরে বয়ানুল কুরআনে লেখেন, মৃত্যুর পূর্বে দুই অবস্থা। প্রথমত, ব্যক্তি চিকিৎসা এবং বাঁচার সম্পর্কে নিরাশ হয়ে যায়। এটিকে ﺑﺎﺲ বলা হয়। দ্বিতীয়ত, যখন উর্ধ্বশ্বাস উঠে যায় তখন পরজগতের দৃশ্যাবলী তার সামনে উপস্থিত হয়। এটিকে ﻳﺎﺲ বলা হয়। মূলত প্রথম অবস্থা পর্যন্ত ﻣﻦﻗﺮﻳﺐ বা তাওবা কবুলের সীমা ধরা হয়।</p>
<p>আর তাদের তাওবা কবুল হয় না, যারা সারা জীবন নির্ভয়ে গুনাহ করতে থাকে। আর যখন মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায় তখন বলে আমি এখন তাওবা করছি। যেমনিভাবে ফেরাউন ও তার সভাসদরা সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার সময় চিৎকার করে বলেছিল, আমরা মুসা ও হারুনের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি। মূলত তাদের তাওবা কবুল হবে না।</p>
<p>আয়াতের শিক্ষা :<br />
১. গুনাহ হয়ে গেলে যথাশীঘ্র তাওবা করে ফেলতে হবে।<br />
২. তাওবা হতে হবে নির্ভেজাল। এর ৩টি স্তর রয়েছে। যথা :<br />
ক) স্বীয় কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া।<br />
খ) কৃত গুনাহ অবিলম্বে বর্জন করা।<br />
গ) ক্ষতিপুরণের চিন্তা করা। (যেমন-কাযা নামাজ, কাযা রোযা ইত্যাদি)<br />
৩. আবারও গুনাহ হয়ে গেলে পরম করুণাময়ের থেকে প্রত্যেকবার তাওবা কবুলের আশা রাখবে। (www.twitter.com/iscabd91)</p>
<p>তথ্যসূত্র : তাফসীরে মা’আরিফুল কোরআন</p>
<p>লেখক : মুহা. রাশেদুল ইসলাম, মুবাল্লিগ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র অান্দোলন, লক্ষীপুর জেলা</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3285</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মদ (Alcohol)</title>
		<link>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a6-alcohol/</link>
					<comments>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a6-alcohol/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Jul 2020 15:02:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[দারসুল কুরআন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://icabdlibrary.com/?p=3283</guid>

					<description><![CDATA[]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>“তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, এ দু’টোয় রয়েছে বড় পাপ ও মানুষের জন্য উপকার। আর তার পাপ তার উপকারিতার চেয়ে অধিক বড়।”<br />
(আল-বাকারা-২১৯)</p>
<p>এ আয়াত কেন নাজিল হলো?<br />
ইসলামের প্রথম যুগের জাহেলিয়াত আমলের সাধারণ রীতি-নীতির মধ্যে মদ্যপান স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের পরও মদীনাবাসীদের মধ্যে মদ্যপান ও জুয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল। সাধারণ মানুষ এ দু&#8217;টি বস্তুর শুধু বাহ্যিক উপকারিতার প্রতি লক্ষ্য করেই এতে মত্ত ছিল। কিন্তু এদের অন্তর্নিহিত অকল্যাণ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই ছিল না। তবে আল্লাহ্‌র নিয়ম হচ্ছে এই যে, প্রত্যেক জাতি ও প্রত্যেক অঞ্চলে কিছু বুদ্ধিমান ব্যক্তিও থাকেন যারা বিবেক-বুদ্ধিকে অভ্যাসের উর্ধ্বে স্থান দেন। যদি কোন অভ্যাস বুদ্ধি বা যুক্তির পরিপন্থী হয়, তবে সে অভ্যাসের ধারে-কাছেও তারা যান না। এ ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থান ছিল সবচেয়ে উর্ধ্বে। কেননা, যেসব বস্তু কোন কালে হারাম হবে, এমন সব বস্তুর প্রতিও তার অন্তরে একটা সহজাত ঘৃণাবোধ ছিল। সাহাবীগণের মধ্যেও এমন কিছুসংখ্যক লোক ছিলেন, যারা হারাম ঘোষিত হওয়ার পূর্বেও মদ্যপান তো দূরের কথা, তা স্পর্শও করেননি। মদীনায় পৌছার পর কতিপয় সাহাবী এসব বিষয়ের অকল্যাণগুলো অনুভব করলেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে উমর, মুআয ইবনে জাবাল এবং কিছুসংখ্যক আনসার রাদিয়াল্লাহু আনহুম রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন &#8220;মদ ও জুয়া মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করে ফেলে এবং ধন-সম্পদও ধ্বংস করে দেয়। এ সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কি? এ প্রশ্নের উত্তরেই আলোচ্য আয়াতটি নাযিল হয়। (www.iscabd.org)<br />
[আবু দাউদ : ৩৬৭০, তিরমিয়ী : ৩০৪৯, মুসনাদে আহমাদ : ১/৫৩]</p>
<p>এ হচ্ছে প্রথম আয়াত যা মুসলিমদেরকে মদ ও জুয়া থেকে দূরে রাখার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাযিল হয়েছে। আয়াতটিতে বলা হয়েছে যে, মদ ও জুয়াতে যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে কিছু উপকারিতা পরিলক্ষিত হয়, কিন্তু দুটির মাধ্যমেই অনেক বড় বড় পাপের পথ উন্মুক্ত হয়; যা এর উপকারিতার তুলনায় অনেক বড় ও ক্ষতিকর। পাপ অর্থে এখানে সেসব বিষয়ও বোঝানো হয়েছে, যা পাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, মদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় দোষ হচ্ছে এই যে, এতে মানুষের সবচাইতে বড় গুণ, বুদ্ধি-বিবেচনা বিলুপ্ত হয়ে যায়। কারণ, বুদ্ধি এমন একটি গুণ যা মানুষকে মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। পক্ষান্তরে যখন তা থাকে না, তখন প্রতিটি মন্দ কাজের পথই সুগম হয়ে যায়।<br />
[মা&#8217;আরিফুল কুরআন]</p>
<p>এটি মদ্যপান সম্পর্কিত প্রথম আয়াত। ইতোপূর্বে আরবে মদ্যপানের উন্মূক্ত রেওয়াজ ছিল। এ আয়াতে পরিস্কারভাবে মদকে হারাম করা হয়নি, কিন্তু এর অনিষ্ট ও অকল্যাণের দিকগুলোকে তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, মদ্যপানের দরুন মানুষ অনেক মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে। বলতে গেলে আয়াতটিতে মদ্যপান ত্যাগ করার জন্য এক প্রকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর কোন কোন সাহাবী এ পরামর্শ গ্রহণ করে তৎক্ষণাৎ মদ্যপান ত্যাগ করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেছেন, এ আয়াতে মদকে তো হারাম করা হয়নি, বরং এটা দ্বীনের পক্ষে ক্ষতির কাজে ধাবিত করে বিধায় একে পাপের কারণ বলে স্থির করা হয়েছে, যাতে ফেতনায় পড়তে না হয়, সে জন্য পূর্ব থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সূরার আন-নিসা এর ৪৩ নং আয়াতে মদপানের সময় সীমিত করা হয়। সবশেষে সূরা আল-মায়িদাহ এর ৯০ নং আয়াতের মাধ্যমে মদকে চিরতরে হারাম করা হয়। (www.icabdlibrary.com)</p>
<p>আয়াত :<br />
“সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে পার যা তোমরা বল এবং অপবিত্র অবস্থায়ও না”<br />
(আন নিসা : ৪৩)</p>
<p>এ আয়াত কেন নাজিল হলো ?<br />
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদ হারাম হওয়ার পূর্বে আমাদেরকে এক আনসার দাওয়াত দিল। দাওয়াত শেষে আব্দুর রহমান ইবন আউফ এগিয়ে গিয়ে মাগরিবের সালাতের ইমামতি করলেন। তিনি সূরা আল-কাফেরুন তেলাওয়াত করতে গিয়ে এলোমেলো করে ফেললেন। ফলে এ আয়াত নাযিল হয় যাতে মদ খাওয়ার পর বিবেকের সুস্থতা না ফেরা পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে। (www.facebook.com/iscabd91)<br />
[আল-আহাদীসুল মুখতারাহ : ৫৬৭, আবু দাউদ : ৩৬৭১; তিরমিযী : ৩০২৬]</p>
<p>আল্লাহ রাববুল আলামীন ইসলামী শরীআতকে একটি বৈশিষ্ট্য এই দান করেছেন যে, এর প্রতিটি বিধি-বিধানকে তিনি সরল ও সহজ করেছেন। তারই এক বিশেষ দিক হচ্ছে এই যে, আল্লাহ রাববুল আলামীন যাদের মন-মানসকে একান্ত নিষ্পাপ করে তৈরী করেছিলেন এমন বিশেষ বিশেষ কিছু লোক ছাড়া মদ্যপান ছিল সমগ্র আরববাসীর পুরাতন অভ্যাস। কিন্তু বিশেষ বিশেষ লোকেরা কখনো এই দুষ্ট বস্তুর ধারে কাছেও যেতেন না। যেমন, মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেও কখনো মদ স্পর্শ করেননি। এছাড়া বলতে গেলে সমগ্র জাতিই ছিল এ বদ অভ্যাসে লিপ্ত। আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে, কোন বস্তু একবার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে মানুষের পক্ষে তা পরিহার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মদ্যপান কিংবা অন্যান্য নেশাজনিত অভ্যাস মানুষকে এমনভাবে কাবু করে বসে যে, তা থেকে বেরিয়ে আসাকে সে মৃত্যুর শামিল মনে করতে থাকে। আল্লাহ তা’আলার নিকট মদ্যপান ও নেশা করা ছিল হারাম। বিশেষতঃ ইসলাম গ্রহণ করার পর মুসলিমদেরকে এর অভিশাপ থেকে রক্ষা করা ছিল আল্লাহ তা’আলার অভিপ্রায়। কিন্তু সহসা একে হারাম করে দেয়া হলে, মানুষের পক্ষে এ নির্দেশ পালন করা একান্তই কঠিন হত। কাজেই প্রথমে এর উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল এবং এর অশুভ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্কীকরণের মাধ্যমে মানুষের মন-মস্তিস্ককে একে পরিহার করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হল। সুতরাং আলোচ্য আয়াতে শুধুমাত্র এ হুকুমই দেয়া হয়েছে যে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের ধারে কাছেও যেও না। যার মর্ম ছিল এই যে, সালাতের সময় সালাতের প্রতি মনোনিবেশ করা ফরয। এ সময় মদ্যপান করা যাবে না। এতে মুসলিমগণ উপলব্ধি করলেন যে, এটা এমন এক মন্দ বস্তু যা মানুষকে সালাতে বাধা দান করে। কাজেই দেখা গেল অনেকে এ নির্দেশ আসার সাথে সাথেই মদ্যপান পরিহার করলেন এবং অনেকে এর মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতে আরম্ভ করলেন। (www.twitter.com/iscabd91)</p>
<p>“হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”<br />
(আল মায়েদা-৯০)</p>
<p>এ আয়াত কেন নাজিল হলো ?<br />
আন নিসার ৪৩ নাম্বার আয়তে বিশেষভাবে সালাতের সময় মদ্যপানকে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য সময়ের জন্য অনুমতি রয়ে যায়। কিন্তু সূরা আল-মায়িদাহ এর আলোচ্য আয়াতের মাধ্যমে পরিস্কার ও কঠোরভাবে মদ্যপান নিষিদ্ধ ও হারাম করে দেয়া হয়েছে। [ইবন কাসীরা] এ বিষয়ে শরীআতের এমন পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ ছিল এই যে, আজীবনের অভ্যাস ত্যাগ করা বিশেষতঃ নেশাজনিত অভ্যাস হঠাৎ ত্যাগ করা মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর হত।</p>
<p>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ সম্পর্কে কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেছেন। এরশাদ হয়েছেঃ ‘সর্বপ্রকার অপকর্ম এবং অশ্লীলতার জন্মদাতা হচ্ছে মদ’।<br />
[ইবন মাজাহ-৩৩৭১]</p>
<p>কারণ, এটি পান করে মানুষ নিকৃষ্টতর পাপে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে। অপর এক হাদীসে বলা হয়েছে যে, ‘মদ এবং ঈমান একত্রিত হতে পারে না’। [নাসায়ী: ৩১৭]</p>
<p>আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণীর ব্যক্তির উপর লা’নত করেছেন। ‘[১] যে লোক নির্যাস বের করে, [২] প্রস্তুতকারক, [৩] পানকারী, [৪] যে পান করায়, [৫] আমদানীকারক, [৬] যার জন্য আমদানী করা হয়, (৭) বিক্রেতা, (৮) ক্রেতা, (৯) সরবরাহকারী এবং (১০) এর লভ্যাংশ ভোগকারী। (www.iscabd.org)<br />
[ইবন মাজাহ : ৩৩৮০]</p>
<p>আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন এক মজলিশে মদ্যপানে সাকীর কাজ সম্পাদন করছিলেন। আবু তালহা, আবু ওবায়দা ইবনুল জার্‌রাহ, উবাই ইবন কা&#8217;ব, সোহাইল রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমূখ নেতৃস্থানীয় সাহাবীগণ সে মজলিশে উপস্থিত ছিলেন। প্রচারকের ঘোষণা কানে পৌছার সঙ্গে সঙ্গে সবাই সমস্বরে বলে উঠলেন – এবার সমস্ত মদ ফেলে দাও। এর পেয়ালা, মটকা, হাড়ি ভেঙ্গে ফেল।<br />
[মুসনাদে আহমাদ ১৮১, বুখারী 8৬২০; মুসলিম: ১৯৮০</p>
<p>লেখক : মুহাম্মদ আবদুর রহমান রবিন, মুবাল্লিগ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম মহানগর</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://icabdlibrary.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a6-alcohol/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">3283</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>

<!--
Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: https://www.boldgrid.com/w3-total-cache/

Page Caching using disk: enhanced 

Served from: icabdlibrary.com @ ২০২৬-১০-২৯ ২১:২৯:৫৪ by W3 Total Cache
-->